x 
Empty Product
Monday, 28 March 2016 07:22

ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে বিশ্বে যাবে রাজশাহীর আম

Written by 
Rate this item
(0 votes)

গাছে ঝুলছে আম। সেই আম ঢেকে রাখা হয়েছে ব্যাগের ভেতরে। সুদূর চীন থেকে আসা এই ব্যাগ দিয়ে গাছের প্রতিটি আমই ঢেকে রাখা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট পেরিয়ে যেতে আমের কয়েকটি বাগানে চোখে পড়ে এ দৃশ্য।
 
‘কী এবং কেন এ পদ্ধতি?’ এর উত্তর খুঁজতে আমবাগানে নেমেই জানা গেলো, ফল গাছে থাকা অবস্থায় বিশেষ ধরনের ব্যাগ দ্বারা ফলকে আবৃত করাকে ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি বলে। ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত গাছেই লাগানো থাকে ব্যাগটি।
 
কৃষি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে এই প্রথম এ পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে আমবাগানে। এর উদ্দেশ্য আমকে বিষমুক্ত এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে আম রক্ষা করা। এ বছর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হয়েছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির ব্যবহার। রাজশাহী ও সাতক্ষীরায়ও এ বছরই পদ্ধতিটির ব্যবহার শুরু হয়েছে।
 
আম গবেষকরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য আম উৎপাদনকারী দেশসমূহ এ পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে আম রফতানি করছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরাও আশা করছেন, প্রাথমিকভাবে উত্তরাঞ্চলের এ প্রযুক্তির সফল ব্যবহার হলেই যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্টসহ সারা বিশ্বে যাবে ‘ম্যাঙ্গো ক্যাপিটাল’ খ্যাত চাঁপাইসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আম।
 
কোনো ধরনের স্প্রে ছাড়া বিষমুক্ত আম এবং সে আমের গুণগতমান ভালো এবং সুস্বাদু হওয়ায় গতমাসে সাতক্ষীরার ২০ আমচাষির বাগান থেকে যুক্তরাজ্যে রপ্তানির জন্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট ৩ হাজার ৩৪ কেজি আম নিয়ে গেছে। ল্যাবে পরীক্ষার পর বিষমুক্ত নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথম দফায় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি ২ হাজার ১৬০ কেজি আম যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছে।
 
ওয়ালমার্ট সাতক্ষীরার চাষিদের কাছ থেকে বাজারমূল্যের চেয়ে অধিক মূল্য দিয়ে আম কিনেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকজন চাষি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে দেশের বাইরে আমের ভালো বাজার তৈরি হলে গাছে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার বন্ধ করে দিয়ে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে চাষিরা পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে আম গাছে থাকা অবস্থায় কীটনাশক ব্যবহার করছেন।

আমের বাগান ঘুরে দেখা গেছে, ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করছেন চাষিরা। আম রফতানির চেষ্টা যারা করছেন তারা চাষীদের এ পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন।
 
‘ফ্রুট ব্যাগ’ নতুন হওয়ায় বর্তমানে এটি চীন থেকে আমদানি করছে বাংলাদেশ। প্রতিটি ব্যাগের মূল্য ৩ থেকে ৪ টাকা।
 
উত্তরাঞ্চলের আমচাষি এবং কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সফল হলে বিশ্ববাজারে উত্তরাঞ্চলের আমের বড় বাজার তৈরি হবে।
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট কলাবাড়ি আমবাগানের আমচাষি জ্যোতিষ্ঠি বাবু তার বাগানে ব্যবহার করেছেন ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি।
 
বাগানে কথা হয় তার সঙ্গে। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আমার জানামতে চাঁপাই নবাবগঞ্জের কোনো চাষি আমবাগানে ফরমালিন মেশায় না। পোকা মাকড়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য ধানে যেমন সামান্য কীটনাশক দেওয়া হয় তেমনি আম গাছেও দেওয়া হয়।
 
পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য আমগাছে যেসব কীটনাশক দেওয়া হয় তা মানবদেহের জন্য খুব ক্ষতিকর নয়। তবে আমের শতভাগ নিরাপত্তায় ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতিই সর্বোত্তম বলে তিনি জানান।
 
আম চাষিরা বলছেন, দেশের আমের চাহিদা বিদেশে তৈরি হলে ফ্রুট ব্যাগিংয়ের পদ্ধতি বেড়ে যাবে। চাষিরাও চাইবে আন্তর্জাতিক বাজার ধরার জন্য এ পদ্ধতি গ্রহণ করতে।
 
আমকে নিরাপদ ও বিশ্ববাজারে কেমিক্যালমুক্ত আম রপ্তানির জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা চলতি বছর ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ নামে নতুন এই পদ্ধতি ব্যবহার শুরু করেন।
 
আম গবেষক এবং রাজশাহী আঞ্চলিক উদ্যান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আম উৎপাদনে একদিকে যেমন ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ হবে। সেই সঙ্গে বিদেশের বাজারেও আম রপ্তানির দ্বার উন্মোচিত হবে। 
 
গতবছর বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে ব্যাপক সফলতা পাওয়ায় এবার তা আমচাষিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। চীনের এ পদ্ধতির সফল ব্যবহারের ফলে দেশের আমচাষিরা ইতোমধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছেন।
 
জেলার আমচাষিদের মাঝে সরবারহের জন্য এরই মধ্যে চীন থেকে বিশেষ ধরনের এই ব্যাগ আমদানি করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম জানান,  এ জেলায় ২৪ হাজার ২৬০ হেক্টর আম বাগান রয়েছে। গতবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে ১৮টি জাতের আম গাছে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতা পাওয়া যায়।
 
পদ্ধতিটি বাংলাদেশে একটি নতুন ও সম্ভাবনাময়। গবেষকরা জানান, ফ্রুট ব্যাগিং করা আম দীর্ঘদিন ঘরে রেখে খাওয়া যায়। এই পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে আম সংরক্ষণ করতে ফরমালিন নামক বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রয়োজন হবে না। এছাড়াও ফলকে বাইরের বিভিন্ন ধরনের আঘাত, পাখির আক্রমণ, প্রখর সূর্যালোক এবং রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ  থেকে সহজেই রক্ষা করা সম্ভব। নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাগিং করা গেলে কোনো স্প্রে ছাড়াই ক্ষতিকর পোকার হাত থেকে আম ফলকে রক্ষা করা সম্ভব।
 
জানা গেছে, আমের ক্ষেত্রে ব্যাগিং করার উপযুক্ত সময় ৩৫-৪০ দিন বয়সের আমে। তবে এর পরেও ব্যাগিং করা যায়। এছাড়া ব্যাগিং করার আগেই মরা মুকুল বা পুষ্পমঞ্জুরির অংশবিশেষ, পত্র, উপ-পত্র ছিঁড়ে ফেলতে হবে এবং আমটি ব্যাগের মাঝ বরাবর থাকবে। ব্যাগের উপরের প্রান্তটি ভালভাবে মুড়িয়ে দিতে হবে যেন পানি বা অন্যকিছু প্রবেশ করতে না পারে।

http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/400323.html

Read 593 times Last modified on Monday, 28 March 2016 08:09

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.