x 
Empty Product

Rajshahi Mango border="0" alt="" />

Mango Rajshahi: একটা আম আর কতই বড় হয়, টেনেটুনে বড়জোর সেটা ডাব কিংবা তালের আকৃতি পেতে পারে। কিন্তু আম দেখতে যদি তরমুজের মতো হয়, তাহলে ভড়কে না
গিয়ে আর উপায় কী? একদিন এমনই এক তরমুজের মতো আম নিয়ে হঠাৎই বিশ্ব মিডিয়ার সামনে হাজির হলেন ফিলিপাইনের ইলিগান শহরে বসবাসরত দম্পতি সার্গিও সোকোরো দম্পতি। দৈর্ঘ্যে আমটি ১২ ইঞ্চি লম্বা আর প্রস্থে ২০ ইঞ্চি। ফিলিপাইনের তুবত নামের গ্রামে নিজস্ব আম বাগানে জন্মানো এ বৃহদাকার গ্রীষ্মকালীন ফলটি নিয়ে তো টালমাটাল অবস্থা এ দম্পতির। একদিকে গিনেজস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে সবচেয়ে বড় আমের রেকর্ড, অন্যদিকে ফিলিপাইন সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মাননা।

Rajshahi Mango আম পৃথিবীর গ্রীষ্মম-লীয় দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সুস্বাদু ফল। পৃথিবীতে হাজারো জাতের আম রয়েছে বলে জানা গেছে। আম শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। ম্যাংগো শব্দটির উৎপত্তি সরাসরি তামিল ভাষা থেকে। তাই তামিল ভাষায় আমকে বলা হয় ম্যানকে বা মান গে। পর্তুগিজরা আমকে ম্যাংগা, ইংরেজরা ম্যাংগ, গুজরাটিরা আমরি, ফরাসিরা ম্যাংগু আর চীনারা ম্যাংকো বলে থাকে।
আম গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে লংকারাজ রাবনের ছেলে মেঘনাদ বা ইন্দ্রজিৎ স্বর্গ বা ইন্দ্রপুরী জয় করেন। স্বর্গের নানারকম সুস্বাদু ফলের স্বাদ তিনি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমের স্বাদ বা শ্রীফল। স্বর্গ থেকে তিনি আমের চারা নিয়ে লংকায় ফিরলেন, শুরু হলো স্বর্গ থেকে মর্তে আমের চাষ। এরপর বছরের পর বছর ধরে আমচাষ ছড়িয়ে পড়েছে মাদ্রাজ, বোম্বাই, উওরপ্রদেশ, সিন্ধু, বিহার, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, জাভা, সুমাত্রা, ফিলিপাইন, ব্রাজিল, আফ্রিকা, কেনিয়া, সুদান ও আমেরিকাসহ প্রায় সারা বিশ্বে।
রাজশাহী চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাট্রিজের সভাপতি আলহাজ আবু বাক্কার আলী বলেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই আপেল, আঙ্গুর, নাশপাতি ও আমের মতো পচনশীল ফলের উন্নত মানের সংরক্ষণ ও বাজারজাত করণের ব্যবস্থা রয়েছে। যেসব দেশে আম হয় সেখানে গড়ে উঠেছে আমভিত্তিক শিল্প-কারখানা। কিন্তু আমাদের দেশে আমের জুস, জ্যাম, জেলি, আচার ও বার তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে সবই রাজশাহীর বাইরে।
রাজশাহী কৃষি গবেষণা পরিষদের সম্পাদক ড. মাহাবুবে আলম বলেন, আমের সময় রাজশাহী অঞ্চলে কোটি কোটি টাকার আম বিক্রি হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমের মোকাম বা হাট হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট, এরপর রহনপুর, ভোলাহাট, শিবগঞ্জ, নবাবগঞ্জশহর। রাজশাহীর বানেশ্বর, বাঘা, চারঘাট, নওহাটা, মহানগরীর সাহেবাজার, শিরোইল স্টেশন বাজার, শালবাগান ও কাটাখালি বাজারে প্রচুর আম বিক্রি হয়। এবার রাজশাহী অঞ্চলে আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা আমের দামও ভালো পেয়েছে।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান বলেন, রাজশাহীতে আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে হাজার হাজার আমচাষী ও বাগান মালিকরা লাভবান হতো। এ অঞ্চলে আমভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপন করে আম সংরক্ষণ ও বিদেশে রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
আম গবেষক ও হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম গবেষণা কেন্দ্র ও রাজশাহীতে ফল গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। আমের জাত সংরক্ষণ, গবেষণা ও বাগান তৈরি করলেই শুধু হবে না। আমভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপন করতে হবে। রাজশাহী অঞ্চলে আমের এই মৌসুমে প্রায় ৩০০, কোটি টাকার আম কেনা-বেচা হয়ে থাকে। আমের বেশ কিছু জাত রয়েছে তার মধ্যে ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত, হিমসাগর, লখনা, ফজলি, রানী পছন্দ, মহারাজ পছন্দ, জামাই পছন্দ, বেগম পছন্দ. চৌষা, দুধস্বর, মোহ ভোগ, রাজভোগ, আম্রপালি, গোপালখাস, চালতাখাসসহ বেশকিছু জাতের আম খুব সুস্বাদু।
রাজশাহীর আম সংরক্ষণ করে সারা বছর ধরে বিদেশে রপ্তানি করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। আমরা আশা করি সরকার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে। আর ব্যবসায়ী ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা রাজশাহী অঞ্চলে আমভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপনে এগিয়ে আসবেন।