x 
Empty Product

আম ও আমজাত পণ্য রপ্তানী বিয়য়ে সেমিনার হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় রপ্তানীর প্রশিক্ষন কর্মসুচীর আওতায় শনিবার সকালে দিনব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ জাহিদুল ইসলাম। আলোচনার মাধ্যমে আম রপ্তানী ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ। রপ্তানী ব্যুরোর উদ্যোগে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সহযোগিতায় সিমিনারে বক্তব্য রাখেন ম্যাংগো প্রডিউসার মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও রপ্তানী ব্যুরোর গবেষণা কর্মকর্তা কাজী মোঃ সাইদুর রহমান, ম্যাংগো প্রডিউসার মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের জেলা শাখার সভাপতি মনিরুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তসলিমউদ্দিনসহ অন্যরা। সেমিনারে রিসোর্স পারসন হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভ্যেলুচেইন এক্সপার্ট ড. মোঃ সালেহ আহমেদ। সেমিনারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানত্তত্ব গবেষণা কেন্দ্রের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, হর্টিকালচারের কর্মকর্তা, জেলার বিভিন্ন আম ব্যবসায়ীদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ জেলার আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে জেলা থেকে দেশে ও বিদেশে আম রপ্তানী ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা এবং সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয়। গত বছর আমের মৌসুমে আম বাজারজাত করণের জন্য প্রশাসনের সময় বেধে দেয়ার কারণে জেলার আম ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমে কোন ফরমালিন ব্যবহার না হলেও এক শ্রেণীর অসাধূ ব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্রের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের সুনাম ক্ষুন্নের চেষ্টা করা হয়েছে। অন্য জেলার আমকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য চেষ্টা করাও হয়েছে। কিন্তু বছরে চাহিদার দেশের প্রায় অর্ধেক আম উৎপাদন হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। আবহাওয়া ও উর্বর জমিতে বিভিন্ন জাতের সুমিষ্ট আম উৎপাদন হয়। এবছর যেন আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেজন্য জেলা প্রশাসন, আম ব্যবসায়ী ও আম ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোকে নিয়ে সঠিকভাবে আম বাজারজাত করনের জন্য আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান সেমিনারে উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক। জেলার ব্যবসায়ীক উন্নয়নসহ সকল উন্নয়নের ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পৃথিবীর মধ্যে সু-স্বাদু ফল আম। এ আমকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাজারজাত করার জন্য রপ্তানীর বিকল্প নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সু-স্বাদু আম ইতোমধ্যেই রপ্তানী শুরু হয়েছে। অধিক হারে আম রপ্তানীর জন্য দুষণমুক্ত আম তৈরী, উন্নতমানের আকর্ষণীয় প্যাকেটিং ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আম রপ্তানীর জন্য সরকার সবধরনের সহায়তা প্রদান করবে। আম নির্দিষ্ট সময়ে ও পরিপুর্ণভাবে পুষ্ট হলেই আমকে বাজারজাত করতে হবে। হাতে গোনা দুই একজন অসাধু ব্যবসায়ী থাকলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কোন ভাবেই ফরমালিন/কারবাইট বা ক্ষতিকারক কোন কীটনাষক ব্যবহার করে আমের গুনগতমান খারাপ হতে দেয়া হবেনা। তিনি আম ব্যবসায়ীদের সবধরনের সহায়তা করার আশ্বাস প্রদান করেন। চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, প্রশাসনের কোন অনিয়মতাত্রিক নীতিমালা দিয়ে আম ব্যবসায়ীদের বিপদগামী করে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হলে তা মানা হবেনা। আমকে স্বাভাবিক গতিতেই বাজারজাত করা হবে। কোন অসাধু ব্যবসায়ী কোন অসৎ উদ্দেশ্যে কেমিক্যাল ব্যবহার করলেই আম ব্যসায়ীরাই তার সমুচিৎ জবাব দিবেন। তিনি আম রপ্তানীর সরকারী সুযোগ গ্রহণ করে দেশে বিদেশে আম বাজারজাত করনের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

 কাঁচা আমের ডাল, খাটাই তথা ভর্তা বাঙালির যুগযুগের প্রাণের খাবার। চৈত-বৈশাখের ভ্যাপসা গরমের সময় কাঁচা আমের অম্বল বাঙালির রসনা তৃপ্ত করে আসছে সুদুর অতীতকাল থেকে। কিন্তু এ বছর নরসিংদীসহ দেশের অনেক সমতল ভূমিতেই আমের ফলন কম। আর এ সুযোগ গ্রহণ করেছে ফড়িয়া ব্যবসায়িরা। তারা ভারত থেকে একটু বড় আকারের কাঁচা আম আমদানী করতে শুরু করেছে। তবে দাম আকাশ ছোঁয়া। এক কেজি কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে আড়াইশত থেকে ৩০০ টাকা দরে। গতকাল রবিবার সকালে ব্রাহ্মন্দী নয়াবাজারে জনৈক ফড়িয়ার খাড়িতে প্রদর্শন করা হয় কাঁচা আম। হঠাৎ বাজারে কাঁচা আম দেখে এক মহিলা ক্রেতা দৌড়ে আম কিনতে যায়। কিন্তু দাম শুনে মহিলা একেবারেই থ-মেরে যায়। ফড়িয়া এক কেজি আমের দাম ছিল আড়াইশত টাকা। মহিলা দেড়শত টাকা কেজি দর দিবে বলে দীর্ঘণ অনুরোধ উপরোধ করে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত আম না কিনেই তাকে ফিরে যেতে হয় মহিলাকে। কাঁচা আমের এই দাম শুনে অন্যান্য সচেতন ক্রেতারা স্মৃতিচারণ করে বাংলাদেশে অতীতে কাঁচা আম নিয়ে। তারা জানায় কাঁচা আম কখনো বাজারে বিক্রি হতো না। ৭০ দশকেও নরসিংদীসহ দেশের মানুষের বাড়ি বাড়ি আম গাছ ছিল। দেশিয় আমে ভরপুর ছিলো গাছগুলো। প্রতিদিন সকাল বেলায় গাছের নিচে রাস্তা ধারে উচু হয়ে পড়ে থাকতো কাঁচা আম। আমের প্রাচুর্য এতবেশী ছিল যে মানুষ কাঁচা আম পায়ে দলে রাস্তা দিয়ে হেটে যেতো। কেউ অন্যের গাছের এসব কাঁচা আমের দিকে তাকাতো না। ছোট ছোট শিশুরা নদী থেকে ঝিনুক তোলে ইটে ঘসিয়ে কাটার বানিয়ে আম ছিলে খেতো। ছোট আম কাটার জন্য এক ধরনের ছোট চাকু বাজারে পাওয়া যেতো। এগুলোর নাম ছিল আম চাকু। এখন গাছে আগের মত আমও ধরে না, নদীতে ঝিনুকও নেই, নেই সেই আম চাকুও। এখন অভাবের বাজারে কাঁচা আমের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। প্রতি বছরই বাজারে কাঁচা আম আমদানী হয়। প্রথমে বিক্রি হয় অত্যন্ত চড়া দামে। মানুষ বাধ্য হয়ে চড়া দামে আম কিনে ডালের সাথে কাঁচা আম মিশিয়ে খাট্রা ডাল তৈরী করে খায়। ছোট বড় মাছ, লম্বা বেগুনের সাথে কাঁচা আম দিয়ে তৈরী করে আম খাট্রা বা অম্বল। দুপুরের সুটকির বোনা আর কাঁচা ডালের অম্বল বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে পরিচিত। একসময় এ খাট্রা বা অম্বল ছিল সাধারণ মানুষের খাবার। স্বল্প আয়ের মানুষেরা চৈত্র, বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য মাস পর্যন্ত এ খাট্টা রেধে খেতো। এখন এই কাঁচা আমের খাট্রা ধনিক শ্রেণীর মানুষের খাবারে পরিনত হয়েছে। চড়া দামে আম কিনে গরীব মানুষেরা খাট্টা খাবার কথা চিন্তা করতে না পারলেও ধনীর দুলাল দুলালীরা চড়া দামে কাঁচা আম কিনে ফ্রিজ পূর্ন করে রাখে।  আর গরীব মানুষেরা শুধু  তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে।

দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি’র এবারের পর্বটি চিত্রায়ন হবে আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ইত্যাদি’র নানান অনুষ্ঠান আমের বাগানে বাগানে চিত্রায়নের পাশাপাশি আম বাগানেই মঞ্চ তৈরী করে মঞ্চস্থ হবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা। যা বিটিভিতে ‘অন ইয়ার’ হওয়ার আগেই সরাসরি উপভোগ করবেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ।


সূত্র জানিয়েছে, জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজনের অংশ হিসেবে আমের মৌসুমকে সামনে রেখে ইত্যাদি কর্তৃপক্ষ এবারের পর্ব আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে ইত্যাদি’র একটি টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিদর্শনও করেছেন। ওই সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইত্যাদি’র পর্ব চিত্রায়নের সিদ্ধান্তের পর ইত্যাদি’র পক্ষ থেকে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকম’র সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের সাংবাদিক শহীদুল হুদা অলকের সঙ্গে। একইভাবে যোগাযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের সঙ্গেও। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ শেষে ইত্যাদি অনুষ্ঠানের সহকারী পরিচালক ও ফাগুন অডিও ভিশনের প্রোগ্রাম এক্সিউটিভ মোহাম্মদ মামুননের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি অগ্রগামি টিম রোববার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসেন। তারা ইত্যাদি অনুষ্ঠান চিত্রায়নের স্থান নির্ধারণের জন্য তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি আম বাগান পরিদর্শন করেন। সেই সব আম বাগানের ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কল্যাণপুর হর্টিকালচার সেন্টার, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র ( আম গবেষণা কেন্দ্র)। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন সাংবাদিক শহীদুল হুদা অলক।

ইত্যাদির সহকারী পরিচালক মামুন জানান, আম বাগানগুলোর ধারণ করা স্থির চিত্র ও ভিডিও ফুটেজগুলো নিয়ে ঢাকায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কোন স্থানে অনুষ্ঠান চিত্রায়ন হবে।


কবে অনুষ্ঠান চিত্রায়ন হবে এই দিনক্ষণ চুড়ান্ত না হলেও তিনি বলেন, ‘ আমের মৌসুম জমে উঠার সময় অর্থাৎ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের পরপরই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। তবে আগামী মাসের ১০-১২ তারিখের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনার ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হবে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঘুরে যাওয়া ইত্যাদির অগ্রগামী টিমের সদস্যরা জানিয়েছেন।


অগ্রগামি টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি এই নিয়ে নিরাপত্তার বিষয়সহ অন্যান্য ব্যাপারে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ আল মামুনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তিনি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের খোজ খবর ও সহযোগিতা নিতে যোগাযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. মাযহারুল ইসলাম তরু’র সঙ্গেও।
ইত্যাতির চার সদস্যের একটি অগ্রগামী টিম গত দুই দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থানের পর মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরে গেছেন।


এদিকে, ইত্যাদির এবারের পর্ব চাঁপাইনবাবগঞ্জে চিত্রায়ন হবে এমন খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই যেন ফেসবুকে ভক্তদের উচ্ছাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিজের ফেসবুক একাউন্টে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইত্যাদি অনুষ্ঠান করার জন্য ইত্যাদি টিমকে ধন্যবাদ দেন। কেউ কেউ আবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইত্যাদির মত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হচ্ছে এজন্য নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে এমনও কথা বলেছেন। কবে ধারণ করা হবে সেই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি, এটা না জানলেও এ নিয়ে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের উচ্ছাস যেন থামছেই না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক নতুন জাতের আম উদ্ভাবন করেছে আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। জানুয়ারি থেকে মার্চ এই সময়ে যখন গাছে গাছে আমের মুকুলের সমারোহ তখন খাওয়ার উপযোগী হয়ে উঠে এই জাতের আম। গবেষকরা বলেছেন, অসময়ে উন্নত জাতের আমের বৈশিষ্ট্য স্থায়ী হলে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই আমের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদি সংশ্লিষ্টরা।আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে যখন লাখ লাখ গাছে আমের মুকুলের সমারোহ তখন অসময়ে গাছে আম দেখে অবাক হবেন অনেকেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে যখন থোকায় থোকায় ঝুঁলছে আম কোনোটিতে ধরেছে হলদে রংয়ে ছোঁয়া। আগাম আমের এই জাত উদ্ভাবন করেছেন জেলার আঞ্চলিক উদ্যান তত্ত্বের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জমির উদ্দিন। তিনি জানান, এই আম পেকে যায় জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যেই। আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ গ্রাম এই আম এরই মধ্যে চাষীদের মধ্যে বেশ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হামিম রেজা বলেন, এই আমটি সিজেনেও হবে আবার অফ সিজেনেও হবে। এই আমটি আমরা অফ সিজেনে পেলে আমাদের দেশের চাহিদা মেটাতে পারব।

নতুন এই আমের নামকরণ করা হয়নি এখনও। তবে অসময়ে উৎপাদিত এই আমের চাহিদা ও বাজার মূল্য নিয়ে বেশ আশাবাদি সংশ্লিষ্টরা।চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. সাজদার রহমান বলেন, অসময়ে এই আমটি চাষের ফলে কৃষকরা ভাল দাম পাবে। এটি একটি ভাল দিক হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি মো.আব্দুল মান্নান আকন্দ বলেন, যে সকল কৃষক এই আম চাষ করবে তাঁরা ভাল মূল্য পাবে। আর আমরাও সারা বছর ধরে আম পাব এটিও একটি ভাল বিষয়।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সিটিটিউটে আমের নতুন এগারো জাতের মধ্যে আটটিই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের লাখ লাখ আমগাছে এখন মুকুলের সমারোহ। ব্যতিক্রম শুধু আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (আম গবেষণা কেন্দ্র) কয়েকটি গাছ। এখানে কয়েকটি গাছে ডাঁসা ডাঁসা আম। একটি গাছে আছে পাকা আমও।
এর আগে ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাসে কিছু আম পেকেছিল। আর এখনকার ডাঁসা আমগুলো পাকবে মধ্য মার্চে। গাছগুলোর এ বৈশিষ্ট্য স্থায়ী হলে দেশে আম উৎপাদনে বিপ্লব ঘটবে বলে আশা বিজ্ঞানীদের।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে অমৌসুমের আম নিয়ে গবেষণা পরিচালনাকারী আম গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জমির উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, গবেষণার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা গাছের সায়ন (কলম করার উপযোগী কচি ডগা) থেকে চারা উৎপাদন করে গবেষণা কেন্দ্রে লাগানো হয় ২০০২ সালে। এর মধ্যে কয়েকটি গাছে মে মাসে মুকুল ধরে। ওই গাছের আম পাকে সেপ্টেম্বর মাসে। কয়েক বছর ধরে এ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। তিনি ওই গাছের সায়ন নিয়ে কয়েকটি চারা কলম লাগান ২০১২ সালে। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসজুড়ে ওই গাছগুলোতে তিন দফায় মুকুল ধরতে দেখা যায়। অন্যদিকে আগের মাতৃগাছে সেপ্টেম্বরে আম পেড়ে নেওয়ার পর এক মাস পরেই আবারও মুকুল ধরে অক্টোবরে।
জমির উদ্দীন বলেন, সাধারণত দেখা যায়, যে গাছের সায়ন নিয়ে চারা কলম করে গাছ হয়, সেই গাছ মাতৃগাছের গুণাগুণ বহন করে। কিন্তু তিন বছর বয়সী দুটি গাছে মুকুল ধরল আগস্ট মাসে তিনবারে। এ দুটি গাছের কিছু আম পেকেছে গত ৬, ৮ ও ২৪ ডিসেম্বর এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি। এখনো গাছে আছে দুটি পাকা আম। ধারণা করা হচ্ছে, বাকি আম পাকবে মধ্য মার্চের দিকে। অন্যদিকে মাতৃগাছের আম পাকবে মার্চের শেষের দিকে।

ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে আমের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও। মাতৃগাছের আম টক ও আঁশযুক্ত। কিন্তু নতুন গাছের আম সুস্বাদু, দেখতেও আকর্ষণীয়। গাছেই হলুদাভ রং ধারণ করে। মিষ্টতা ১৮ থেকে ২০ শতাংশ। খাদ্যাংশ ৭৮ শতাংশ। এ আমের অন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি তেমন রসাল নয়। দানা দানা ভাব আছে, যা বিদেশিদের কাছে পছন্দনীয়। 

আম বিজ্ঞানী জমির উদ্দীন বলেন, জিনগত পরিবর্তনের কারণেই মাতৃগাছের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নতুন গাছের বৈশিষ্ট্যের মিল না হয়ে পরিবর্তন দেখা দেয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় একে ‘মিউটেশন’ বলা হয়ে থাকে। এটা বিস্ময়কর ঘটনা।

আম গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হামিম রেজা প্রথম আলোকে বলেন, উন্নত জাতের মিষ্টি আমের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নতুন এ আমের তুলনা করা যায়। এ আমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এ আম অমৌসুমি, যা ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এ বৈশিষ্ট্য স্থায়ী হলে আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আরও বছর দুয়েক গবেষণার পর এটা চাষি পর্যায়ে ছড়ানো হবে।

ডায়াবেটিস রুখবে আমফলের রাজা আম। হলুদ, টকটকে পাকা ও সুস্বাদু আম দর্শনেই জিভে জল এনে দেয়। এই আমের গুণও অপরিসীম। জানা গেছে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যদি থাকে ১০০ গ্রাম আম থাকে তবে রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে পারে।পরীক্ষা চালানো হয়েছিল ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ২০ জন মোটা মানুষের মধ্যে। টানা ১২ সপ্তাহ ধরে রোজ আম খাওয়ার ফলে কমেছিল রক্তে শর্করার মাত্রা। কিন্তু কমেনি ওজন। পুরুষ অংশগ্রহণকারীদের কোমরের মাপও কমেছিল। যদিও, মহিলাদের কোমরের মাপ অপরিবর্তিত ছিল। আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ভিটামিন সি ও এ এবং ফলেট। ফাইবার, তামা ও ভিটামিন বি সিক্স আমের মধ্যে থাকে ভাল মাত্রায়। ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এড্রালিন লুকাস জানালেন, আমের মধ্যে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার রক্তে শর্করা শোষণের মাত্রা কমাতে পারে।ইন্টারন্যাশনাল ডায়বেটিস ফেডারেশনের সমীক্ষা অনুযায়ী ভারতে ৬০ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিস রয়েছে। নাগরিক জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ও গ্রাম্য জনসংখ্যার ৫ থেকে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ওজনের শিকার। ওজনে বেশি হওয়ার কারণে শরীরে বাসা বাঁধে ডায়াবেটিস। রক্তচাপের মাত্রা বাড়ে, বাড়ে রক্তে কোলেস্ট্রলের মাত্রাও। লিভারেরও অসুখ হতে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানগুলোতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হয়েছে 'ফ্রুট ব্যাগিং' প্রযুক্তির ব্যবহার। চীনের এ প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের ফলে আমচাষিরা এরই মধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছেন।

আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. সরফ উদ্দীন জানান, চীনের ফ্রুট ব্যাগিং আম উৎপাদনের জন্য একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি। ফ্রুট ব্যাগিং বলতে গাছের ফল বিশেষ ধরনের ব্যাগ দ্বারা আবৃত করাকে বোঝায়। ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত ফলসহ গাছেই থাকে ব্যাগটি। বিভিন্ন জাতের ফলের জন্য বিভিন্ন রঙ এবং আকৃতির হয়ে থাকে এই ব্যাগ। তবে আমের জন্য দুই ধরনের ব্যাগ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। রঙিন আমের জন্য সাদা রঙ এবং অন্য সব জাতের আমের জন্য বাদামি রঙের ব্যাগ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত বছর ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার পর এবার ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি জেলার সর্বত্র আমচাষিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। চীন থেকে বিশেষ ধরনের এই ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি আমদানি করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রবিউল এন্টারপ্রাইজ।

আম নিয়ে গবেষণাকারী বিজ্ঞানীরা জানান, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আম উৎপাদনে একদিকে যেমন ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস পাবে, তেমনি বিদেশের বাজারে এ দেশের সুমিষ্ট আম রফতানির দ্বার উন্মোচিত হবে। ফলে আম রফতানিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৪ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বর্তমানে আমবাগান রয়েছে। উত্তরোত্তর আমের বাগানে গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বাণিজ্যিক কারণে। আমচাষিরা আগের চেয়ে আরও যত্নশীল হয়েছেন বাগান পরিচর্যায়। আমে মাছি, বিভিন্ন পোকা বা ফ্রুট ফ্লাইয়ের আক্রমণ রোধে কীটনাশক ব্যবহারের হার অনেক বেড়ে গেছে। অধিক ফলন পেতে ভালো-মন্দ বাছবিচার না করে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে আমের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও পড়ছে এর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রতিক্রিয়া। মানুষের স্বাস্থ্যকেও করে তুলছে ঝুঁকিপূর্ণ।

এ অবস্থায় মাছি-পোকাসহ বিভিন্ন ছত্রাকের আক্রমণ থেকে বাগানের গাছ ও আমের ফলন রক্ষায় গত বছর চীনের 'ফ্রুট ব্যাগিং' প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা শুরু করে এ জেলার আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র। চীন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের আম উৎপাদনকারী দেশের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে এই বিশেষ পদ্ধতির সম্ভাবনা যাচাই করেন বিজ্ঞানীরা। গত বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ১৮টি জাতের আমগাছে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাফল্য পাওয়া যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাগিং করা আম দীর্ঘদিন ঘরে রেখে খাওয়া যায়। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে আম সংরক্ষণ করতে ফরমালিন নামক বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রয়োজন হবে না। তা ছাড়া বাইরের বিভিন্ন ধরনের আঘাত, পাখির আক্রমণ, প্রখর সূর্যতাপ এবং রোগ ও পোকামাকড়ের সংক্রমণ থেকে সহজেই রক্ষা করা সম্ভব হবে আম। নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাগিং করা গেলে কোনো রাসায়নিক স্প্রে ছাড়াই ক্ষতিকর পোকার হাত থেকে আম রক্ষা করা সম্ভব। সেই আম সংরক্ষণ নিয়েও থাকবে না কোনো জটিলতা। যা স্বাস্থ্যের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ বলে দাবি করেন তিনি।

ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে বিজ্ঞানী ড. সরফ জানান, ৩৫-৪০ দিন বয়সের আম ব্যাগিং করার উপযুক্ত সময় । তবে এর পরেও ব্যাগিং করা যায়। ব্যাগিং করার আগে আমগাছে দু-তিনবার হালকা কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্টেপ্র করা যেতে পারে। ভেজা অবস্থায় ফল কোনো প্রকারেই ব্যাগিং করা যাবে না বলে সতর্ক করেন তিনি। এ ছাড়া ব্যাগিং করার আগেই গাছের মরা-শুষ্ক মুকুল বা পুষ্পমঞ্জরির অংশবিশেষ, পাতা বা উপপত্র ছিঁড়ে ফেলতে হবে এবং আমটি ব্যাগের মাঝ বরাবর যেন থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাগের ওপরের প্রান্তটি ভালোভাবে মুড়িয়ে দিতে হবে, যেন পানি বা অন্যকিছু প্রবেশ করতে না পারে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে এ ব্যাগ উৎপাদন না হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক প্রতিষ্ঠান এই ব্যাগ চীন থেকে সরাসরি আমদানি করে কৃষকদের সরবরাহ করছে। প্রতিটি সাদা ব্যাগ ৩ টাকা এবং বাদামি ব্যাগের খুচরা মূল্য ৪ টাকা রাখা হয়েছে।

তবে বহুজাতিক কীটনাশক উৎপাদনকারী কোম্পানি সিনজেনটার কৃষিবিদ তোফাজ্জল হোসেন খান ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, এ প্রযুক্তি বাংলাদেশে আমের জন্য কার্যকর নয়। কারণ আমগাছ বড় হওয়ায় গাছের প্রতিটি আমে এ ব্যাগ পরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। তা ছাড়া উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাবে আম চাষে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. সরফ উদ্দীন বলেন, পরীক্ষামূলক শুরু হয়েছে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির ব্যবহার। আগামীতে আরও উন্নত করা হবে এ প্রযুক্তি। যেন প্রতিটি বাগানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ গাছে এই ব্যাগ ব্যবহার করা সম্ভব হয় এবং এ থেকে কৃষকরা ব্যাপক সুফল পেতে পারেন।

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির ব্যবহার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত বছর ব্যাপক সফলতা পাওয়ায় এবার তা আম চাষিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। জেলার আমচাষিদের মাঝে সরবরাহের জন্য এরই মধ্যে চীন থেকে বিশেষ ধরনের এই ব্যাগ আমদানি করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ফল বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আম উৎপাদনে একদিকে যেমন ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ হবে, সেই সাথে বিদেশের বাজারেও সুমিষ্ট আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম রফতানির দ্বার উন্মোচিত হবে।
সড়কের ধারে সারিসারি আমগাছ আর সুস্বাদু আমের কথা আসলেই চলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাম। জেলায় প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়। কিন্তু আমের মাছি পোকা বা ফ্রুট ফ্লাইয়ের আক্রমণ রোধে এখন কীটনাশক ব্যবহারের হার অনেক বেড়ে গেছে। অধিক ফলন পেতে ভালো-মন্দ বিচার না করেই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে আমের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এ অবস্থায় মাছি পোকার আক্রমণ থেকে আম রক্ষায় গতবছর নতুন এক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. সরফ উদ্দিন। বিভিন্ন দেশে ব্যবহার হওয়া ফ্রুট ব্যাগ পদ্ধতি ব্যবহার করে বাংলাদেশে তার সম্ভাবনা যাচায় করেন তিনি। গতবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের কয়েকটি আম গাছে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি সাফল্য পান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের( কানসাটের) রাসায়নিকমুক্ত আম রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। বিশেষ ধরনের কাগজের ব্যাগ দিয়ে আবৃত করা এসব আম আজ বৃহস্পতিবার বিমানযোগে যুক্তরাজ্যে যাবে।ওয়ালমার্ট এসব আমের ক্রেতা। আজ দুই হাজার কেজি ল্যাংড়া ও ফজলি আম পাঠানো হচ্ছে।স্থানীয় আম ব্যবসায়ীরা জানান, দেশজুড়ে বিখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম।

এ আম বিদেশে কিভাবে রপ্তানি করা যায় তা অনেক আগে থেকেই চিন্তাভাবনা করা হচ্ছিলো।তবে প্রচার ছিলো, এখানকার আমে অতিরিক্ত রাসায়নিক বালাইনাশক স্প্রে করা হয়।তাই নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষ্যে গত বছর চীন থেকে ফ্রুট ব্যাগ আমদানি করা হয়। এরপর এ ফ্রুট ব্যাগ আমে আবৃত করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

সফল পরীক্ষার পর এ বছর আম রপ্তানির জন্য ব্যবসায়ীদের ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (আম গবেষণা কেন্দ্র) তথ্য মতে, চলতি বছর ১ লাখ ৫০ হাজার আমে ব্যাগিং করা হয়। এতে করে ১০০ মেট্রিক টন নিরাপদ আমের উৎপাদন নিশ্চিত হয়।ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তিতে আম উৎপাদনকারীরা রপ্তানিকারক মেসার্স দ্বীপ ইন্টারন্যাশনালকে দুই হাজার কেজি আম সরবরাহ করেন।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ল্যাংড়া প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফজলি আম এখনো বাজারের সেভাবে নামেনি। আগাম জাতের ফজলি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। চাষিরা ওয়ালমার্টের কাছে ল্যাংড়া ৭০ টাকা কেজি ও ফজলি ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।

Bagging_2015 (Custom)

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সহ ৮ জেলায় প্রথম বারের মত এ বছর আম গাছে বানিজ্যিক ভাবে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। আর এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এ বছর ওই সব আম বাগান থেকে সব মিলিয়ে ৮-১০ টন নিরাপদ বিষমুক্ত ও রপ্তানীযোগ্য আম উৎপাদিত হবে বলে আশা করছেন এর সাথে সংস্লিষ্টরা।
এ প্রযুক্তিটির বাংলাদেশে প্রধান গবেষক চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: শরফ উদ্দিন বলেন গতবছর চীনের একটি কম্পানী আমাদের গবেষনার জন্য কিছু ব্যাগ প্রদান করে। পরে আমরা আমাদের গবেষনা কেন্দ্রে  ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো সাফল্য পেয়েছি। তিনি বলেন সাধারনত একটি আম গাছে বিভিন্ন ধরনের যে কীটনাশক স্প্রে করা হয় তার খরচ এর থেকে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের খরচ অনেক সাশ্রয়ী। বরং এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিষমুক্ত আম উৎপাদন সম্ভব এবং এতে আম বাগান মালিক বা চাষীরা অধিক বেশি লাভবান হবে।
বাংলাদেশে মাঠ পর্যায়ে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি জনপ্রিয় করতে কাজ করা এ গবেষক আরো বলেন এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে বানিজ্যিক ভাবে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে অনেক বাগান মালিক। এবছর সবমিলিয়ে মাত্র ৩ টাকা- ৫ টাকা মূল্যের এ ফ্রুট ব্যাগ প্রায় ৫০ হাজার ব্যবহৃত হয়েছে এ জেলায়। এছাড়াও রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, গোপালগঞ্জ,রাঙ্গামাটি, বান্দরবন ও খাগড়াছড়ি জেলায়ও ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন বাগান মালিকরা। সবমিলিয়ে ফ্রুট এবছর ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ১ লাখের মত।
এবছর ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করা বাগান মালিক চাঁপাইনবাবগঞ্জে শহরের বেলেপুকুল এলাকার জিএম রহমান পলাশ জানান, তিনি তার বাগানে প্রায় ৪ হাজার মত আমে ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহররের পালশা এলাকায় আমার আমের বাগানে গাছের যতগুলো আম সম্ভব হয়েছে সবগুলোই চেষ্টা করেছি ব্যাগ পরানোর। এতে করে আমাকে আর কোন কিটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে না। এছাড়াও বিষমুক্ত আম হওয়ায় আমি বাজারে অন্য আমের চেয়ে আমার আমের মূল্য বেশি পাব। এছাড়াও এ আম বিদেশে  পাঠানো সম্ভব, এ বিষয়টিতে যদি সরকারি বেসরকারি ভাবে উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলে আমরা আরো বেশি লাভবান হব। তিনি আরো বলেন শুধু আমি না চাঁপাইনবাবগঞ্জের  অনেক বাগানে বেশি পরিসরে না হলেও প্রাথমিক ভাবে কিছু কিছু গাছে এ ব্যাগ ব্যবহার করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাইরে রাজশাহীতেও প্রথম বারের মত ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন কোর্ট স্টেশনের পার্শ্বে হড়গ্রাম নতুন পাড়া এলাকার বাগান মালিক বেলাল উদ্দীন ( বেলাল হুজুর, হড়গ্রাম নতুন পাড়া মসজিদের খতিব) তিনি জানান, আমার ৩০ টির মত গাছ আছে আমি এবছর প্রথম দিকে কিটনাশক স্প্রে করেছি, পরে এ ব্যাগ সম্পর্কে জানতে পেরে ১৫ দিন আগে ২ হাজার ব্যাগ নিয়ে এসেছি, সবগুলো এখনো লাগানো হয়নি, এখনো ২০০ মত আছে, আগামী কালকের মধ্যে লাগানো শেষ করব। তিনি বলেন আম ছিদ্রকারী পোকার আক্রমন ও মাছি পোকা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই ব্যাগ গুলো লাগালাম। এবার ভালো রেজাল্ট পেলে আগামীতে আরো বেশি সংখ্যক আমে এ ব্যাগ  ব্যবহারের কথা জানান তিনি।

ফ্রুট ব্যাগ প্রযুক্তি ব্যবহার করা নওগা জেলার জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের জি এম  রহমান পলাশের মাধ্যমে এ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারেন, পরে তিনি নাটোরের নলডাঙ্গা থানার পশ্চিম মাধনগর কাঁজী পাড়া এলাকায় থাকা তার আম বাগানে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন এবছর। তিনি জানান, ৩ বিঘা বাগানে এ বছর আমি ৩ হাজার ৮০০ টি ব্যাগ ব্যবহার করেছি। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে খরচ কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিটনাশক ব্যবহারে যে খরচ হয় তার চেয়ে কমই খরচ হয়েছে তবে ব্যাগ কিনতে টাকাটা  একবারে লাগে আর কিটনাশক প্রয়োগ করলে বারে বারে আস্তে আস্তে টাকা খরচ হতো।

ড. মো: শরফ উদ্দিন বলেন গতবছর আমাদের কাছে অনেক বাগান মালিক এ ব্যাগ চেয়েছে কিন্তু আমরা তা দিতে পারেনি। কিন্তু এ বছর বেসরকারি আমদানী কারক পর্যাপ্ত পরিমানে ব্যাগ আমদানী করায় যে কেউ ইচ্ছা করলে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি আরো বলেন আমরা আশা করছি এ বছর যে সব আম গাছে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো থেকে কমকরে অন্তত ৮-১০ টন রঙিন, ভাল মানসম্পন্ন নিরাপদ শতভাগ রোগ ও পোকামাকড় মুক্ত আম আম উৎপাদিত হবে। এছাড়াও ব্যাগিং করা আম সংগ্রহের পর ১০-১৪ দিন পর্যন্ত ঘরে রেখে খাওয়া যায়। এদেশের মানুষ কার্বাইড, ফরমালিন আতংঙ্কে যখন দেশীয় মৌসুমি ফল খাওয়া থেকে প্রায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সে সময়েই এই প্রযুক্তিটি কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে। যে কোন আম চাষী, ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ইচ্ছে করলেই এই প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে সুফল পেতে পারেন। প্রযুক্তিটি চাষীদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হলে কার্বাইড, ইফিফোনসহ অন্যান্য হরমোন এবং ফরমালিনের মতো বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার সম্পর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব হবে।

chapai pic 22-5-15_82824রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে আম রক্ষায় এ বছর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হয়েছে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির ব্যবহার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত বছর ব্যাপক সফলতা পাওয়ায় এবার তা আম চাষীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। জেলার আমচাষীদের মাঝে সরবারহের জন্য এরই মধ্যে চীন থেকে বিশেষ ধরনের এই ব্যাগ আমদানী করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আম গবেষকরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আম উৎপাদনে একদিকে যেমন ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ হবে সেই সঙ্গে বিদেশের বাজারেও সুমিষ্ট আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম রফতানির দ্বার উম্মোচিত হবে।
জেলায় ২৪ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। কিন্তু আমে মাছি, পোকা বা ফ্রুট ফ্লাইয়ের আক্রমণ রোধে বর্তমানে কীটনাশক ব্যবহারের হার অনেক বেড়ে গেছে। অধিক ফলন পেতে ভালো-মন্দ বিচার না করেই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে আমের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এই অবস্থায় মাছি পোকার আক্রমণসহ বিভিন্ন পোকা ও ছত্রাকের আক্রমণ থেকে আম রক্ষায় গত বছর নতুন এক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. সরফ উদ্দিন। বিভিন্ন দেশে ব্যবহার হওয়া ফ্রুট ব্যাগ পদ্ধতি ব্যবহার করে বাংলাদেশে তার সম্ভাবনা যাচাই করেন তিনি। গত বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ১৮টি জাতের আম গাছে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি সাফল্য পান। ড. সরফ উদ্দীন জানান, ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তিটি বাংলাদেশে একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি।

 

পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশেষ ধরনের ব্যাগ দিয়ে আম আবৃত করা হচ্ছে

 রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে আম রক্ষায় এ বছর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হয়েছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির ব্যবহার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা নতুন এই পদ্ধতি ব্যবহার করে গতবছর ব্যাপক সফলতা পাওয়ায় এবার তা আম চাষীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। জেলার আমচাষীদের মাঝে সরবারহের জন্য এরই মধ্যে চীন থেকে বিশেষ ধরণের এই ব্যাগ আমদানী করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান।

 

আম গবেষকরা বলছেন এই পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে আম উৎপাদনে একদিকে যেমন ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ হবে। সেই সঙ্গে বিদেশের বাজারেও সুমিষ্ট আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম রফতানির দ্বার উম্মোচিত হবে।  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৪ হাজার ২৬০ হেক্টর আম বাগান রয়েছে।

 

কিন্তু আমে মাছি, পোকা বা ফ্রুট ফ্লাইয়ের আক্রমণ রোধে বর্তমানে কীটনাশক ব্যবহারের হার অনেক বেড়ে গেছে। অধিক ফলন পেতে ভালো-মন্দ বিচার না করেই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে আমের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।

 

এই অবস্থায় মাছি পোকার আক্রমনসহ বিভিন্ন পোকা ও ছত্রাকের আক্রমন থেকে আম রক্ষায় গতবছর নতুন এক পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. সরফ উদ্দিন। বিভিন্ন দেশে ব্যবহার হওয়া ফ্রুট ব্যাগ পদ্ধতি ব্যবহার করে বাংলাদেশে তার সম্ভাবনা যাঁচাই করেন তিনি। গতবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ১৮টি জাতের আম গাছে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে তিনি সাফল্য পান।

 

ড. সরফ উদ্দীন জানান, ফ্রুট ব্যাগিং বাংলাদেশে একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় পদ্ধতি। তিনি বলেন, ফ্রুট ব্যাগিং বলতে ফল গাছে থাকা অবস্থায় বিশেষ ধরণের ব্যাগ দ্বারা ফলকে আবৃত করাকে বুঝায় এবং এর পর থেকে ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত গাছেই লাগানো থাকে ব্যাগটি। এই ব্যাগ বিভিন্ন ফলের জন্য বিভিন্ন রং এবং আকারের হয়ে থাকে। তবে আমের জন্য দুই ধরণের ব্যাগ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। রঙিন আমের জন্য সাদা রঙ এবং অন্য সব জাতের আমের জন্য বাদামী রংয়ের ব্যাগ ব্যবহৃত হয়।

 

তিনি আরো জানান, গবেষণায় দেখা গেছে ব্যাগিং করা আম দীর্ঘদিন ঘরে রেখে খাওয়া যায়। এই ব্যাগ ব্যবহার করলে আম সংরক্ষণ করতে ফরমালিন নামের বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রয়োজন হবে না। এছাড়াও ফলকে বাইরের বিভিন্ন ধরনের আঘাত, পাখির আক্রমণ, প্রখর সূর্যালোক এবং রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সহজেই রক্ষা করা সম্ভব। নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাগিং করা গেলে কোন স্প্রে ছাড়াই ক্ষতিকর পোকার হাত থেকে আম ফলকে রক্ষা করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।

 

ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে ফল বিজ্ঞানী ড. সরফ জানান, আমের ক্ষেত্রে ব্যাগিং করার উপযুক্ত সময় ৩৫-৪০ দিন বয়সের আমে। তবে এর পরেও ব্যাগিং করা যায়। ব্যাগিং করার আগে আমগাছে ২/৩ বার কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করা যেতে পরে। ভেজা অবস্থায় ব্যাগিং করা যাবে না। এছাড়া ব্যাগিং করার আগেই মরা মুকুল বা পুষ্মমুঞ্জুরীর অংশবিশেষ, পত্র, উপপত্র ছিড়ে ফেলতে হবে এবং আমটি ব্যাগের মাঝ বরাবর থাকবে। ব্যাগের ওপরের প্রান্তটি ভালোভাবে মুড়িয়ে দিতে হবে যেন পানি বা অন্যকিছু প্রবেশ করতে না পারে।

 

তিনি বলেন, গতবছর পরীক্ষামুলকভাবে এটি ব্যবহার করে সফলতা পাওয়ায় এবার তা আমচাষীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদন না হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের একটি প্রতিষ্ঠান বিশেষ ধরনের এই ব্যাগ চীন থেকে সরাসরি আমদানি করে কৃষকদের মাঝে সরবারহ করছেন।  প্রতিটি ব্যাগ ৩/৪টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব ও গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে ব্যাগিং করা আমে কোন ধরণের দাগ থাকবে না। এছাড়া সবধরণের রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে আমকে রক্ষা করা যাবে। এছাড়া যে কোন জাতের আমকে রঙিন করা সম্ভব হওয়ায় বিদেশে রফতানি উপযোগি আম উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এই পদ্ধতি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে এ আম বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। কারণ ইউরোপে এ ধরণের আমের চাহিদা রয়েছে।

Page 6 of 18