x 
Empty Product

Picture-1 (12)নরসিংদী প্রতিনিধি : ‘মাঘে বোল, ফাগুনে আটি, চৈত্রে কাটিকুটি, বৈশাখে দুধের বাটি’। বাংলাদেশের মানুষের প্রিয় ফল আম সম্পর্কে এটি হচ্ছে খনার বচন। অর্থাৎ এই বচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কখন আমের মুকুল হয়, কখন আম বড় হয় এবং কখন আম পাকে তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। খনার এই বর্ণনা অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন মাঘ মাস। অর্থাৎ বাংলাদেশের গাছে গাছে এখন মৌ মৌ গন্ধ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল। কিন্তু এরই মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে আমদানী হয়ে গেছে মনলোভা রং ও আকষণীয় গন্ধের আম। তবে এই আম সাধারণ বাঙ্গালীদের জন্য নয়। কেবল মাত্র সমাজের ভাগ্যবানরাই এই আম কিনে খেতে পারছেন। ১ কেজি ভারতীয় আম বিক্রি হচ্ছে ৩ শত থেকে সাড়ে ৩ শত টাকায়। ১০ থেকে ১২টি আম ধরছে ১ কেজিতে। অর্থাৎ একটি ভারতীয় আমের দাম পড়ছে কমবেশী ২৯ টাকা। অর্থাৎ ১ কেজি চালের চেয়েও একটি আমের দাম অনেক বেশী। সাধারণ মানুষের কিনে খাওয়াতো দূরের কথা এর ধারে কাছেও যেতে পারছে না। দূর থেকে মনলোভা রং ও গন্ধ শুকেই রসনা তৃপ্ত করছে সাধারণ মানুষ। এরপরও এই ভারতীয় আম কতটা স্বাস্থ্য সম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সচেতন গ্রাহকরা বলছে এই আম ভারত থেকে আনা হয়েছে কাঁচা অবস্থায়। বাংলাদেশে এনে ক্ষতিকর কার্বাইড দিয়ে এ আম পাকানো হয়েছে। কার্বাইড দিয়ে পাকানো বলেই এই আমের রং এতটা লাল হলুদে আকর্ষণীয় । সদ্য কিনে খাওয়া একজন ক্রেতা জানিয়েছেন ভারতীয় এই আম দেখতে যতটা সুন্দর, এর গন্ধ যতটা আকর্ষণীয় খেতে ততটা মিষ্টি নয়। কোন কোনটি পানসে মিষ্টি আবার কোনোটি টক মিষ্টি স্বাদের। এরপরও সৌখিন ক্রেতারা নিজেদের কৌলিন্য প্রদর্শন ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য এসব আম চড়াদামে কিনে নিয়ে বাড়ীর ড্রইং রুমের মূল্যবান ফ্রিজে জমা করে রাখছে। বাংলাদেশে আমের মুকুলের মৌসুমে ভারতীয় পাকা আম খাইয়ে প্রতিবেশীদের কাছে নিজেদের কৌলিন্য জাহির করছে।

 

বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয় মনলোভা  পাকা আম!বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঠাল হলেও এদেশের মানুষের প্রিয় ফল আম। আর আম সম্পর্কে এটি হচ্ছে খনার বচন। অর্থাৎ এই বচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কখন আমের মুকুল হয়, কখন আম বড় হয় এবং কখন আম পাকে তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। খনার এই বর্ণনা অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন মাঘ মাস।

অর্থাৎ বাংলাদেশের গাছে গাছে এখন মৌ মৌ গন্ধ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল। কিন্তু এরই মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে আমদানী হয়ে গেছে মনলোভা রং ও আকষণীয় গন্ধের আম। তবে এই আম সাধারণ বাঙ্গালীদের জন্য নয়। কেবল মাত্র সমাজের ভাগ্যবানরাই এই আম কিনে খেতে পারছেন। ১ কেজি ভারতীয় আম বিক্রি হচ্ছে ৩ শত থেকে সাড়ে ৩ শত টাকায়। ১০ থেকে ১২টি আম ধরছে ১ কেজিতে। অর্থাৎ একটি ভারতীয় আমের দাম পড়ছে কমবেশী ২৯ টাকা।

অর্থাৎ ১ কেজি চালের চেয়েও একটি আমের দাম অনেক বেশী। সাধারণ মানুষের কিনে খাওয়াতো দূরের কথা এর ধারে কাছেও যেতে পারছে না। দূর থেকে মনলোভা রং ও গন্ধ শুকেই রসনা তৃপ্ত করছে সাধারণ মানুষ। এরপরও এই ভারতীয় আম কতটা স্বাস্থ্য সম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সচেতন গ্রাহকরা বলছে এই আম ভারত থেকে আনা হয়েছে কাঁচা অবস্থায়। বাংলাদেশে এনে ক্ষতিকর কার্বাইড দিয়ে এ আম পাকানো হয়েছে। কার্বাইড দিয়ে পাকানো বলেই এই আমের রং এতটা লাল হলুদে আকর্ষণীয় ।

সদ্য কিনে খাওয়া একজন ক্রেতা জানিয়েছেন ভারতীয় এই আম দেখতে যতটা সুন্দর, এর গন্ধ যতটা আকর্ষণীয় খেতে ততটা মিষ্টি নয়। কোন কোনটি পানসে মিষ্টি আবার কোনোটি টক মিষ্টি স্বাদের। এরপরও সৌখিন ক্রেতারা নিজেদের কৌলিন্য প্রদর্শন ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য এসব আম চড়াদামে কিনে নিয়ে বাড়ীর ড্রইং রুমের মূল্যবান ফ্রিজে জমা করে রাখছে। বাংলাদেশে আমের মুকুলের মৌসুমে ভারতীয় পাকা আম খাইয়ে প্রতিবেশীদের কাছে নিজেদের কৌলিন্য জাহির করছে।

আমের ভালো ফলন পেতে এ সময়ে করণীয় ফলের মধ্যে আমের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং অতি জনপ্রিয় দেশীয় ফল। পুষ্টি বিবেচনায় ফলের তালিকায় আমের স্থান বেশ ওপরে। আমকে ফলের রাজাও বলা হয়। বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। জাতীয় আয়ের প্রধান অংশই আসে কৃষি থেকে। কাজেই কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে সূদৃঢ় ও সুসংহত করতে আমের অধিক উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ একান্ত অপরিহার্য। তাছাড়া বাংলাদেশের মতো পুষ্টি ঘাটতি দেশে আমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে আমগাছের পরিচর্যা, রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন দ্বারা অনেকাংশে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের দ্বারা বিভিন্ন প্রযুক্তি যেমন- সার ও সেচ প্রয়োগ ব্যবস্থাপনা, রোগ ও পোকামাকড় দমন ইত্যাদি উদ্ভাবন আমচাষিদের মধ্যে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে। আগে আম চাষে তেমন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা না হলেও বর্তমানে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করার ফলে উৎপাদনও বেড়েছে। এখনো কিছু কিছু আমচাষি আম মৌসুমের প্রথম থেকে আম বড় হওয়া পর্যন্ত কোন কাজটি কোন সময়ে করতে হবে তা সঠিকভাবে না জানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। সুতরাং আমের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সবারই সচেষ্ট হওয়া একান্ত দরকার

 

সঠিক সময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ  
শুষ্ক, ঊষ্ণ ও আর্দ্র উভয় অঞ্চলে আম জন্মাতে পারে। তবে আমের জন্য সব সময়ই শুষ্ক আবহাওয়া দরকার। পুষ্পায়নের সময় ঠান্ডা আবহাওয়া দরকার। আবার খুব বেশি ঠান্ডা হলে বাডগুলোসুপ্ত অবস্থায় থাকার ফলে মুকুল বের হয় না। কিন্তু একটু গরম পেলে মুকুল বের হতে শুরু করে। ফল ধারণের সময় ঠান্ডা আবহাওয়া এবং ফলের বৃদ্ধি ও পরিপক্বতার জন্য গরম আবহাওয়া দরকার। আমগাছে মুকুল আসার সময় আকাশ বেশ পরিষ্কার থাকা ও কুয়াশা না হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়। কারণ বৃষ্টিপাত ও কুয়াশা আমের মুকুলের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকারক। কিন্তু ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস আম উৎপাদনের জন্য বড় সমস্যা। কারণ কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এই দুই মাসে আবহাওয়া খুব একটা ভালো থাকে না। প্রায়ই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। রোদ থাকে না বরং কুয়াশায় আকাশ ঢাকা থাকে। এতে স্ত্রী শোষক (হপার) পোকা ডিম পেড়ে অসংখ্য পোকার সৃষ্টি করে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। এ পোকা ছাড়াও মিলিবাগ ও স্কেল ইনসেক্ট মধুজাতীয় পদার্থ নিঃসরণ করে ফলে শুঁটিমোল্ড রোগ দেখা দেয়। এ রোগের ফলে গাছের পাতার ওপর কালো আবরণ পড়ে। অনেক সময় শাখা ও পরিপুষ্ট আমের গায়েও কাল আবরণ দেখা যায়। এই কালো আবরণ হলো ছত্রাকদেহ ও বীজকণার সমষ্টি।
এ রোগ গাছের খাদ্য উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় এবং এতে আমের গাছ দুর্বল হয়, আমের ফলন অনেকটা কম হয় এবং মান কমে যায়। তাই এ সময় গাছের কান্ডে ও পাতায় সাইপারমেথ্রিন (রিপকর্ড/রেলথ্রিন/সাইথ্রিন ইত্যাদি) ১মিলি./লিটার অথবা সেভিন ২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশেয়ে স্প্রে করতে হবে। এবং মুকুল বের হয়েছে কিন্তু ফুল ফোঁটার আগে (পুষ্প মঞ্জরির দৈর্ঘ্য ৫-১০ সেমি. হলে) একই ওষুধ এবং তার সাথে ছত্রাকনাশক ডায়থেন এম-৪৫, ২ গ্রাম/লিটার অথবা টিল্ট ২৫০ ইসি ০.৫ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। তাছাড়া পাউডারি মিলডিউ যাতে মুকুল নষ্ট করতে না পারে তার জন্য এ মাসের শেষ সপ্তাহে একবার সালফার ঘটিত ছত্রাকনাশক (থিওভিট ২ গ্রাম/ লিটার) স্প্রে করতে হবে। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকে তাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমের মুকুলের কুঁড়িগুলো বের হয় এবং অনেক সময় মেঘলা আকাশ ও কুয়াশা থাকার কারণে মুকুলে পাউডারি মিলডিউ রোগ দেখা দেয়। ফলে অতি দ্রুত মুকুলের গায়ে সাদা সাদা পাউডারের মতো দেখা দেয়। থিওভিট প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম ভালোভাবে মিশিয়ে স্প্রে করলে তা দমন করা যায়। অথবা সালফারের গুঁড়া বা দ্রবণ (০.২%) স্প্রে করলেও এ রোগের প্রকোপ কমে যায়। তাছাড়া অ্যানথ্রাকনোজও এ সময় দেখা দেয়। ফলে সব মুকুল কালো হয়ে ঝরে পড়ে। কাজেই ডায়থেন এম-৪৫ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। গাছে স্ত্রী শোষক (হপার) পোকা দেখা গেলে সাইপারমেথ্রিন (রিপকর্ড/লেথ্রিন ইত্যাদি) ১ মি: লি:/ লিটার অথবা সেভিন ২গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা দরকার। তবে শোষক (হপার) পোকার সাথে ছত্রাকজাতীয় রোগ দমনের জন্য কীটনাশকের সাথে ছত্রাকনাশক মিশিয়ে স্প্রে করলে আমের ভালো ফলন পাওয়া যায়। যদি এ মাসে ফলের গুটি মটর দানার মতো হয় এবং ফল বেশি করে ঝরে পড়লে তা রোধের এবং আকার বৃদ্ধির জন্য প্ল্যানোফিক্স ২ মিলি ৪.৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছে ভালোভাবে স্প্রে করা উচিত।
মার্চ মাস থেকে শুরু করে এপ্রিল ও মে মাস পর্যন্ত প্রচন্ডখরা অর্থাৎ উচ্চ তাপমাত্রা (৩১.৫ সে: বা তার ঊর্ধ্ব), আর্দ্রতা (৮০-৮৫%) এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব থাকার কারণে প্রায় ছোট ও বড় সব জাতের আমগাছ আগামরা ও আঠাঝরা রোগে আক্রান্ত হয়। যেহেতু মরা ডাল ও পাতায় রোগের জীবাণু থাকে কাজেই বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে। যেহেতু পানির অভাবে অনেকাংশে এ রোগ হয় তাই এ সময় গাছে প্রয়োজনীয় সেচ দিয়ে পানির আভাব দূর করতে হবে। তাছাড় অনেক সময় এ মাসে ফল ধারণের পর থেকে ফল মটর দানা হওয়া পর্যন্ত শোষক (হপার) পোকা আক্রমণ করে থাকে। ফলে পূর্বের মতো আবার দ্বিতীয় বার শোষক (হপার) দমন করতে হবে। কিন্তু যদি কোন কারণে মুকুল দেরিতে অর্থাৎ ফাল্গুন মাসে আসে তবে এ ক্ষেত্রে ওষুধ ছিটানো প্রথমবার হওয়া উচিত। এমাসে আবহাওয়া বেশ শুষ্ক ও উত্তপ্ত হয়ে থাকে তাই কচি আমের আকার যখন মটর দানাদার সমান হবে তখন ফলের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য অন্তত একবার সেচ দেয়া প্রয়োজন। এমাসেই ফলন্ত গাছ থেকে নষ্ট ও বিকৃত পুষ্প মঞ্জরি ছাঁটাই করা প্রয়োজন। দেরিতে ফুল আসে এমন আম গাছে যদি অ্যানথ্রাকনোজ রোগের লক্ষণ দেখা যায় তবে সঠিক ছত্রাকনাশক স্প্রে করা প্রয়োজন। এ মাসে ফলের গুটি আস্তে আস্তে বড় হয়ে যায়। আর এপ্রিল-মে মাসে ফলপচা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সুতারাং ডায়থেন এম-৪৫ প্রতিরোধক হিসেবে স্প্রে করা প্রয়োজন। সেচের ব্যবস্থা থাকলে গাছে পরের অকার বৃদ্ধি করতে ও মান উন্নত করতে সুষম সার প্রয়োগ করা একান্ত প্রয়োজন।
এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা আরও বাড়ে এবং আর্দ্রতা কমে। ডাইব্যাক ও গামোসিসরোগের হাত থেকে ফলন্ত আম গাছকে (বিশেষ করে ২-১০ বছর) রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সেচ পানির দরকার। ফল-পচা রোগের আক্রমণ দূর করতে ১৫ দিন পর পর দু’বার ছত্রাকনাশক ওষুধ যেমন- ডায়থেন এম -৪৫ ২ গ্রাম/রিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। কচি আমের ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ দমনের জন্য সুমিথিয়ন-৫০ ইসি ২ মিলি. হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছের ডাল-পালা ও আম ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। যদি পাতায় রেড রাস্টের লক্ষণ দেখা দেয় তবে কপার-অক্সিক্লোরাইড (০.২%) বা বর্দো মিশ্রণ (১%) ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। মাটিতে ঝরে পড়ে থাকা আম সংগ্রহ করে মাটিতে পুঁতে পেলা উচিত। এম মাসেই আম মার্বেল আকৃতির হয় এবং অনেক সময় বেশি করে ঝরে পড়তে থাকে। তাই এ মাসে ও প্ল্যানোফিক্স ২ মিলি ৪.৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে ভালোভাবে গাছে স্প্রে করলে ফল ঝরা কমে যায় এবং ফলের আকার বৃদ্ধি পায়।
মে মাসে ও পাতায় রেড রাস্টের লক্ষণ যদি দেখা যায় তবে কপার-অক্সিক্লোরাইড (০.২%) বা বর্দো মিশ্রণ (১%) ছিটাতে হবে। এ মাসে আগাম জাতের আমে ফ্রুট ফ্লাই লাগতে পারে। কাজেই বিষটোপ/ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করতে হবে। আগাম জাতের কিছু কিছু আম এ মাসেই পাকতে শুরু করে। ঝরে পড়া পাকা আম সংগ্রহ করে মাটির নিচে পুঁতে পেলতে হবে। পাখি এবং বাদুর পাকা আম নষ্ট করে। তাই এদের প্রতি সর্তক দৃষ্টি রাখতে হবে। তাছাড়া ফল-পচা রোগ দূর করতেও এ মাসে অন্তত একবার ডায়থেন এম-৪৫ স্প্রে করা উচিত। আমের আগাম জাত রয়েছে। এ মাসে সেগুলো পাকতে আরাম্ভ করে। আম সংগ্রহের পর গরম পানিতে (৫৫ সে. তাপমাত্রা) ৫ মিনিট ডুবিয়ে তারপর শুকিয়ে গুদামজাত করা দরকার অথবা ব্যাভিস্টিন দ্রবণে (১ গ্রাম/লিটার) ডুবিয়ে পরে শুকিয়ে রাখা উচিত।
জুন মাসে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হয়। তাই গাছের ভালো বৃদ্ধি হওয়ায় আমের পাতা কাটা উইভিল নতুন পাতা কেটে দিয়ে গাছের মারাত্মক ক্ষতি করে। কাজেই সেভিন ২ গ্রাম/লিটার পানিতে দিয়ে স্প্রে করা উচিত। বেশির ভাগ আম এ মাসেই পাকে। আম সংগ্রহের পর রোগের হাত থেকে আমকে রক্ষার জন্য গরম পানিতে (৫৫ সে. ৫ মিনিট) ডুবিয়ে অথবা ব্যাভিস্টিন দ্রবণে (১ গ্রাম/লিটার পানিতে) ডুবিয়ে শুকানো উচিত। এ মাসেও ফ্রুট ফ্লাই ও রেড রাস্টের আক্রমণ হতে পারে। তাই মে মাসের ব্যবহৃত ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। গাছ থেকে আম পাড়ার পর পরই যদি সুযোগ থাকে তবে গাছের মরা ডালপালা প্রুনিং করা উচিত এবং জমিতে ‘জো’ থাকলে প্রয়োজনীয় সার দেয়া উচিত। এ মাসে বৃষ্টির কারণে পরিপুষ্ট আমের গায়ে কালো দাগ হয়। কাজেই এ সময় ছত্রাকনাশক স্প্রে করা দরকার।
যেসব আম দেরিতে পাকে সেগুলোকে নাবি জাতের আম বলে এবং নাবি জাতের আম জুলাই মাসে পাকে। সাধারণত জুন মাসের চেয়ে জুলাই মাসে বৃষ্টিপাত বেশি হয়। ফলে ছত্রাক রোগে ফল আক্রান্ত হয়ে বেশি পরিমাণে পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কাজেই মাসের প্রথম সপ্তাহে আমগাছে ডায়থেন এম-৪৫, ২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা উচিত। যদি পাতায় রেড রাস্ট থাকে তবে রোগের লক্ষণ দেখে প্রতি ১৫ দিন পর পর কপার অক্সিক্লোরাইড (০.২%), কুপ্রাভিট (০.২%) বা বর্দোমিশ্রণ (১%) স্প্রে করলে তা দমন হয়ে যাবে। অতিরিক্ত বর্ষার কারণে যদি জুন মাসে গাছে সার প্রয়োগ করা না হয়ে থাকে তবে আম পাড়ার পর এ মাসেও সার দেয়া যাবে। আপেক্ষিক আর্দ্রতা কোনো স্থানের বৃষ্টিপাতের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। সারা দেশে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে অধিকতর আর্দ্রতা বিরাজ করে। আম পাকার সময় আর্দ্রতা বেশি থাকলে ফ্রুট+ফ্লাইয়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। কাজেই এ সময় আমগাছে ফ্রুট ফ্লাই বা ফলের মাছি পোকা দেখা যায়। আম মাছি পোকা দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পচে গাছ থেকে মাটিতে পড়ে যায়। মাটিতে পড়া আম সংগ্রহ করে গর্ত খুঁড়ে পুঁতে ফেলা উচিত। তাছাড়া মাছি পোকা দমনের জন্য বিষটোপ ব্যবহার করা অথবা ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়েও দমন করা যায়। আর যদি গায়ে কালো দাগ দেখা দেয় তবে জুন মাসের ব্যবহৃত ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। ।। আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।।

Thursday, 12 December 2013 08:41

কবিতা-আম পেকেছে গাছে

Written by

Untitled-26

আম পেকেছে গাছে

যেদিক তাকাও থোকা থোকা আম ঝুলে যে আছে।

হাটবাজারে আমের মেলা

সকাল, দুপুর, বিকেলবেলা

কিনবে যারা, দেখছে তারা, ঘুরছে ধারে কাছে।

 

হাজার জাতের আম

রানীপ্রসাদ, ল্যাংড়া, সিঁদুর, কত রকম নাম

হিমসাগর আর গোপালভোগের একটু বেশি দাম।

 

আমবাগানে গেলে

ছেলে বুড়ো, ধনী গরিব, সবার দেখা মেলে।

চুরি না হয়যাতে

গাছের নিচে মাচান বেঁধে পাহারা দেয় রাতে।

 

সকালবেলায় মা তুলে দেয় আম আর চিড়ে পাতে

মুখ ভরে যায় মিষ্টি রসে গড়িয়ে পড়ে হাতে।

 

আম পাকার এই মাসে

শহর থেকে সবাই ছুটে গ্রামের বাড়ি আসে

চারদিকে আজ মধুর মেলা আমের গন্ধ ভাসে।

Rajshahi Mango‘ফিরিয়ে দাও সে অরণ্য, লও এ নগর’- আর কিছুদিনের মধ্যে এভাবেই বলতে হবে সবাইকে। যেভাবে নগর জীবনের বিড়ম্বনা বাড়ছে তাতে এ কথা না বলে থাকার কোনো উপায় নেই। নগরে চলাফেরার নানা সমস্যার সঙ্গে যে বিষয়টা মানুষকে সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত করছে তা হচ্ছে রাসায়নিক মিশ্রিত খাদ্য। এর ফলে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে জীবনের ঝুঁকি। আগে বলা হতো কিসে ফরমালিন আছে। কি কি খাওয়া যাবে না। আর এখন পরিস্থিতি উল্টো। এখন জিজ্ঞেস করা হচ্ছে কিসে নেই ফরমালিন। এক শ্রেণীর লোভীরা মানুষের জীবনের তোয়াক্কা না করে শুধু মুনাফার জন্য করে চলেছে বিজ্ঞানের অপব্যবহার। জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে দরকারি খাদ্যপণ্যগুলোতেও হাত পড়েছে এ হায়েনাদের। রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে ফল, তরকারি, দুধের মতো প্রতিদিনের আবশ্যক খাবারগুলোকে জীবনের জন্য হুমকিতে রূপান্তরিত করেছে এরা। রাসায়নিক মিশ্রিত এসব খাবার খেয়ে অসুস্থ হচ্ছে মানুষ। ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ চেপে বসছে কাঁধে। না খেয়ে থাকতে পারছে না মানুষ। তাই টাকা দিয়ে মৃত্যু কিনতে বাধ্য হচ্ছে সবাই।

খাবারে বিষ হিসেবে এখন সবচেয়ে বেশি কদর ফরমালিনের। ফরমালিন দিয়ে খাদ্যপণ্য পচনের হাত থেকে রক্ষা করেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে আম যদি পাঁচ থেকে সাত দিন রাখতে হয় তাহলে তিন দফা ফরমালিন স্প্রে করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিরপুরের একজন ফল ব্যবসায়ী এমনই তথ্য দিলেন। তিনি জানান, আম যখন গাছ থেকে পাড়া হয় তখনই একদফা ফরমালিন দেয়া হয়। এর পর এগুলো প্যাকেট হয়ে শহরে আসে। শহরে এসে পৌঁছাতে দেরি হলেও যাতে পচন না ধরে তাই প্রথম দফায় ওই ফরমালিন দেয়া হয়। পাইকাররা আমের ঝুড়ির মুখ খুলে কিংবা যদি দেখেন আম নরম তাহলে সব বের করে আরেক দফা ফরমালিন স্প্রে করেন। যাতে খুচরা দোকানগুলোতে পৌঁছানো পর্যন্ত আমের কোনো ক্ষতি না হয়। খুচরা দোকানিরা ওই অবস্থায় আম বিক্রি শুরু করেন। আম নরম হলে খুচরা দোকানেও ফরমালিন স্প্রে করা হয় আরও কিছুদিন আম রক্ষা করার জন্য। গাছে পানি স্প্রে করার জন্য ব্যবহৃত কন্টেইনার দিয়েই এ কাজ সারা হয়। মোট তিন দফা স্প্রে হলে সাত-দশ দিনে আমের কিছু হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিমাণ ফরমালিন মানবদেহে উচ্চমাত্রার ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম।

ফরমালিন হচ্ছে রাসায়নিক উপাদান ফরমালডিহাইডের জলীয় মিশ্রণ। এতে মিথানলও থাকে। ফরমালিন ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চামড়া, টেক্সটাইল, মেলামাইন, পোলট্রি ও হ্যাচারি শিল্প, ল্যাবরেটরি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কাঠ ও প্লাইউড শিল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফরমালিন ব্যবহার হয়। কিন্তু এখন ফল তাজা রাখতেই মূলত ব্যবহার করা হচ্ছে ফরমালিন।

আম, কলা, খেজুর, পেঁপে, আনারস, মালটা, আপেল, আঙ্গুর এবং অন্যান্য ফলে ব্যবহৃত হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, কীটনাশক, ইথেফেন, ফরমালিন, কৃত্রিম ক্রমবৃদ্ধি নিয়ামক। মাছে ও টমেটোতে ফরমালিন, শাকসবজিতে কীটনাশক ও ফরমালিন, শুঁটকিতে ডিডিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। মিষ্টিতে কাপড়ের রং, আলকাতরা এবং কৃত্রিম মিষ্টিদায়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি মুড়ি ও চিড়াতেও রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার করা হয়।

Rajshahi Mango

বিভিন্ন কোম্পানির উৎপাদিত প্যাকেটজাত খাদ্য যেমন ফলের রস, স্ন্যাক্সফুড, জ্যাম-জেলি, আচার-চাটনিতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হয় এবং সেমাই ও নুডলসে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। দুধেও ফরমালিনের ব্যবহার হচ্ছে। এমনকি চালেও ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান। বরফের মধ্যে দেয়া হচ্ছে ফরমালিন। এতে করে বরফের মধ্যে রাখা মাছে আর আলাদা করে ফরমালিন দেয়ার প্রয়োজন পড়ছে না।

খাদ্য ভেজালিকরণ উপাদানগুলো মানবদেহের নানা ক্ষতির কারণ। বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত খাবার ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। মাছ, ফল, মাংস এবং দুধে ফরমালিন প্রয়োগের ফলে ক্যান্সার, বাল্য হাঁপানি এবং চর্ম রোগ হয়। শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য এর ক্ষতিকর প্রভাব মারাত্মক। অতি স্বল্প পরিমাণ ফরমালডিহাইড গ্যাস ব্যবহারেও ব্রঙ্কাইটিস এবং নিউমোনিয়া হয়। শ্বাসের সঙ্গে এই গ্যাস গ্রহণ নিউমোনিয়ার সংক্রমণের কারণ। ফরমালিন সেই বিরল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ যা গ্রহণের ফলে মানুষের তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে। অনেকেই এখন এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলে ভুক্তভোগীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে তাদের পরিবার-পরিজন সর্বস্বান্ত হচ্ছে। তাছাড়া রাষ্ট্রকে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্যান্সার হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ হাই এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মানবদেহে নানা ধরনের ক্যান্সার হয়ে থাকে। এগুলোর অনেক কারণ স্পষ্ট জানাও যায়নি। তবে ফরমালিনের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক যে ক্যান্সারের বিস্তার ঘটাতে সক্ষম তা প্রমাণিত। ফরমালিনযুক্ত খাবার পাকস্থলীতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। মানুষের শরীরে যা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এতে পাকস্থলীতে প্রদাহ, লিভারের ক্ষতি, অস্থিমজ্জা জমে যায়। যা গ্যাস্ট্রিক ও পরবর্তীতে ক্যান্সার এর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গলায় ক্যান্সার ও রক্ত ক্যান্সারের মতো ঘটনাও এ থেকে ঘটতে পারে। সরকারের উচিত খাদ্যপণ্যে ফরমালিন ব্যবহার যে কোনো মূল্যে নিষিদ্ধ করা।’

ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্স অন ক্যান্সারের ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিপোর্টের দেয়া তথ্যমতে, ১৯৭৫ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারের হার দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে তা আবারও দ্বিগুণ হবে এবং এ হার তিনগুণে পৌঁছবে ২০৩০ সালের মধ্যে। সারা বিশ্বে প্রতি বছর ১.৩ শতাংশ হারে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তবে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, পাকিস্তান, ভুটানের মতো দেশগুলোয় ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.৮ শতাংশ। সংস্থাটি বলছে, শিল্পোন্নত দেশের তুলনায় আমাদের মতো মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তামাকজাত দ্রব্য অধিকমাত্রায় গ্রহণ, উচ্চমানের চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং খাদ্যে ও বায়ুতে নানা ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতিকে দায়ী করা হয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন বাংলাদেশ কনজুমার রাইটস সোসাইটির দেয়া তথ্যমতে, ভেজাল খাদ্য খেয়ে দেশে প্রতি বছর তিন লাখের বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রায় দেড় লাখ মানুষ ডায়াবেটিস ও ২ লাখ কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও গর্ভবতীরা। ভেজালের কারণে গর্ভবতী মায়ের শারীরিক জটিলতাসহ প্রতি বছর গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা কয়েক লাখ।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারকন্টিনেন্টাল মার্কেটিং সার্ভিসেস এর গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্যান্সার প্রতিরোধক ঔষধের বাজার প্রতি বছর শতকরা ২০ ভাগ হারে বাড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ডিন অধ্যাপক এবিএম ফারুক বলেন, ‘ফরমালিন এতটাই ক্ষতিকর যে, শুধু প্রতিরক্ষামূলক পোশাক যেমন গ্লাভস পরিধানের মাধ্যমে এটা ব্যবহার করতে হয়। বায়ু চলাচলপূর্ণ এলাকায় মুখ বন্ধ পাত্রে এটি সংরক্ষণ করা উচিত। এর থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া চোখ ও শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই জিনিস যদি ফলের সঙ্গে মানবদেহে প্রবেশ করে তাহলে ফলের গুণাবলি দূরে থাক শরীর তার স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা হারাবে।’

নানা ধরনের বিষাক্ত ও নিম্নমানের খাদ্যের কারণে আগামী প্রজন্ম বিভিন্ন গুরুতর অসুখের ঝুঁকি নিয়ে বড় হচ্ছে। এসব খাদ্য গ্রহণে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে। কিছু খাবার এমনই বিষাক্ত যে তা ডিএনএকে পর্যন্ত বদলে দিতে পারে। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে এসবের প্রভাবে শিশুর ডায়রিয়া থেকে শুরু করে ফুসফুসের সংক্রমণ, কিডনি ও লিভার পচে যাওয়া, রক্ত সরবরাহ বিঘিœত হওয়া, অন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। ইথেফেনের কারণে ফলের পুষ্টিমান ২০-৩০ শতাংশ এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইডের কারণে তা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফল স্বাস্থ্যের নার্ভাস সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কার্বাইড থেকে উৎপন্ন অ্যাসিটিলিন মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ হ্রাস করে। তীব্র পর্যায়ে এটা মাথাব্যথা, ঘূর্ণিরোগ, মাথা ঘোরা, প্রলাপ এবং এমনকি কোমার কারণ হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এটা মেজাজ খিটখিটে এবং স্মরণশক্তির ক্ষতি করতে পারে। এগুলো মিশ্রিত খাবার গ্রহণের পরপরই পেটে ব্যথা, বমি ও পাতলা পায়খানা হতে পারে।

শিল্প গ্রেড ক্যালসিয়াম কার্বাইডে পরিমাণে কম হলেও অধিকতর বিষাক্ত আরসেনিক ও ফসফরাস রয়েছে যা সুস্থ ফলকে বিষময় ফলে রূপান্তর করে। ক্যালসিয়াম কার্বাইডের ফলে কিডনি, লিভার, ত্বক, মূত্রথলি এবং ফুসফুসে ক্যান্সার হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। কীটনাশক ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট সময় পর শস্য বা ফল বাজারে নেয়ার কথা থাকলেও সে পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয় না। ২০১২ সালে দিনাজপুরে লিচু খেয়ে ১৩ শিশুর মৃত্যুর কারণ ছিল কীটনাশক।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ইউনিটের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা ফলফলাদি গ্রহণ করি শরীরের নানা ধরনের ক্ষয় পূরণের জন্য। কিন্তু ফরমালিন মিশ্রিত ফল বরং আরও নতুন ক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়- যা মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একজন চিকিৎসাবিদ হিসেবে আমি এখন নিরুপায় হয়ে সবাইকে পরামর্শ দেই সব ধরনের বাজারি ফল এড়িয়ে চলুন। নিজের বাড়িতে কিছু হলে খান। অথবা বাদ দেন। যদিও আমি বুঝি এটা আমাদের আগত শিশু ও নতুন প্রজন্মের জন্য খুব ক্ষতিকর। এতে আয়ুষ্কাল কমবে, দুর্বলতা বাড়বে, মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। কিন্তু মৃত্যু আমদানির চেয়ে ক্ষতির মধ্যে বসবাস করাকে আমি শ্রেয় মনে করি। যতদিন সরকার ফরমালিনমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে না পারবে ততদিন এই ক্ষতি মেনে নিতে হবে।’

খাদ্যপণ্য উৎপাদনে এখন কীটনাশকের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য। এসব কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব যাতে মানবদেহে না পড়ে তার জন্য কিছু নির্দেশনাও থাকে। কীটনাশক কি পরিমাণ ব্যবহার করা যাবে তার বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু সেগুলো মানা হয় না। বাংলাদেশে ফরমালিন আমদানি হয় প্রধানত শিল্পখাতে ব্যবহার ও পরীক্ষাগারে ব্যবহারের জন্য। শিল্পখাতে ফরমালিনের চাহিদা ৪০ থেকে ৫০ টন। কিন্তু গত অর্থবছরে ২০৫ টন ফরমালিন আমদানি হয়েছে- যা চাহিদার তুলনায় চার গুণ বেশি। বাড়তি ফরমালিন খাদ্যে বিশেষ করে ফল-মূল, মাছ-মাংস, দুধ, সবজিতে ব্যবহার হচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে একটি মহল মজুদ করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগের বছর ৫০০ টন ফরমালিন আমদানি হয়। তার আগের বছর ৩০০ টন।

ফরমালিনের ক্ষতি নিয়ে গণমাধ্যমে নানা ধরনের খবর প্রকাশ হওয়ায় সরকার সম্প্রতি ফরমালিন আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। প্রথমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিধান করে যে, টিসিবি ছাড়া অন্য কেউ ফরমালিন আমদানি করতে পারবে না। কিন্তু নানা জটিলতায় টিসিবি কর্তৃক ফরমালিন আমদানি আটকে গেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ফরমালিন আমদানির সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আগের দুই বছরে যে বিপুল পরিমাণ ফরমালিন আমদানি করা হয়েছিল তাই এখন বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় খোলা বাজারেই ফরমালিন বিক্রি হয়। পুরনো ঢাকার চকবাজার, মৌলভী বাজার, মিটফোর্ড এলাকায় পানি মিশ্রিত ফরমালিন পাওয়া যায় ৬০ টাকা লিটার দরে। বেচা বিক্রির এ কাজ হয় খুব গোপনে। পরিচিত, বিশ্বস্ত লোক ছাড়া বিক্রেতারা কাউকে ফরমালিন দেখান না। জিজ্ঞেস করলে বলেন, এগুলো কেমিক্যাল বিক্রির দোকানে পাওয়া যায়। এখানে পাওয়া যাবে না। তবে সূত্র নিশ্চিত করেছে এই এলাকা থেকেই পুরো ঢাকা অঞ্চলের প্রয়োজনীয় ফরমালিনের চাহিদার যোগান দেয়া হয়।

ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, তারা ফরমালিন দেয়াটাকে অপরাধ মনে করে না। ফরমালিনের ক্ষয়ক্ষতিটাকে খুব বেশি বড় কিছু তারা মনে করে না। ব্যবসায়ীদের এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যে অশিক্ষা যুক্ত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিরপুর ১০ নং গোলচক্কর এলাকার একজন ফল ব্যবসায়ী বলেন, ‘ফরমালিন হইল গিয়া উন্নত সাইন্স। একদম হাইব্রিডের মতো। এইটা দিলেই তো ভালো। ফল মেলা দিন ভালো থাকে। তয় একটু আধটু ক্ষতি তো হয়ই। রাস্তায় নামলে বাতাসের মইধ্যেও বিষ থাকে। এইটা কোনো ব্যাপার না।’

খাদ্যে ফরমালিন বা অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিক আছে কিনা জানতে যেসব পরীক্ষাগারে যেতে হয় তার অধিকাংশই কোনো কাজে লাগছে না। আগ্রহী কেউ খাবারের মান পরীক্ষা করাতে গেলে তাকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থাকলেও তারা নিজ উদ্যোগে খাবারের মান সংক্রান্ত কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায় না। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহায়তায় সরকার ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে খাদ্যে রাসায়নিকের পরিমাণ চিহ্নিত করার একটি পরীক্ষাগার স্থাপন করেছে। যা ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। কিন্তু জনবল নিয়োগ না হওয়ায় পরীক্ষাগারটি এখনও চালু হয়নি। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন নিজেদের উদ্যোগে একটি পরীক্ষা চালিয়েছে। যার ফলাফল এখানে দুটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলাফল ভয়াবহ। যা খাচ্ছি সবই বিষ। টাকা দিয়ে মৃত্যু কিনছি আমরা

Rajshahi Mango>

সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলছে দীর্ঘদিন ধরেই। সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কাউকে জিজ্ঞেস করলেই তারা বলে, ‘আমরা কাজ করছি। অচিরেই সমাধান হয়ে যাবে।’ কিন্তু আমরা দেখি অচিরেই নয়, দূর ভবিষ্যতেও কোনো কিছু সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায় না। তাই জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে কিছু একটা বলে পাশ কাটানোর চেয়ে বেশি দরকার কার্যকর কিছু পদক্ষেপ। আদালতের নির্দেশ থাকলেও সরকার এখনো জেলায় জেলায় গড়ে তোলেনি কোনো খাদ্য আদালত। ভ্রাম্যমান আদালত যাদের গ্রেপ্তার করে তাদের সাজা দেয়া হয় না, অর্থ জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়। ফলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে না।

বিষাক্ত খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাব ধনী-দরিদ্র ভেদে ভিন্ন হয় না। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। তারা অনেক ক্ষেত্রেই পণ্যের বাছবিচার করে না। তাই কেবল সচেতনতা দিয়েই সমাজের এই অন্যায়কে ঠেকানো যাবে না। সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য। আর এটা করতে হবে প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে, সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করে এবং আইনের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে। সমাজের কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে দেশবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যাহত হবে, এটা চলতে পারে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কয়েকটি বাজারে ফরমালিন পরীক্ষার মাধ্যমে কিছুটা ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলেও এর মাধ্যমে বিষমুক্ত নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। রাসায়নিকের মিশ্রণে বিষাক্ত খাদ্যের কারণে সৃষ্ট এ বিপর্যয় রোধে সরকারিভাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

‘খাদ্যে যারা বিষ দেয় আমি তাদের মৃত্যুদণ্ড চাই’
সৈয়দ আবুল মকসুদ
গবেষক, বুদ্ধিজীবী
আহ্বায়ক, বিষমুক্ত খাদ্য আন্দোলন

ফরমালিনের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা ২০০১ থেকে আমরা বলে আসছি। যারা ফল সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন বা অন্যান্য রাসায়নিক দিচ্ছে এরা আসলে ক্ষমাহীন অপরাধ করছে। লোভ-লালসা, ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তারা এসব করছে। এদেরকে প্রতিহত করতে সরকারের যে উদ্যোগ তা সম্পূর্ণ অসন্তোষজনক। প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই এসব অসাধু ব্যবসায়ী এত বড় অপরাধ করেও তেমন কোনো শাস্তি ছাড়াই পার পেয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে কিছু জরিমানা হয় কিন্তু তা এহেন অপরাধের জন্য যথেষ্ট না। এই ব্যবসায়ীরা মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। এদের তৎপরতা বন্ধ করতে হলে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটাতে হবে। আইনের সংশোধন করে শাস্তি বাড়াতে হবে। খাদ্যে যারা বিষ দেয় আমি তাদের মৃত্যুদণ্ড চাই।

‘কঠোর শাস্তির বিধান দরকার’
নির্মলেন্দু গুণ
কবি

ফরমালিনের ভয়ে তো আমি নিজে ফল খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। এখানে একটা বিরাট আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়েছে। কোনো কিছু খেয়ে তৃপ্তি মিলছে না। সবসময় মাথার ভেতর কাজ করছে এই বুঝি বড় কোনো রোগ বাধিয়ে ফেললাম। প্রত্যেক বাজারে ফরমালিন যাচাইয়ের মেশিন স্থায়ীভাবে বসানো দরকার এবং এই ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে যে কেউ কিছু কেনার আগে বিনামূল্যে বা দু এক টাকা ব্যয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারে। মাঝেমাঝে খবরে দেখি এই ফরমালিনযুক্ত ফল বিক্রেতাদের জরিমানা হয় ৫০০ টাকা বা তার কিছু বেশি। বলা হয় অপরাধী যখন অপরাধ স্বীকার করে তখন তার শাস্তি কম দিতে হয়। তাই যারা ফরমালিন মেশায় তারা ম্যাজিস্ট্রেট দেখলেই আগেভাগে স্বীকার করে বসে থাকে। এগুলো হাস্যকর। সরকারের উচিত কঠোর আইন পাস করা। কঠোর শাস্তির বিধান দরকার।

লিখেছেন: আনিস রায়হান  (http://www.istishon.com/node/4467)

আম আমাদের একটি অতি পরিচিত ফল। স্বাদে গুণে ভরপুর এই ফলটি ছোট বড় সকলের কাছে প্রিয়। সবচেয়ে     সুস্বাদু ফল এটি। পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ জাতের আম আছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি সুস্বাদু আম হল হাড়িভাঙ্গা। এই  আমটি সুস্বাদু আম বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে মিঠাপুকুরের পশ্চিম এলাকার লোকজন ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। এদের মধ্যে একজন আব্দুস সালাম। হাড়িভাঙা আম প্রেমিক আব্দুস সালাম সরকার গত বছর ১৩ লাখ টাকার আম বিক্রি করে এলাকায় রীতিমত হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। এবার আরও বেশি টাকার আম বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁর বাগান পরিদর্শন করেছেন।
মিঠাপুকুর উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে খোড়াগাছ ইউনিয়নের নিভৃত পল্ল¬¬ী বারঘরিয়া সর্দার পাড়া গ্রাম। এ গ্রামে গিয়ে চোখে পড়বে হাঁড়িভাঙ্গা আম বাগান বেষ্টিত সবুজ ছায়াঘেরা দৃষ্টিনন্দন একটি বাড়ি। নিজের শৈলী দিয়ে আব্দুস সালাম তৈরী করেছেন সরকার ভিলা। সরকারী চাকুরী থেকে অবসর গ্রহনের পর আম বাগান করার নেশা জেঁকে বসে আব্দুস সালাম সরকারের।
চাকুরী করা কালীন অবস্থায় তিনি ১৯৮৪ সালে শখ করে বসত বাড়ী সংলগ্ন এক খন্ড জমিতে আম বাগান করেন। একপর্যায়ে বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির আম উৎপাদন শুরু হলে তিনি আকৃষ্ট হন এবং বড় আকারের বাগান করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কিন্তু চাকুরীরত অবস্থায় বাগানের পরিচর্যা করা সম্ভব না হওয়ায় তিনি ৮ বছর পূর্বেই গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন। বাগান করার পর ১৯৯২ সালে গাছে ফলন শুরু হয়। এর মধ্যে হাড়িভাঙা আমের গুনাবলী দেখে অন্য জাতগুলো স্থানন্তর করে ৮ একর জমিতে বানিজ্যিকভাবে শুরু করেন হাড়িভাঙা আম চাষ। প্রথম বারেই অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন তিনি। সেবার তিনি ৩লাখ টাকায় বাগান বিক্রি করেন। ওই সময় এলাকায় তাঁর এ সাফল্যে হৈচৈ পড়ে যায়। আশপাশের লোকজন তাঁর কাছে হাড়িভাঙা আম চাষের পরামর্শ নিতে আসেন। উপজেলার খোড়াগাছ, ময়েনপুর, রানীপুকুর ইউনিয়নসহ প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে বানিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বিশ্বখ্যাত হাড়িভাঙা আম।
 ফলজ বৃক্ষ প্রেমিক আঃ সালাম ৮ একর জমিতে ২৭ প্রজাতির আম চারা রোপন করে আলোচিত হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তার বাগানের প্রায় ৮শ গাছে আম ধরেছে।  ২৭ প্রজাতির আমের মধ্যে সর্বাধিক সুমিষ্ট সুঘ্রান যুক্ত আমের নাম “হাড়িভাঙা”। এই আমটি আমাদের দেশে শুধুমাত্র মিঠাপুকুরে চাষ হয়। অবশ্য অন্যান্য জেলা থেকেও লোকজন হাড়িভাঙা আমের চারা এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছে। আমটি এতই সুমিষ্টি যে, রাজধানী ঢাকা সহ বিদেশেও হাড়িভাঙা আমের কদর রয়েছে। আঃ সালাম সরকার জানান, গত মৌসুমে তিনি ১৩ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। এবার আরও বেশি টাকার আম বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে তার বয়স ৭০ বছর হলেও সারাদিন বাগানে সময় কাটান। আব্দুস সালাম এখন এই হাড়িভাঙা আম চাষে অন্যদের উৎসাহিত করার জন্য নিজেই কলম চারা উৎপাদন শুরু করেছেন। এছাড়াও তাঁর বাগানে আড়াই হাজার লটকন চারা রোপন করা হয়েছে। এ বছর শতাধীক গাছে লটকন ধরেছে প্রচুর। গত বছর কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীও হাঁড়িভাঙ্গা আমের স্বাদ নিতে ছুটে এসেছিলেন মিঠাপুকুরে। তিনিও মিঠাপুকুরের ঐতিহ্য এ হাঁড়িভাঙ্গা আম দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচএন আশিকুর রহমান, মিঠাপুকুর উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহা. হারুন অর রশীদ সহ উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ ।

আমাদের বাড়িতে বেশ কয়েকটা আমের গাছ ছিল। একেকটা আমের ধরন ছিল একেক রকম। আমি, শান্তি (ছোট পিসি) আর পাখি (কাকাতো বোন)- আমাদের বিকেলের রুটিন ছিল আম পেড়ে ভর্তা বানিয়ে খাওয়া। এই তিনজনের কারণে আমাদের গাছের আম গাছে পেঁকেছে- এমন উদাহরণ বিরল।

ঢাকা শহরে এসে আমি যে কয়েকটি কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হই, তার একটি হচ্ছে আম কিনে খাওয়া। ঢাকায় আসার আগে কখনো মাথায়ই আসে নি যে, আম জিনিসটি কিনে খাওয়ার মতো কিছু একটা। সঙ্গত কারণেই ১৯৯৫ সালের পর থেকে আমার আম খাওয়া কমে যায়। কিনে খাওয়ার মতো সামর্থ্য তখন ছিল না, তখন বাড়ি থেকে মাসে পেতাম মাত্র ১০০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে মেসে থাকা, খাওয়া এবং দৈনন্দিন খরচ চালাতে হতো। আমার কিনে খাওয়ার মতো বিলাসিতা তাই তখন দেখানো হয় নি।

পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ চাকরি পাওয়ার পর সামর্থ্য কিছুটা বাড়লেও আম কিনে খাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয় নি। একটা-দুটো আম তো কেনা যায় না! আর কেজিখানেক আম কিনে রাখবো কোথায়! ফ্রিজ নেই। মেসে এক কেজি আম আনলে দশ মিনিটে শেষ। প্রথম প্রথম এনে তারপর আর আনতাম না। ফলে আম খাওয়া আবার বন্ধ। কোনো কাজে কারো বাসায় গেলে হয়তো খাওয়া হয়, নয়তো খাওয়া হয় না। মাঝে মাঝে শাহবাগে কাচা আমের ভর্তা কিনে খাওয়াটাই যা সম্বল!

ঢাকা আসার পর সত্যিকারে আম খাওয়া শুরু করি বিয়ের পর। একসাথে দুই-চার কেজি কিনে আনি, কয়েকদিন খাই। নষ্ট হয় না। এ বছর ভাবছি রাজশাহী থেকে এক-দুই মন আম আনাবো, সম্ভব হলে। পৃথিবীতে যে কয়টি ফল আমি ভালোবাসি, যে কয়টি খাবার আমি ভালোবাসি, আম তাদের শীর্ষে।

*
ভাবতে পারেন, কথাবার্তা ছাড়া হঠাৎ আম নিয়ে লিখতে বসলাম কেন?

সন্ধ্যায় ইন্টারনেটে নানা সাইট গুতাচ্ছিলাম। এক পর্যায়ে গুতা দিলাম ‘আমরা বন্ধুতে’। এক মিনিট যায়, দুই মিনিট যায়- ‘আমরা বন্ধু’র কোনো খবর নাই। এক পর্যায়ে ব্রাউজারের কর্ণারে দেখি লোভনীয়ভাবে জুলজুল করছে ‘আম’ শব্দটি। বিশ্বাস না হলে নিচের ছবিটি দেখুন, প্রয়োজনে একটু বড় করে।

Untitled-1.gif

এর মানে কি এটাই যে, এ বছর ‘আমরা বন্ধু’র বন্ধুরা আমাকে আম খাইয়ে ভাসিয়ে দিবে?

 

লিখেছেন: গৌতম   (http://www.amrabondhu.com/user/goutam)

 

একটি ছোট পরিবার, মাত্র একবিঘা জমিতে আমচাষ করে সারাবছরের পারিবারিক সব চাহিদা মেটাতে পারবে।

এমন ধারণা থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি কৃষি খামার বারাদি হর্ট্টিকালচার সেন্টারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কয়ালদার এবার আরও একটি নতুন জাতের আম উদ্ভাবন করেছেন। তার এই উদ্ভাবিত আম চাষ করলে প্রতি বিঘাতে এক থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকার আম উৎপাদন সম্ভব। দীর্ঘদিন গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উদ্ভাবিত এই জাতের আম উদ্ভাবন করেছেন তিনি। এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তার উদ্ভাবিত আমের নাম দিয়েছেন বেনানা ম্যাংগো।

ফেব্র“য়ারির দিকে এ আমের গাছে মুকুল এলেও আম পাকে আগস্টে। এজন্য এর আরেক নাম দেয়া হয়েছে লেট ভ্যারাটে। তবে মেহেরপুরের মানুষের দাবি, আমটির নাম মেহেরপুরের নামানুসারে মেহের ম্যাংগো রাখার। উদ্ভাবিত এই আমগাছের উচ্চতা হবে ১২ থেকে ১৫ ফুট। একবিঘা জমিতে ২৫০টি আমগাছ চাষ করা যাবে। গাছটি লাগানোর পরের বছর থেকেই আম পাওয়া যাবে। ছোট জাতের এই আমগাছের বয়স ৫ বছর হলেই প্রতিটি গাছে দুই থেকে তিন মণ আম পাওয়া যাবে। একেকটি আম এক কেজি পর্যন্ত ওজনের হবে। এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার আরও একটি উদ্ভাবিত আমের নাম পালমার। মেহেরপুর বারাদি হর্ট্টিকালচার সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত উদ্যানতত্ত্ববিদ আওলাদ হোসেন জানান, এই আমের উদ্ভাবক ফার্মের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কয়ালদার কিডনি ড্যামেজ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি বিদেশে চিকিৎসাধীন। আওলাদ হোসেন জানান, গত বছর এই বেনানা ম্যাংগো গাছে প্রথম আম আসে। এবারও অনেক আম এসেছে। তিনি আমের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেন, দেরিতে পাকে। প্রচুর আম ধরে। পুষ্ট হলে নজরকাড়া রঙ আসে। আম পাকার পরও ২০ থেকে ২৫ দিন খাওয়ার উপযোগী থাকে। প্রতি বিঘা জমিতে ২৫টি গাছ লাগানো যাবে। বছরে কম করে ৬০ মণ আম পাওয়া যাবে। এক থেকে দেড় লাখ টাকার আম বেচাকেনা যাবে। সর্বোপরি যখন দেশের কোথাও আম পাওয়া যায় না, তখন এ আম পাওয়া যাবে। ব্যাপক এই আমের চাষ হলে বিদেশী আম আমদানি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের আমই বিদেশে রফতানি সম্ভব হবে। সঞ্জয় কুমার কয়ালদার জানান, মেহেরপুরের মাটির গুণের কারণে আমটি সুস্বাদু। অন্য জেলার মাটিতে এই আমের এমন স্বাদ নাও থাকতে পারে। তবে নিু আয়ের মানুষ একবিঘা জমিতে এই আমের চাষ করে সারাবছরের অভাব মেটাতে পারবে।

আঁচার খেতে কে না পছন্দ করে! বাংলাদেশের বাঙ্গালী কিংবা ইন্ডিয়ার বাঙ্গালী, যে দেশের বাঙ্গালীকেই বলুন না কেন, সবাই আঁচারের নাম শুনলে জিবে জল নিয়ে আসবেই! আর আমাদের মায়েরা/মেয়েরা! ওহ মাই গড!  আহ, আঁচার! আমায় একটু দে না!

কাঁচা আমের দিন চলে যাচ্ছে। এবার আমাদের বাসায় অনেক আঁচার বানানো হয়েছে। এবার আমাদের আঁচার ইটালী, থাইল্যান্ড গিয়েছে, হা হা হা।

দেশে বন্ধুদের মাঝে তেমন এবার বিলাতে পারি নাই। দ্রব্যের মুল্যবৃদ্বি আমাদের মত পরিবারের জন্য একটা বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাঁচা আমের দাম এবং মশলাপাতির দাম গত বছরের তুলনায় বেড়েই চলছে। সে অনুসারে ইনকাম বাড়ে নাই! স্যাড! ইচ্ছা থাকলেও উপায় নাই! লোকে বলে ইচ্ছা থাকলে উপায় আসে, আমি বলি না! কার কাছে মনের দুঃখের কথা বলবো!

বর্তমান বাংলাদেশে মাঝারি পরিবার গুলোর (হালকা সৎ) দেখার কেহ নেই!যাই হোক, হাতে সময় নেই। সুযোগ পেলে পুরা রেসিপি দেখিয়ে দেব। এখন চলুন, ছবি দেখি। আমের টক ঝাল মিষ্টি আঁচার।বলা বাহুল্য, আমি নিজে এখন আঁচার বানাতে/রান্না করতে পারি! তবে এটা আরো শিখতে হবে, আঁচারে অভিজ্ঞতা জরুরী। আঁচার রান্নায় হাতের জোর থাকা চাই, বার বার নাড়াতে হয়!

প্রনালীঃ  মরিচ গুড়া তৈরী-

ছবি ১


ছবি ২

মুল আঁচার তৈরী-

ছবি ৩


ছবি ৪


ছবি ৫


ছবি ৬


ছবি ৭


ছবি ৮


ছবি ৯


ছবি ১০


ছবি ১১


ছবি ১২


ছবি ১৩


ছবি ১৪-

..........শেষ.........

সবাইকে শুভেচ্ছা।

ভাগ্যের অন্বেষণে বিদেশে যেতে চেয়েছিলেন জুয়েল। কিন্তু অনেক ঘোরাঘুরি করেও যেতে পারেননি। চাকরির জন্যও চেষ্টা করেছিলেন। তাতেও সফল হননি। শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে নিজ বাড়ির পতিত জমিতে শুরু করেন ফলের বাগান। আর এই ফলের বাগানই বদলে দিয়েছে জুয়েলের ভাগ্য।
জুয়েলের আসল নাম আমিনুল হক। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ফুলতলা গ্রামে তার বাড়ি। জুয়েল তাদের বাড়ির পাশে ফলের বাগান করে কয়েক বছরের মধ্যেই ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। তার বাগান দেখে উৎসাহিত হয়ে আশেপাশের এলাকার অনেকেই ফল বাগান করেছেন।
যেভাবে শুরু : ছোটবেলা থেকেই জুয়েল দেখেছেন এলাকার অনেকেই বিদেশে গিয়ে চাকরি করে অবস্থার পরিবর্তন করছেন। তাই তারও খুব ইচ্ছা ছিল বিদেশে যাওয়ার। ১৯৯২ সালে এসএসসি পাসের পরেই বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি চেষ্টা শুরু করেন। কয়েক বছর চেষ্টার পর তাতে ব্যর্থ হয়ে ছোটখাট চাকরিও খুঁজতে থাকেন। কিন্তু তার ভাগ্যে চাকরিও জোটে না। অত:পর ১৯৯৬ সালে পার্শ্ববর্তী বাঁশি গ্রামের এক বাড়িতে কয়েকটি লিচু গাছে প্রচুর লিচুর ফলন দেখে তিনি উৎসাহিত হন ফল বাগান করার জন্য। এজন্যে তিনি বাবার কাছ থেকে টাকাও নেন এবং ৩০টি লিচুর চারা এনে লাগিয়ে দেন বাড়ির পাশের পতিত জমিতে।
জুয়েল বলেন, আমার বাগান করা দেখে অনেকেই বলতেন, ‘মাথা খারাপ হয়েছে’, ‘জমি নষ্ট করছে লিচু গাছ লাগিয়ে’, সবজি আবাদ করলেই ভালো হতো’ ইত্যাদি। কিন্তু ১৯৯৯ সালে যখন লিচু বাগানে ফল আসে তখন অনেকের ধারণা পাল্টে যায়। পরিবার থেকেও উৎসাহ দেয়া হয়। সেই বছরই জুয়েল তার বাগানে লিচুর পাশাপাশি আম্রপালি জাতের ৬টি আমের চারা রোপণ করেন। পরের বছরই এতে ফল পাওয়ায় তার উৎসাহ আরো বেড়ে যায়। এর মধ্যে জুয়েল কৃষি বিভাগ থেকে কলমের চারা তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এরপর সেই ৬টি আমের চারা থেকে কলম করে আস্তে আস্তে তিনশ’ চারা রোপণ করেছেন তার বাগানে। বর্তমানে জুয়েলের বাগানের ১৪ বিঘা জমিতে ৩০০ আম গাছ ছাড়াও ১০০ লিচু, ২০০ পেয়ারা ও শতাধিক কুল গাছ রয়েছে।
ফল উৎপাদনের পাশাপাশি কলমের মাধ্যমে চারা তৈরি করার উদ্যোগও নেন জুয়েল। ফলে ফল ও চারা বিক্রি করে তার ভালো আয় হচ্ছে। এ বছর আম, লিচু, পেয়ারা, কুল এবং এসবের চারা বিক্রি করে তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন।
জুয়েলের বাগানে একদিন : সম্প্রতি জুয়েলের বাগান দেখতে ফুলতলা গ্রামের দিকে যেতেই বোঝা গেল এলাকায় কতটা সাড়া জাগিয়েছেন তিনি। ফুলতলার কাছাকাছি গিয়ে ছেলে-বুড়ো যে কাউকেই ‘জুয়েলের ফল বাগান কোন্দিকে’ জিজ্ঞেস করতেই তারা পথ দেখিয়ে দেয়। বাগানে পৌঁছে দেখা যায়, সারি সারি আম, লিচু, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলের গাছ। জুয়েল বাগানে পরিচর্যা ও তদারকি করছিলেন।
শষ্ঠিচন্দ্র দাস নামের এক ফল ব্যবসায়ী ছিলেন সেখানে। তিনি জানালেন, জুয়েলের ফলের বাগানে কোন কেমিক্যাল দেয়া হয় না। তাই এখান থেকে প্রতি মৌসুমে আম, লিচু কিনে নিয়ে তিনি টাঙ্গাইল শহরে বিক্রি করেন।
কথা হয়, জুয়েল ও জুয়েলের স্ত্রীর সঙ্গে। জুয়েল জানান, বিভিন্ন সময়ে উপজেলা পর্যায়ে কালিহাতী ও জেলা পর্যায়ে টাঙ্গাইলে বৃক্ষ ও ফল মেলায় অংশ নিয়ে তিনি পুরস্কার লাভ করেছেন। ২০০৬ সালে জাতীয় পর্যায়ে ‘ফল বৃক্ষ রোপণ ও পরিচর্যা কৃতিত্বের’ জন্য ব্যক্তিগত শ্রেণীতে বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন।
জুয়েল বলেন, কালিহাতী ও ভূঞাপুর উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় দেড়শ’ ফল বাগান গড়ে উঠেছে। তাদেরকে আমি সব রকম সহায়তা করি। যারা ফল বাগান করতে আগ্রহী তাদেরকেও সহযোগিতা করে থাকি।
জুয়েলে এর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বাগানের গাছগুলোকে জুয়েল সন্তানের মত দরদ দিয়ে পরিচর্যা করেন।
অন্যেরা যা বলেন : জুয়েলের পার্শ্ববর্তী গ্রাম ঘরিয়ার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি জুয়েলের বাগান দেখে উৎসাহিত হয়ে নিজের বাড়ির একশ’ শতাংশ জমিতে আম ও লিচু বাগান করেছি। সহদেবপুর গ্রামের মজনু খান জানান, তিনি গত বছর দুই একর জমিতে ফল বাগান করেছেন। ফুলতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বিদেশে না গিয়ে বা চাকরির পেছনে না ঘুরেও যে স্বাবলম্বী হওয়া যায় তার প্রমাণ জুয়েল।
কালিহাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌর গোবিন্দ দাস বলেন, জুয়েলের বাগান দেখে অনেকেই উৎসাহিত হয়ে ফল বাগান করছেন। এ অঞ্চলে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মজিদ খান জানান, জুয়েলকে দেখে এই এলাকায় ছোট-বড় একশ’ ফল বাগান তৈরি হয়েছে। এসব বাগান ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরনেও ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জুয়েলের স্বপ্ন : যারা বাগান করতে চায় তাদের পরামর্শ ও ভাল চারা সরবরাহ করেন জুয়েল। যার যেটুকু জায়গা আছে সেখানেই ফলের গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। জুয়েল বলেন, বাড়িতে ফল গাছ লাগালে বিষমুক্ত ফল খাওয়া যায়। পাশাপাশি ফল বিক্রি করেও লাভবান হওয়া যায়। জুয়েল এখন স্বপ্ন দেখেন, ভবিষ্যতে টাঙ্গাইল অঞ্চল ফলের অঞ্চল হিসেবে খ্যাতি লাভ করবে।

Rajshahi Mangoআগে যেটি ছিল জুস তা এখন ড্রিংকস, বছর খানেক আগেও শহর কিংবা গ্রামে সব জায়গার দোকানেই হরদম বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত আমের জুস বিক্রি হতো। অসহ্য গরমে আম আছে মনে করে সবাই নিশ্চিন্ত মনে সেসব জুস খেতেন।
কিন্তু দেশে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই বলছে, জুস ও ড্রিংকসের নতুন মান নির্ধারণ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠানও আমের জুস উৎপাদন কিংবা বাজারজাত করার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেনি। এর মানে হলো, বাজারে এখন আর বিএসটিআই অনুমোদিত কোনো আমের জুস নেই। আগে যেসব প্রতিষ্ঠানের ‘আমের জুস’ বিক্রি হতো, সেগুলো এখন হয়ে গেছে ‘আমের ড্রিংকস’। বলা যায়, ফলের রস নয়, এখন পাওয়া যাচ্ছে ফলের পানীয়।
বিএসটিআই বলছে, নতুন মান নির্ধারণ করার পর শুধু একটি কোম্পানি বিএসটিআইয়ের কাছ থেকে জুস তৈরি ও বাজারজাত করার লাইসেন্স নিয়েছে। সেটিও একটি আনারসের জুস।
বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম সার্টিফিকেশন মার্কস) কমল প্রসাদ দাস বলেন, ‘নতুন মান নির্ধারণের পর নতুন করে এখন আর কেউ আমের জুসের লাইসেন্স নিচ্ছে না। আগে যারা জুস তৈরি করত, তারাও এখন ড্রিংকসে চলে গেছে। এখন বাজারে বিএসটিআই অনুমোদিত আমের জুস বলতে কিছু নেই। তবে এই সময়ে একটি কোম্পানি আনারসের জুস তৈরির লাইসেন্স নিয়েছে।’
অবশ্য বাজারে বিদেশ থেকে আমদানি হওয়া কিছু জুস বিক্রি হচ্ছে।
বিএসটিআই নির্ধারিত নতুন মান অনুযায়ী, ফলের জুস বা রসে ওই ফলের অন্তত ৮৮ শতাংশ প্রাকৃতিক উপাদান (ফ্রুট পাল্প) থাকতে হবে। আর ফলের ড্রিংকসে বা পানীয়তে প্রাকৃতিক উপাদান থাকতে হবে অন্তত ১০ শতাংশ। আগের মান অনুযায়ী, ফলের জুসে ২৫ শতাংশ ও ড্রিংকসে ১০ শতাংশ প্রাকৃতিক উপাদান থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল।
বিএসটিআই জুস ও ড্রিংকসের এই নতুন মান নির্ধারণ করে গত বছরের জুনে। এর পরই প্রাণের আট ধরনের ড্রিংকসের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। নতুন এই মান নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চলতে থাকে বিএসটিআইয়ের নানা আলোচনা। তবে বিএসটিআই তাদের নির্ধারিত মানেই অটল থাকে। বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই মান এ বছরের জুন থেকে কার্যকর হয়েছে।
জুসে ফলের প্রাকৃতিক উপাদান কম থাকায় আগে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই থেকে অনুমোদন নিয়ে জুস উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল প্রাণ-আরএফএল গ্র“পের ফ্রুটো, আকিজ গ্র“পের ফ্রুটিকা, গ্লোবের ম্যাঙ্গোলি, আবুল খায়ের গ্র“পের স্টারশিপ, সজীব গ্র“পের সেজান। বিএসটিআই বলছে, নতুন মান নির্ধারণের পর এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সবাই এখন জুসের বদলে ড্রিংকসের লাইসেন্স নিয়েছে।
ফলের ড্রিংকস বিএসটিআইয়ের ১৫৫টি বাধ্যতামূলক পণ্যের আওতাভুক্ত নয়। অর্থাৎ যে ১৫৫টি পণ্য অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়ে বাজারজাত করতে হয়, তার মধ্যে ড্রিংকস পড়ে না। তবে বিএসটিআইয়ের লোগোসহ ড্রিংকস বাজারজাত করতে চাইলে বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মান অনুযায়ী ওই পণ্যের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত (ভলান্টারি) লাইসেন্স নিতে হয়। তবে জুস ১৫৫টি বাধ্যতামূলক পণ্যের অন্তর্ভুক্ত। বিএসটিআই জুস-ড্রিংকসের তিন বছরের জন্য লাইসেন্স দেয়।
বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন মান নির্ধারণের ঠিক আগে দু-একটি প্রতিষ্ঠান তাদের জুসের লাইসেন্স নবায়ন করেছিল। সেদিক থেকে হয়তো দু-একটি প্রতিষ্ঠানের জুস তৈরির লাইসেন্স আছে। তারাও আর জুস তৈরি করছে না। কারণ, তা তৈরি করতে হবে নতুন মান অনুযায়ী।’
তবে নতুন মান নির্ধারণের পর বাংলা-ডাচ্ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান আনারসের জুসের একটি লাইসেন্স নেয়। বাংলাদেশ ও হল্যান্ডের যৌথ বিনিয়োগে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটির জুসের নাম ‘আই এম রিয়েল’। এ বছরের ফেব্র“য়ারি থেকে জুসটি বাজারজাত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কারখানা টাঙ্গাইলের মধুপুরে।
জুস-ড্রিংকসের নতুন মান নির্ধারণের পর গত বছরের অক্টোবরে মানহীন জুস-ড্রিংকসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বিএসটিআই। সে সময় বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের ফ্রুট ড্রিংকসের লাইসেন্স বাতিল করে সংস্থাটি। এর মধ্যে ছিল প্রাণের আট ধরনের ফ্রুট ড্রিংকস, প্রমি অ্যাগ্রো ফুডসের প্রমি (লিচি ও অরেঞ্জ), মডার্ন ফুড প্রোডাক্টের ফ্রুট ড্রিংকস মডার্ন, নিউট্রি অ্যাগ্রো ফুডস অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের ফ্রুট ড্রিংকস নিউট্রি অরেঞ্জ, সাফা কনজুমারস প্রোডাক্টসের ফ্রুট ড্রিংকস রকস্টার।
অভিযোগ ছিল, এসব ড্রিংকসে যে ফলের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই ফলের ১০ শতাংশ প্রাকৃতিক উপাদান খুঁজে পায়নি বিএসটিআই।

Rajshahi Mango

আম নিয়ে সরগরম রাজশাহী। তবে, এক শ্রেণীর সুবিধাবাদি ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় আমে মেশাচ্ছেন ক্ষতিকর ওষুধ। এতে একদিকে আম নিয়ে সংশয়ে পড়ছে ক্রেতারা, সেই সঙ্গে রাজশাহীর আম নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা বদনাম।

রাজশাহী ও চাঁপাইয়ের আমের সুনাম দেশজুড়ে। এ এলাকা থেকে শত শত ট্রাক আম প্রতিদিনই যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। একারণে আম চাষের সঙ্গে জড়িতদের এখন দম ফেলার সময় নেই।
পুরানো খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় আমে ব্যহার করছে কেমিক্যাল। অপরিপক্ক আম পাকানো ও আমের সৌন্দর্য্য বাড়াতে  কার্বাইড ও ইথ্রিল ছাড়াও ব্যবহার করা হচ্ছে নানান ধরনের ওষুধ।

রাজশাহীর বাগানগুলোর ফজলি সবে পাক ধরেছে। অথচ ঢাকার বাজারে বেশ কিছুদিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছে পাকা ফজলি। যার অধিকাংশই কৃত্রিমভাবে পাকানো।  রাজশাহীর জেলা প্রশাসন মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীন অবশ্য এ নিয়ে মোটেই উদ্বিগ্ন নয়।

অভিজ্ঞজনেরা বলছেন, কেমিক্যাল মুক্ত আম পেতে হলে দোকানের থরে থরে সাজানো আকর্ষণীয় রং আর নজর কাড়া সৌন্দর্যের আমগুলো থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ।

Page 9 of 18