x 
Empty Product
Thursday, 22 August 2013 22:03

ইউরোপে আম রফতানির সম্ভাবনা

Written by 
Rate this item
(0 votes)

সুমিষ্ট আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম এবার সরকারি পর্যায়ে বিদেশে রফতানির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র থেকে পাঠানো আমের নমুনা ইউরোপীয় ইউনিয়নে গৃহীত হওয়ায় স্বনির্ভর অর্থনীতির নতুন এই সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে চলেছে। এর ফলে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুস্বাদু আম ইউরোপে রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতি বছর দেশে উত্পাদিত মোট আমের সিংহভাগই উত্পাদিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে। জেলায় এখন আমের আবাদকৃত জমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৬ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন আম উত্পাদিত হয়। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতেই উত্পাদিত হয় ২ লাখ মেট্রিক টন। এই বিপুল পরিমাণ আম শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিদেশে উপহার হিসেবে পাঠানো ছাড়া কখনই রফতানি করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত প্রতি বছর ৪১ হাজার মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি করে থাকে। এমনকি পাকিস্তানও প্রতি বছর গড়ে ৪৭ হাজার মেট্রিক টন আম বাইরে পাঠায়। ভারত ও পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশে উত্পাদিত আমও বিদেশে রফতানির জন্য সরকারি কৃষিজ উত্পাদন রফতানিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান হরটেক্স ফাউন্ডেশন বারবার চ্যানেল সৃষ্টির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় জাপান ২০০৮ সালে বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে। সে হিসেবে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জাপানে আম রফতানির চেষ্টা করে সরকারি উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে জাপান অনাগ্রহ দেখালেও তাদের কাছে আমের নমুনা পাঠানো হয়। হরটেক্স ফাউন্ডেশন গত ৩০ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র উদ্ভাবিত বারি-২ জাতের আমের নমুনা বাবদ প্রায় ২০ কেজি আম পাঠিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে। এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এক ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছে, উত্কৃষ্টমানের এই আমের নমুনা তাদের খুব পছন্দ হয়েছে। প্যারিস থেকে পাঠানো এই ফ্যাক্স বার্তাটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে এসে পৌঁছলে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফল বিজ্ঞানী মোঃ সরফ উদ্দিন জানান, এই প্রথমবারের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র উদ্ভাবিত বারি-২ আম বিদেশে রফতানির যোগ্যতা অর্জন করেছে। এর ফলে বিদেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম রফতানির একটি বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে বিদেশে রঙিন জাতের আমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ২০০৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছিল রঙিন জাতের আম প্রদর্শনী। এখানে প্রদর্শিত ৮৭ জাতের আমের মধ্যে ৩৩টি জাতকে উত্কৃষ্টমানের বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এসব জাতের রঙিন আমকে বিদেশে রফতানির জন্য গুণগতমান নিশ্চিত করতে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।

Read 692 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:31

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.