x 
Empty Product

অন্যান্য ফসল চাষের চেয়ে গৌড়মতি আম চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় গৌড়মতি আমেই আর্থিক সচ্ছলতা স্বপ্ন দেখছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের মেড়েয়া গ্রামের কৃষক আবু রেজা প্রামানিক বাবলু (৫৫)।

 

এক সময় তরুণ বয়সে পারিবারিক অনাবাদি পতিত জমিতে আলু, পটল, বেগুন, আদা, রসুন, মরিচ ও শাকসবজি চাষ শুরু করেন।

 

এর মাধ্যমেই খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন সাংসারিক জীবনের সচ্ছলতা। কিন্তু এতে কোনো সুবিধা করতে না পারায় জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রাম নামে এক বিদেশি এনজিওতে চাকরিতে যোগ দেন। সেখানে ১৪ বছর চাকরি করার পর প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সংকট দেখা দিলে তিনি তা ছেড়ে দিয়ে আম, লিচুর বাগান গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করেন।

 

শুরুটা ছিল ২০০৭ সাল। পারিবারিক প্রায় ১২ একর জমির মধ্যে ৩-৪ একর জমিতে ধান চাষ করা সম্ভব হলেও বেশির ভাগ জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো।

২০০৭ সালে এসব জমিতে শাকসবজির পরিবর্তে প্রথম পর্যায়ে ১৭৫টি হাড়িভাঙ্গা আম ও ৪০০টি আম্রপালি আমের কলম রোপণ করেন। চারা রোপণের তিন-চার বছরের মাথায় এসব গাছ থেকে ফলন আসতে শুরু করে। বাজারে এসব আমের চাহিদা ও মূল্য দুটোই আবু রেজা প্রামানিক বাবুলকে আম চাষে উৎসাহিত করে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ২০১৬ সালে আম বাগানের আয়তন বাড়িয়ে সেখানে ১ হাজার ২শ’ উন্নতমানের গৌরমতি আম ও ১ হাজার ১০০ বারি চার জাতের আমের চারা রোপণ করেন।

 

 

 

২০১৮ সালে আম বাগান আরও সম্প্রসারিত করে ২০০ থাই জাতের কাটিমন গাছের চারা রোপণ করেন। এভাবে বাগানের আয়তন দাঁড়ায় ৯ একরে। তবে, এ বছরই প্রথম তার বাগানের ১ হাজার ২শ’ গৌড়মতি জাতের আম গাছের মধ্যে প্রায় ৩০০ গৌড়মতি ও ৪০০ বারি-৪ জাতের ভালো ফলন হয়। আমের এ দুটি জাতই নাবি জাতের।

 

বাজারে সব আমের সরবরাহ যখন শেষ। ঠিক তখন অর্থাৎ ভাদ্র মাসে এসব আম পাকতে শুরু করে। ফলে ভালো দামে এ দুটি জাতের আম বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হয়। এ দুটি জাতের মধ্যে বারি-৪ জাতের আম আকারে বড় ও মাংসল। দুই-তিনটি আমে এক কেজি হয়। মিষ্টতা কম হলেও আঁটি পাতলা।

 

অন্যদিকে, গৌড়মতি আম মিষ্টতা স্বাদের দিক থেকে অসাধারণ। আম দেখতে ল্যাংড়া আমের মতো হলেও আকারে বড় ও মিষ্টি অনেক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সকল আমের মৌসুম শেষ হওয়ার পর এটি বাজারে আসতে শুরু করে।

 

বারি-৪ জাতের প্রতি কেজি আম বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি গৌড়মতি আম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে গৌড়মতি আম বিক্রি করে ইতিমধ্যে হাতে ভালো পয়সা আসায় গোটা আম বাগানটি কে গৌড়মতি আম বাগানে রূপান্তরের চিন্তা ভাবনা করছেন বলে জানান আম চাষি আবু রেজা প্রামানিক বাবুল (৫৫)।

 

তিনি বলেন, বাগান প্রতিষ্ঠায় এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সাদিকুল ইসলাম, ফারুক হোসেন ও বাবলু নামে তিন শ্রমিক প্রতিদিন বাগান পরিচর্যার কাজ করছেন। এমনিতেই গৌড়মতি আমের চাহিদা যথেষ্ট সন্তোষজনক। তা সত্ত্বেও এ বাগানের আমের চাহিদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আম উৎপাদনে কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না।

 

এ ছাড়া ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ ও জৈব সার ব্যবহার করায় এ বাগানের আমের বিশেষ চাহিদা রয়েছে।

 

এ বাগানের গৌড়মতি আমের একটি বড় চালান গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ইতিমধ্যে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা, বি-বাড়িয়া, পঞ্চগড়, রংপুর, বগুড়া ও খুলনায় পাঠানো হয়েছে।

 

পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান বলেন, আবু রেজা প্রামানিক বাবলুর গৌড়মতি আম বাগানের পরিচর্যা ও ফলন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান ও সহযোগিতা কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস।

 

দেশের বিভিন্ন স্থানের গ্রাহকদের কাছে পার্বতীপুরে উৎপাদিত গৌড়মতি আমের চাহিদা থাকায় আম চাষি আবু রেজা বাবলু’র আম চাষ সাফল্য ও সচ্ছলতা বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.deshrupantor.com/mofossol/2020/08/31/242337

নওগাঁর সাপাহারায় সৈয়দপুর গ্রামে রাতের আধারে দুর্বৃত্ত কর্তৃক বিন্নামারা বিষ প্রয়োগ করে এক কৃষকের ২ বিঘা জমির নার্সারীর ১৫ হাজার আমের চারা ও আম গাছ বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।   জানা গেছে, উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের আতাউর রহমান (৪৫) নামের এক কৃষক ২বিঘা জমিতে আম বাগান ও নার্সারী তৈরি করে আম গাছ রোপণ করেন এবং নার্সারীতে আমের বীজ রোপন করেন।

হঠাৎ গত ১ সেপ্টেম্বর রাতের আধারে কে বা কাহারা আম বাগানে ও নার্সারীতে প্রবেশ করে বিন্নামারা বিষ প্রয়োগ করে বাগানের ও নার্সারীর প্রায় সকল গাছ পুড়ে দিয়েছে। 

এতে করে নার্সারীর প্রায় ১৫ হাজার গাছ নষ্ট হয়েছে বলে বাগান মালিক আতাউর রহমান জানান এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানান তিনি। 

এলাকাবাসী এমরান আলী জানান, বিষয়টি শুনতে পেরে আমি আতাউর রহমানের বাগানে গিয়ে দেখি প্রায় গাছ লালচে ও পুড়ে গেছে।  উপজেলায় একের পর এক বাগানের গাছ দুর্বৃত্ত কর্তৃক নষ্ট করলে এলাকাবাসী আম বাগান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে তাই দ্রুত জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।

 

পাহাড়ি এলাকায় মিশ্র ফলের বাগান দিনে দিনেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পতিত জমিতে দেশীয় প্রচলিত ফলফলাদির পাশাপাশি অপ্রচলিত বিভিন্ন ফলের চাষাবাদ করে বাণিজ্যিকভাবেও সফল হচ্ছেন অনেকে। সেই পথে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন খাগড়াছড়ির হ্লাচিংমং চৌধুরী। বিচিত্র ও বিলীনপ্রায় বহু প্রজাতির ফলফলাদির গাছের সমাহার ঘটিয়েছেন তার বাগানে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তার বাগানটি গোটা দেশের অনুকরণীয় মিশ্র ফল বাগান হবে। তার বাগানের প্রধানতম আকর্ষণ হলো, এখানে ৭০ প্রজাতির আম গাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর এ বাগানের নাম রেখেছেন মারমা ভাষায়- ক্রা এ এ অ্যাগ্রো ফার্ম।

পাহাড়ি জেলার খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া হ্লাচিংমং চৌধুরী অনেকের মত চাকরির পেছন পেছন ঘুরে বেড়াননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে মিশ্র ফলবাগানের প্রতি মনোনিবেশ করেন। শুরুর দিকে অনেকটা শখের বশেই পাহাড়ি জমি পরিস্কার করে ফলজ বাগান গড়ে তোলেন তিনি। প্রতিবছর ফল বিক্রির লাভের টাকায় বাগান সম্প্রসারণ করেন।

বর্তমানে তার বাগানের ১০ একর পাহাড়ি ভূমিতে প্রচলিত ফল আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারসের পাশাপাশি অপ্রচলিত ফল লটকন, মাল্টা, আতা, জামরুল প্রভৃতি ফল শোভা পাচ্ছে। এছাড়াও ড্রাগন, ফ্যাশন, রামবুটান, চেরিফল ছাড়াও কলাবতী, মিয়াজাকি, কিউজাই ও রেডলেডির মত বিদেশি আমের গন্ধে মৌ মৌ করছে বাগানটি। এ সময়েও তার বাগানে বিভিন্ন জাতের কিছু আম শোভা পাচ্ছে ।

বিশেষ জাতের আম ‘আম্রপালি’ ছাড়াও তার বাগানেই একমাত্র দেশি-বিদেশি ৭০ প্রজাতির আম গাছ সংরক্ষণ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এজন্য এ বাগানকে জার্মপ্লাজম সেন্টার গড়ে তোলার আশা করছেন তিনি।

এ বাগানের সত্ত্বাধিকারী হ্লাচিংমং চৌধুরী জানান, বাগানে বিচিত্র ও বিলুপ্তপ্রায় বহু প্রজাতির ফলফলাদির সমাহার ঘটানো হয়েছে। এসব ফলফলাদি বিক্রি করে গতবছরের মত এবারও ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন।

শুধু মধুমাস জ্যেষ্ঠ নয় বছরের বারোমাস জুড়েই কোন না কোন দেশি-বিদেশি ফল পাওয়া যায় এ বাগানে। কেবল ফলজ বাগানই নয় বনজ ও ঔষধী গাছও দৃষ্টি কাড়ছে সবার। বাগানটি এখন পার্বত্যাঞ্চলের পরিচিত নাম। অনেক পর্যটক ছুটে আসছেন এ বাগান দেখতে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মর্তুজ আলী জানান, নিজের প্রচেষ্টা এবং নিষ্ঠার কারণেই হ্লাশিংমং তার বাগানকে দেখার মত করে গড়ে তুলতে পেরেছেন। গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের মিশ্র ফলবাগান হিসেবে এটিকে দেশের মডেল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুন্সী রাশীদ আহমদ জানান, বিলীন ও হুমকির মুখে থাকা প্রায় সব ধরনের ফলের জাত সংরক্ষণ করায় এই মিশ্র বাগানটি জার্মপ্লাজম সেন্টার হিসেবে একদিন গড়ে উঠবে বলে আশাবাদী কৃষি বিজ্ঞানীরাও।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.somoynews.tv

ত্রাণের সঙ্গে আম, লিচুসহ দেশীয় ফল দেওয়ার অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

 

 

শনিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা সম্মেলন কক্ষ থেকে করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে আমের ভাল দাম না পাওয়ায় রাজশাহীতে আম চাষ কমে যাচ্ছে। আমে ফরমালিন বা ক্ষতিকর কিছু নেই মর্মে জনগণকে সচেতন ও আশ্বস্ত করতে হবে। ত্রাণ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল অন্তর্ভূক্ত করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিকট অনুরোধ জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

 

ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে সকল গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পরামর্শও দেন তিনি।

 

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক সভায় সভাপতিত্ব করেন।

এসময় কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ,এবং জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নাসিরুজ্জামান।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.risingbd.com

জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী ১৫ মে (শুক্রবার) থেকেই গুটি জাতের আম নামানোর কথা ছিলো। তবে প্রথম দিনে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বাগানগুলোতে আম নামানোর খবর পাওয়া যায়নি।

তবে আম না নামানোর বিষয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, করেনা আতঙ্কে মানুষই বের হতে পারছে না, সেখানে আম পেড়ে বিক্রি করবো কোথায়। অন্য দিকে গুটি জাতের আম এথনো পরিপক্কতা আসেনি বলে দাবি উপজেলায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুটি আমের কেবল আঁটি হয়েছে। পরিপক্বতা আসেনি এখনো। তাই চাষিরা আম নামাচ্ছেন না। করোনা সংকটকালে বাজার না পাওয়ার আশঙ্কায় চাষিদের তড়িঘড়ি আম নামানোরও ব্যস্ততা নেই। অথচ আগের বছরগুলোতে চাষিরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করতেন। বাগানে বাগানে শুরু হতো আম নামানোর উৎসব।

উপজেলার কালুহাটি এলাকার চাষি বাহাদুর রহমান বলেন, আমার গুটি আম খুব বেশি নেই। প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী এখন গুটি আম পাড়া যাবে। তবে আম এখনও পাড়ার মতো হয়নি। গুটি আম আরও অন্তত ১০-১৫ দিন পর নামানো হলে আমের পরিপক্বতা আসবে।

তিনি বলেন, এবার বাজারের যে অবস্থা তাতে আম কখন নামালে ঠিক হবে সেটাও বুঝতে পারছি না। আবার এবার আম পাড়ার সময়টাও ঠিকমতো নির্ধারণ হয়নি। আম পাড়ার সময় কিছুটা আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনজুর রহমান বলেন, কৃষিপণ্য লকডাউনের বাইরে। তাই বাজারজাত করতে সমস্যা হবে না। গাছে যখন আম পাকবে তখনই চাষিরা বাজারে নিতে পারবেন।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা সামিরা বলেন, আম পরিপক্বতা না হলে আম নামাবেন না চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তবে আমে ক্যামিকেলের মিশ্রণ ঘটিয়ে কেউ অপরিপক্ব আম নামানোর চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গ শুক্রবার (১৫ মে) থেকে গুটি আম পাড়ার সময় শুরু হয়েছে। আগামী ২০ মে থেকে গোপালভোগ নামাতে পারবেন চাষিরা। এছাড়া রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ বা লখনা ২৫ মে, হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামবে আশ্বিনা এবং বারী আম-৪ জাতের আম। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন এই সময় নির্ধারণ করে দেয়।


এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://bn.observerbd.com/

সাতক্ষীরার বাজারে পাকা আম উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু করোনার প্রভাবে ক্রেতা যেমন কম, তেমনি দামও। ফলে দুঃশ্চিন্তা ভর করেছে আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে। আর রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিষমুক্ত আম উৎপাদনকারী বাগান মালিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

কৃষি বিভাগ বলছে, আম ব্যবসা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য জেলার বাইরে বিক্রি ও পরিবহনের ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।

সাতক্ষীরার সদর, তালা, কলারোয়া দেবহাটা উপজেলায় সর্বাধিক আমের বাগান রয়েছে। এরমধ্যে ১শ হেক্টর জমিতে রপ্তানিযোগ্য বিষমুক্ত নিরাপদ আম চাষ করা হয়েছে। এবার পর্যাপ্ত মুকুল আসলেও আশানুরুপ ফলন হয়নি।বিদেশে রপ্তানির কথা থাকলেও করোনার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি উৎপাদিত আমের দরও কমে গেছে। এ অবস্হায় চরম দুঃশ্চিন্তায় বাগান মালিকরা।

সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তা রঘুজিত কুমার গুহ বলছেন, আম রফতানি করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাগান মালিকরা।
করোনার প্রভাবে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়বে বলে মনে করেন সাতক্ষীরা কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতি সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী।

তবে আম বাগান মালিকদের আতংকের কথা স্বীকার করে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, জেলার বাইরে আম পাঠাতে পরিবহনের ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।

জেলার ৪ হাজার হেক্টর জমিতে ৫ হাজারের বেশি বাগানে এবার ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা কৃষি বিভাগের।

 

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.somoynews.tv

পৃথিবীতে অদ্ভুত অদ্ভুত সব কতই না ঘটনার কথা শোনা গেছে ইতোপূর্বে। অদ্ভুত জিনিসের প্রতি মানুষেরও আগ্রহ চিরকালের। তেমনি এবার মুরগি ‘আম’ আকৃতির ডিম পাড়ার মত এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে আমাদের দেশেই।

অদ্ভুত এ ঘটনাটি ঘটেছে বান্দরবানের লামা পৌরসভা এলাকার চাম্পাতলী পাড়ারের বাসিন্দা ও উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মহসিন রেজার ঘরে।

 

এলাকার উৎসুক জনতা মুরগির এই আমের মতো পারা ডিম দেখতে গত দুদিন ধরে ভিড় জমাচ্ছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বাড়িতে। প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য, ইতোপূর্বে এরকম আকৃতির ডিম তারা দেখেননি।

মুরগির মালিক মহসিন রেজা জানান, ডিম পাড়া কালো রংয়ের মুরগিটির বয়স এক বছর। প্রথমদিকে মুরগিটি স্বাভাবিক আকৃতির ডিম পারতো। কিন্তু গত তিনদিন মুরগিটি ঠিক আমের আকৃতির ডিম পাড়ছে। তবে ডিমের ভেতর কুসুম অন্য ডিমের মতোই স্বাভাবিক।

‘‘মুরগিটি এ পর্যন্ত ৩টি ডিম পেরেছে আমের আকৃতির। আম আকৃতির ডিম পাড়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এক নজর ডিমটি দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়রা।’’

তিনি আরো বলেন, আম আকৃতির ডিম পাড়ার বিষয়টি প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। অদ্ভুত আকৃতির ডিমগুলো গবেষণার জন্য ঢাকায় প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জেলার লামা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ ইসহাক আলী বলেন, এ রকম ঘটনা খুবই কম। তবে মুরগির খাবারে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কম হলে বা ডিম পাড়ার আগ মুহূর্তে কোনো সমস্যা হলে এমন ডিম পাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া অন্য সমস্যার কারণেও এ রকম হতে পারে।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.newsg24.com

নিরাপদ, বালাইমুক্ত আম উৎপাদন করেও গেল বছর বিদেশে রপ্তানি করতে পারেননি রাজশাহীর বেশিরভাগ চাষি। কোয়ারেন্টাইন পরীক্ষার কড়াকড়িতে তার আগের বছর আম পাঠানো সম্ভব হয়েছিল খুব সামান্যই। বিদেশের বাজার ধরতে চলতি বছরেও বেশ কয়েকজন চাষি ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উৎপাদন করছেন। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অনিশ্চিত বিদেশে আম পাঠানো।

 

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, এবার বিমান বন্ধ। আম রপ্তানির কী যে হবে তা বুঝতে পারছি না! বিদেশে আম রপ্তানি করতে চান, এমন কোনো ব্যবসায়ী এ পর্যন্ত আমাদের সাথে যোগাযোগ করেননি। তবে আমরা আমাদের প্রস্তুতি রাখছি। বেশ কয়েকজন চাষি উন্নত প্রযুক্তিতে আম উৎপাদন করছেন। পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা আর ক’দিন পর বোঝা যাবে।

 

বিদেশে রপ্তানির জন্য জেলায় এবার এক লাখ ১৫ হাজার আম ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া এলাকায় শফিকুল ইসলাম সানা নামের এক চাষি ১০ হাজার আমে ব্যাগিং করেছেন। পবার হরিপুর, কসবা এবং রাজশাহী মহানগরীর জিন্নানগরেও কিছু আম ব্যাগিং করা হয়েছে। কিন্তু চাষিরা রয়েছেন অনিশ্চয়তায়। তাই অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বেশি পরিমাণ আমে ব্যাগিং করার সাহস পাচ্ছেন না তারা।

 

জিন্নানগরে ১০ হাজার খিরসাপাত ও ল্যাংড়া আমে ব্যাগিং করেছেন রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত রপ্তানিকারক কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের সাথে যোগাযোগ করেননি। তারপরেও উন্নত প্রযুক্তিতে নিরাপদ ও বালাইমুক্ত কিছু আম উৎপাদন করছি। বিদেশে পাঠাতে না পারলেও দেশেই যদি ঠিকমতো আম বাজারজাত করা যায় তাহলে হয়তো লোকসান হবে না। সে আশাতেই করছি। জানি না কী হবে!

 

গত বছর ৪০ হাজার আমে ব্যাগিং করেছিলেন আনোয়ারুল হক। বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার কানবার হোসেন বর আনোয়ারুলের বাগানে যান। নিজ হাতে আম পেড়ে খান। বলেছিলেন, রাজশাহীর আম খুব সুস্বাদু। স্বাস্থ্যসম্মত। কিন্তু আনোয়ারুল বিদেশে আম পাঠাতে পারেননি। বাধ্য হয়ে দেশের বাজারেই ব্যাগিং করা ৪০ হাজার আম ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন তিনি।

 

আনোয়ারুল বলেন, সর্বশেষ ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ঠিকমতো আম ইউরোপের বাজারে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ঢাকায় প্ল্যান কোয়ারেন্টাইন উইং সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউসে কোয়ারেন্টাইনের নামে খুব কড়াকড়ি শুরু হয়। সামান্য দাগ থাকলেই আম বাদ দেয়া শুরু হয়। ফলে তারা আম পাঠাতে পারেননি। এবারও করোনার কারণে হয়তো পারবেন না।

 

আশার বাণী শোনাতে পারেনি কৃষি বিভাগও। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, গতবার তো ৩৬ মেট্রিক টন আম পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। এবার কি হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে চাষিরা ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করছেন। আম নামানোর দুই মাসে আমে ব্যাগ পরাতে হয়। এক মাস আগে কিছু খিরসাপাতে ব্যাগিং করা হয়েছে। কিছু দিন পর ল্যাংড়া, ফজলি ও আশি^নায় ব্যাগিং করা হবে।

 

রাজশাহী জেলায় আম বাগান রয়েছে ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। অপরিপক্ব আম নামানো ঠেকাতে গেল কয়েক বছরের মতো এবারও আম নামানোর সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 

সে অনুযায়ী গাছে পাকলেই শুক্রবার (১৫ মে) থেকে সব ধরনের গুটি আম নামানোর সময় শুরু হয়েছে। কিন্তু চাষিদের গাছে এবার আম পাকেনি। কেবল আঁটি এসেছে। আরও অন্তত দুই সপ্তাহ লাগবে পরিপক্ক হতে। তাই এখনই আম ভাঙছেন না রাজশাহীর চাষিরা। বাজারেও নেই আম।

 

বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী, আগামী ২০ মে থেকে গোপালভোগ নামাতে পারবেন চাষিরা। এছাড়া রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ বা লখনা ২৫ মে, হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামবে আশ্বিনা এবং বারী আম-৪ জাতের আাম।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.dhakatimes24.com

বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের শাকসবজি ও মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারছে না। বড় শহরের বাজারে ক্রেতার আগমন প্রায় না থাকায় ও জনগণের আয় হ্রাস পাওয়ার কারণে বাজারে কৃষিপণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, ফলে পাইকার ও আড়তদাররা কৃষিপণ্য ক্রয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে।

 

কৃষিপণ্য পরিবহন শেষে ট্রাক খালি ফেরার আশঙ্কায় ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এ সকল কারণে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে বেশির ভাগ উৎপাদিত ফল ও সবজি। এমন পরিস্থিতিতে আম লিচু বাজারজাত করতে নানান উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে কৃষিপণ্যের বিপণন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

কৃষিমন্ত্রী শনিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

 

এ সভায় কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্‌মুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহ্‌রিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনা‌ইদ আহ্‌মেদ পলক, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, চাঁপাই নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ এবং জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নাসিরুজ্জামান।

 

কৃষিমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে তরমুজ চাষিরা উৎপাদিত তরমুজের অধিকাংশই বিক্রি করতে পারেনি। যা বিক্রি করেছে তার ভালো দামও পায়নি। ইতোমধ্যে আম, লিচু, আনারস, কাঁঠালসহ মৌসুমি ফল বাজারে আসতে শুরু করেছে। এসব মৌসুমি ফল সঠিকভাবে বাজারজাত না করা গেলে চাষিরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

আবার, দেশের অধিকাংশ মানুষ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর মৌসুমি ফল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। অথচ এই সময়ে করোনা মোকাবেলায় দৈহিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৌসুমি পুষ্টিকর ফল গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

 

সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রাকের জ্বালানির ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেয়া যেতে পারে যাতে ট্রাকের ভাড়া কম হয়। পুলিশ ব্যারাক, সেনাবাহিনীর ব্যারাক, হাসপাতাল, জেলখানাসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে কৃষকের কাছ থেকে আম কিনে সরবরাহ করা গেলে আমের বাজারজাতকরণে কোন সমস্যা হবে না বলেও তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এই সংকটের সময়ে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

 

খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ফড়িয়ারাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিচয় পত্র ইস্যু এবং ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়াতে হবে। এই মধু মাসে বিদেশি ফল যেমন আপেল, আঙ্গুর প্রভৃতি আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

 

করোনার সময়ে সকল ধরনের কার্গো লঞ্চ চালু আছে জানিয়ে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্‌মুদ চৌধুরী বলেন, শুধু আম-লিচু নয়, সব মৌসুমি ফলের বাজারজাতকরণে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করে আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে হবে, তা নাহলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহ্‌রিয়ার আলম বলেন, গত কয়েক বছরে আমের ভালো দাম না পাওয়ায় রাজশাহীতে আম চাষ কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিচয়পত্র ইস্যু, তাদের যাতায়াতে হয়রানি কমানো, ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়ানো, এবং বিশেষ করে আমে ফরমালিন বা ক্ষতিকর কিছু নেই মর্মে জনগণকে সচেতন ও আশ্বস্ত করতে হবে বলে তিনি জানান। ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে সকল গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পরামর্শও প্রদান করেন তিনি।

 

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে প্রযুক্তি নির্ভর ‘এক শপ’ অ্যাপস চালু করা হবে যার মাধ্যমে সারা দেশের চাষিরা পণ্য বেচাকেনা করতে পারবে। এর মাধ্যমে চাষিদের পণ্য এনে মেগাশপের পাশাপাশি ডোর টু ডোর গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়া যাবে।

 

ড. আতিউর রহমান বলেন, স্থানীয় মার্কেটে আমের চাহিদা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষিখাতে অতিরিক্ত বাজেটের প্রয়োজন হলে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, এই সংকটের সময় তারা পাশে থেকে কাজ করবে। আম-লিচু পরিবহণের কোন সংকট হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

 

কৃষিমন্ত্রী জানান, আজকের সভায় পাওয়া সুপারিশ অনুযায়ী:

 

১. হাওরে ধান কাটা শ্রমিকদের যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠানো হয়েছে, তেমনি অন্যান্য জেলা হতে ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ফড়িয়ারাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা, প্রয়োজনে তাদেরকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রত্যয়নপত্র প্রদান ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নেয়া।
২. মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনের অবাধে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা, পরিবহণের সময় যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মাধ্যমে কোনরূপ হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যবস্থা করা।
৩. বিআরটিসির ট্রাক ব্যবহারে উদ্যোগ নেয়া।
৪. স্থানীয়ভাবে ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়ানো,
৫. পার্সেল ট্রেনে মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহণের আওতা বাড়ানো, হিমায়িত ওয়াগন ব্যবহার করা যায় কিনা সেদিকে নজর দেয়া
৬. ফিরতি ট্রাকের বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল হ্রাস করা
৭. ত্রাণ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল অন্তর্ভূক্ত করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিকট অনুরোধ জানানো।
৮. অনলাইনে এবং ভ্যানযোগে ছোট ছোট পরিসরে কেনাবেচার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা
৯. প্রাণ, একমি,  ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যারা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে জুস, ম্যাঙ্গোবার, আচার, চাটনি প্রভৃতি তৈরি করে, তাদেরকে এবছর বেশি বেশি আম-লিচু কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা এ বছর বেশি করে আম কিনবেন বলে জানিয়েছেন।
১০. মৌসুমি ফলে যেন কেমিক্যাল ব্যবহার করা না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করাসহ‌ সুপারিশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

 

সভায় জানানো হয়, এ বছর ১ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২২ লক্ষ ৩২ হাজার মেট্রিকটন। রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, নাটোর, গাজীপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে অধিকাংশ আমের ফলন হয়।

 

লিচুর আবাদ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন। অধিকাংশ লিচুর ফলন হয় রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, গাজীপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলায়। কাঁঠালের আবাদ হয়েছে ৭১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ও সম্ভাব্য উৎপাদন ১৮ লাখ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন। টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও রাঙ্গামাটিতে সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল উৎপাদন হয়। অন্যদিকে, আনারসের আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ও সম্ভাব্য উৎপাদন ৪ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন। আনারসের সিংহভাগ উৎপাদন হয় টাঙ্গাইলে।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.channelionline.com

আবহাওয়া ভালো থাকায় পাহাড়ে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রায় ৮০০ কোটি টাকার আম। তবে শেষ পর্যন্ত এই আম বাজারে পৌঁছানো যায় কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ। আমবাগানের মালিকদের পাশাপাশি ছোটখাটো বাগানের চাষিদের মাঝেও এখন অনিশ্চয়তা।
বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আম পাকতে শুরু করবে। তবে করোনার অভিঘাতে বাজার ব্যবস্থাপনায় সংকট হলে চাষিদের কপালে দুঃখ আছে। কোটি কোটি টাকার ফলন নষ্ট হয়ে যাবে। তাই গাছের আম যথাযথভাবে বাজারে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির পাহাড়ে আমের প্রচুর ফলন হয়। একসময় সনাতন পদ্ধতিতে আম চাষে ফলন বেশি পাওয়া যেত না। পরবর্তীতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষাবাদ শুরু হয়। এতে ফলন বেড়ে যায়। কয়েক বছর ধরে পাহাড়ে বৈজ্ঞানিকভাবে আম চাষ হচ্ছে। হাজার হাজার হেক্টর পাহাড়ে চলছে আমের উৎপাদন। আমবাগানের পাশাপাশি আনারস, লেবু, লিচুসহ নানা ফলে মধুফলের ভান্ডার হয়ে উঠছে পাহাড়।
কিন্তু এসব ফল বাজারজাতে এবার সংকট তৈরি হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে আম বিক্রির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা কতটুকু করা যাবে তা নিয়ে সংশয়ে সংশ্লিষ্টরা। বড় বড় বাগান কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা আছে এমন বাগান মালিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ নিলেও ছোটখাটো মালিকরা আছেন শঙ্কায়। বর্তমানে তীব্র গরম পড়ছে। ফল পাকবে। কিন্তু এই ফল কীভাবে বিক্রি করবেন, ন্যাষ্য দাম পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগে তারা। পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে পাহাড়ের নানা স্থানে আম্রপালি, রাংগোয়াই (মিয়ানমারের জাত), থাই এবং স্থানীয় জাতের আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাহাড়ে সবচেয়ে বেশি আমবাগান রয়েছে বান্দরবানে। বান্দরবান সদর, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি এই চার উপজেলায় আমের বাগান বেশি। এ জেলায় মোট ৭৪০০ হেক্টর পাহাড়ে আমবাগান রয়েছে। গত বছর এসব বাগান থেকে ৭৩ হাজার টন আমের ফলন হয়েছিল। এবার ৯০ হাজার টন আম পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হক।
বান্দরবানের নানা স্থানে বড় বড় আমবাগানের পাশাপাশি ছোট ছোট অনেক বাগান রয়েছে। যেখানে দুই-চার টন ফলন হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের বড় বড় বেশ কিছু বাগানের পাশাপাশি উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশও বাগানের সাথে জড়িত। আগে জুমচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এমন উপজাতীয়রা এখন আমবাগান করেন। সদর উপজেলায় বম ও মারমা, থানছি উপজেলায় মারমা এবং রোয়াংছড়ি উপজেলায় মারমা ও তংচ্যংঙ্গা সমপ্রদায় আম চাষ করছেন।
রাঙামাটির পাহাড়েও প্রচুর আমের বাগান রয়েছে। এখানে সাধারণত আম্রপালি এবং রাঙ্গুলী আমের চাষ হয়। রাঙামাটির বিলাইছড়ি, মগবান, বালুখালি, কুতুকছড়ি, জিপতলী, সাপছড়ি, বাঘাইছড়ি, লংগদু, জুরাইছড়ি ও বরকল এলাকায় আমের বাগান আছে।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা দৈনিক আজাদীকে জানান, রাঙামাটিতে ৩৩৭০ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এসব বাগানে এবার প্রচুর ফলন হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন বেড়েছে। এবার অন্তত ৩৫ হাজার টন আম পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
খাগড়াছড়িতেও প্রচুর আমবাগান রয়েছে। খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুঃ মুর্ত্তুজ আলী আজাদীকে বলেন, খাগড়াছড়িতে এবার আমের দারুণ ফলন হয়েছে। এলাকার ৩২৪৪ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে এবার ২৯ হাজার ১৯৬ টন আম পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে আমরা ৩০ হাজার টন আম পাব বলে আশা করছি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আমচাষে অল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায়। ২/৩ বছর বয়স থেকে আমের ফলন শুরু হয়। দীর্ঘসময় পর্যন্ত টানা ফলন পাওয়া যায়। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি আমচাষের জন্য উপযোগী। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নানা জাতের আমের চাষ করায় প্রতিটি বাগান এখন অতীতের তুলনায় সমৃদ্ধ। বিষমুক্ত আমের চাষ হচ্ছে পাহাড়ে-পাহাড়ে। আগামী সপ্তাহ থেকে আম আসতে শুরু করলেও ১৫ জুন থেকে পুরোদমে আম বাজারে আসতে শুরু করবে বলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান। তারা বলেন, এখন প্রচুর কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বেপারিরা কাঁচা আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি কেজি দশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যেসব আম ঝড়ে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে সেসব আম কাঁচা বিক্রি করা হলেও গাছে গাছে থোকায় থোকায় আম ঝুলছে। যেগুলো দিন কয়েকের মধ্যে পাকলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের নানা স্থানে বিক্রি করা হবে। দেশের আমের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম যোগান দেয়।
কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, বান্দরবানে ৯০ হাজার টন, রাঙামাটিতে ৩৫ হাজার টন এবং খাগড়াছড়ির বাগান থেকে ৩০ হাজার টন মিলে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন আম পাওয়া যাবে। প্রতি কেজি পঞ্চাশ টাকা করে হলেও এই আমের দাম প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। তবে এবার করোনা পরিস্থিতিতে বিশাল এই বাজারের কী অবস্থা হবে তা নিয়ে শঙ্কায় কর্মকর্তারা।
এদিকে কয়েকজন বাগান মালিক গতকাল আজাদীকে বলেন, গতবারের চেয়ে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আম ঠিকভাবে বাজারে পৌঁছানোর ওপর তাদের ভাগ্য নির্ভর করছে। তারা বলেন, চট্টগ্রাম থেকে বেপারিরা গিয়ে আম কিনে নেন। তবে এবার বেপারিরা ঠিকভাবে যেতে পারছেন কিনা বা পরিবহন কীভাবে করবেন, বাজারে ক্রেতা থাকবে কিনা, এসব বিষয়ের ওপর পাহাড়ের হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য নির্ভর করছে।
একাধিক আমবাগানের মালিক আজাদীকে বলেছেন, পাহাড়জুড়ে আমসহ নানা ফলের সম্ভাবনা। অথচ বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে চাষিরা প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। তারা পাহাড়ে হিমাঘার নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আম পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও কামনা করেন।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://dainikazadi.net

করোনার কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় আম বাজারজাত করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের আম চাষিরা। গাড়ি বন্ধ ও লকডাউন থাকায় পাইকারও আসতে না পারছেন না। আবার দু-একজন যা-ও আসছেন তাতে দাম মিলছে না। ফলে আমের বাগান বিক্রি করতে না পারায় উৎপাদন খরচ ওঠানো নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন চাষিরা। এছাড়া চলতি মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমের ফলন খানিকটা কম হয়েছে। সব মিলিয়ে অনেক চাষি হতাশ হয়ে আমের পরিচর্যাই ছেড়ে দিয়েছেন।

 

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরেই এ অঞ্চলে নবাবগঞ্জে সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয়। হিমসাগর, ল্যাংড়া, হাড়িভাঙ্গা, আম্র্রপালি, আশ্বিনাসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষাবাদ হয় এখানে। স্বাদ ও চাহিদা ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আম সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

নবাবগঞ্জ আম চাষি সমিতির সাবেক সভাপতি জিল্লুর রহমান ও আমি চাষি শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে যেসব আম উৎপাদন হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয় হিমসাগর জাতের আম। এটা খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বেশ চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও মানুষকে নিরাপদ আম খাওয়ানোর ও বিদেশে রফতানির জন্য এখানে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষাবাদ করা হয়। এবারে করোনাভাইরাসের কারণে এখন পর্যন্ত তেমন কোনও পাইকার না আসায় আমের বাগানগুলো অবিক্রিত রয়ে গেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমের ফলনও কিছুটা কম হয়েছে। তবে যেটুকু আম হয়েছে তাও বাজারজাত করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। এছাড়াও চেষ্টা করেও বিদেশে আম রফতানি করা যাচ্ছে না। এ কারণে অনেক আম চাষি হতাশ হয়ে আমের পরিচর্যাই ছেড়ে দিয়েছেন। যে দু-একজন পাইকার বাগান কিনতে আসছেন তারাও বাজারজাত করা নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে বাগান না কিনে ঘুরে  চলে যাচ্ছেন।

আম বাগান কিনেছিলেন শেরেগুল ইসলাম ও মজিবর রহমান। তারা বলেন, বেশ কিছু আম বাগান কিনেছি। কিন্তু করোনার কারণে আমের বাজার কী হবে, বাজারজাত করতে পারবো কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমি আম বাগান নিয়েছি। কিন্তু লকডাউনের কারণে যেতে দিচ্ছে না পুলিশ। বাগানে ওষুধ ছিটাতেও যেতে পারছি না। কোনোরকমে আমরা আমবাগানের পরিচর্যা করছি। তবে সামনের দিনে আমের কী হবে সেটা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছি। প্রশাসন আম বাজারজাতকরণে একটু ছাড় দিলে আমরা একটু উপকৃত হবো। ভালো দাম পাবো বলে আশা করছি।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৮০৫ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। যা থেকে এবারে ২৪ হাজার ১৫০ টন আম উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমের অবস্থা ভালো রয়েছে। যদি কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে আশা করি ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত গাছে যে আম আছে তাতে করে আশা করছি বাম্পার ফলন হবে। করোনা পরিস্থিতি একটু ভালো হলে চাষিরা তাদের উৎপাদিত আম বাজারজাত করতে পারবে ও ভালো দাম পাবে। বিদেশে আম রফতানির ব্যাপারে গতবছর ওয়ালমার্টের সঙ্গে আলোচনা করে কিছু পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। এবারে করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রথমদিকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু এই অবস্থার কারণে এখন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করতে পারি নাই।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.banglatribune.com

করোনা পরিস্থিতিতে আম, লিচুসহ মৌসুমী ফল এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) মতবিনিময় সভায় বক্তারা ১০ দফা সুপারিশ করেছেন। শনিবার (১৬ মে) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে বাজারজাতকরণ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এই সভা হয়।

 

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন  এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

১০ দফা সুপারিশ হচ্ছে -

১. হাওরে ধান কাটা শ্রমিকদের যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠানো হয়েছে, তেমনি অন্যান্য জেলা থেকে ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ফড়িয়াদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা। প্রয়োজনে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রত্যয়নপত্র প্রদান ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া।

২.  মৌসুমী ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনের অবাধ যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা, পরিবহণের সময় যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর  মাধ্যমে কোনও ধরনের হয়রানি করা না হয় সে ব্যবস্থা করা।  

৩. বিআরটিসির ট্রাক ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া।

৪. স্থানীয়ভাবে ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়ানো।

৫. পার্সেল ট্রেনে মৌসুমী ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহণের আওতা বাড়ানো, হিমায়িত ওয়াগন ব্যহার করা যায় কিনা তা নিশ্চিত করা।

৬. ফিরতি ট্রাকের বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল হার কমানো।

৭. ত্রাণ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে আম, লিচুসহ মৌসুমী ফল অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো।

৮. অনলাইনে ও ভ্যানে ছোট ছোট পরিসরে কেনাবেচার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৯. প্রাণ, একমি, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যারা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে জুস, ম্যাঙ্গোবার,আচার, চাটনি প্রভৃতি তৈরি করে,তাদের এবছর  বেশি বেশি আম-লিচু কেনার অনুরোধ জানানো।

১০.  মৌসুমি ফলে যেন কেমিক্যাল ব্যবহার করা না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসন,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবং কৃষি বিপণন অধিদফতর সমন্বিতভাবে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.banglatribune.com

Page 1 of 43