x 
Empty Product
Friday, 16 August 2013 13:38

হাঁড়িভাঙ্গা...

Written by 
Rate this item
(0 votes)

জাভেদ ইকবাল, রংপুর থেকে: রংপুর বিভাগের চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। ক্ষেতের ফসলের বিপরীতে আমবাগানের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন কৃষকরা। ফসলের দাম কম। মজুরি বেশি। কামলা ও পানি সঙ্কট এর প্রধান কারণ। ফলে খুব কম ঝুঁকিপূর্ণ আম চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রংপুর বিভাগের অধিকাংশ কৃষক। হাড়িভাঙ্গা নামের এক জাতের আমবাগান করে হইচই ফেলে দিয়েছেন যুবক শফিউল আলম চৌধুরী সামু। প্রতি বছর তিনি কয়েক লাখ টাকার আম বিক্রি করেন। তিনি বলেন, নীলফামারী জেলার চিলাহাটি এলাকার গোসাইগঞ্জ এলাকায় তার আমবাগান। ১০ একর জমির ওপর এ বাগানে দুই হাজার হাঁড়িভাঙ্গা আমের চারা, দেড় হাজার উন্নত লিচু চারা রোপণ করেন তিনি। দুই বছর থেকে গাছগুলো ফল ধরতে শুরু করেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে সামুর এ বাগানটি দেখতে। অনেকে এ বাগান দেখে নিজেরা এ ধরনের বাগান করায় উৎসাহী হয়েছেন। সামুর বাগানে কাজ করছেন এলাকার বেকার ২৫ জন শ্রমিক। তিনি তার বাগানের উৎপাদিত সেই ফল থেকে আশপাশের গ্রামের হতদরিদ্র, অভাবি লোকজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিচু আম দিয়ে আসেন। তার বাগানে কাজ করার ফলে এলাকার লোকজন এখন খেয়ে পরে বাঁচতে পারছেন। ছেলেমেয়েদেরও বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করাতে পারছেন। জমিলা বেগম ও জব্বার মিয়া জানান, তাদের গ্রামটিতে দরিদ্র লোকের সংখ্যাই বেশি। গ্রামে তেমন একটা কাজ ছিল না। তাই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটত তাদের। কিন্তু বাগান হওয়ার ফলে এখন প্রতিদিনই সেখানে কাজ হয়। এলাকার বৃদ্ধ মোবারক মিয়া জানান, প্রতি বছরই ফল পাকলে সামু নিজে এসে বাড়িতে ফল দিয়ে যান। এবারও তিনি দিয়েছেন। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল লতিফ জানান, বাগানটিতে ফল ধরা শুরু হলে প্রতি বছর এ বাগান থেকে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে। ওদিকে রংপুরের কৃষকরা ফসল আবাদের চেয়ে আমবাগান করার দিকে ঝুঁকছেন বেশি। কারণ, ধান বা আলু চাষের চেয়ে আমবাগান করা অনেক লাভজনক। তাই দিন দিন বাড়ছে আমবাগান। দাম বেশি থাকায় এবার আম চাষিরা খুব খুশি। অনুুকূল আবহাওয়ার ফলে গতবারের চেয়ে এবার আমের ফলন বেশি হয়েছে। তবে লাভের বেশির ভাগই চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের হাতে। এবার রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছে। গত বছর যা ছিল ১২ হাজার হেক্টরে। প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪ মেট্রিক টন করে আম পাওয়া যাবে বলে কৃষি বিভাগ জানায়। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর রংপুরের উপ-পরিচালক ফিরোজ আহমেদ জানান, কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের তদারকির কারণে এ অঞ্চলে এবার আমের ফলন ভাল হয়েছে। দামও গত বছরের চেয়ে বেশি। তাই বাগান মালিকরা খুশি। আমবাগান করে তারা অনেক লাভবান হচ্ছে। সূত্রমতে জানা যায়, রংপুর বিভাগের মধ্যে রংপুর সদর, মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার আম সবচেয়ে ভাল হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, এখন পুরোদমে শুরু হয়েছে বেচাকেনা। বর্তমানে হাট-বাজারে হাঁড়িভাঙ্গা আম ছাড়াও ফজলি, কেরোয়া, এছাহাক তেলি, ছাইবুদ্দিন, আশ্বিনী, সাদা নেংড়া, কালা নেংড়া, কলিকাতা নেংড়া, মিশ্রী ভোগ, গোপাল ভোগ, আম্রপলি, সাদা রচি, চোচা, আঁটিসহ হরেক প্রজাতির আম উঠছে। রংপুর শহর ছাড়াও ঢাকা অন্যান্য জেলা থেকে আসা পাইকাররা দরদাম করে আম নিয়ে যাচ্ছেন। তবে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাহিদাই বেশি। পদাগঞ্জহাটের আম চাষি জব্বার মিয়া জানান, তার সাড়ে ৪ একর জমির আম বিক্রি করেছেন ৫ লাখ টাকায়। ওই গ্রামের বেশির ভাগ বাগান মালিকরা ২৫-৩০টি গাছের বাগান বিক্রি করেছেন এক থেকে দেড় লাখ টাকায়। বাবুরহাট বান্ধেরপাড়, হামিদপুর ফুলচৌকি, ময়েনপুর, খামারবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট বাগানগুলো বিক্রি হয়েছে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। ওইসব গ্রামের আম চাষি শাখা মিয়া, মজিবর মিয়া, দুলু, শফিকসহ বেশ কয়েকজন জানান, এ এলাকার পদাগঞ্জ, মাঠেরহাট, পাইকারেরহাট, কদমতলার হাটে আম বিক্রি করে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। আমের ওপরই প্রধানত তারা নির্ভরশীল।

Read 783 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.