x 
Empty Product
এবারই প্রথম চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ ৮ জেলায় ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহারে  নিরাপদ, বিষমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য ৮/১০ মেঃ টন  আম  উত্পাদন করতে যাচ্ছেন আম ব্যবসায়ী ও আম চাষিরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণা কেন্দ্রে। গবেষক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো:শরফউদ্দিন জানান, গত বছর চীনের একটি কোম্পানি আমাদের গবেষণার জন্য কিছু ব্যাগ প্রদান করে। সে ব্যাগ দিয়ে আমরা আমাদের গবেষণা কেন্দ্রে  ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো সাফল্য পেয়েছি। তার মতে, বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক স্প্রে করার চেয়ে এ পদ্ধতিতে খরচ অনেক কম এবং বিষমুক্ত আম উত্পাদন সম্ভব। এর ফলে আমচাষি ও আম ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হবেন। 

 

ড. শরফউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে মাঠ পর্যায়ে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি জনপ্রিয় করে তুলতে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩/৫ টাকা মূল্যের প্রায় ৫০ হাজার ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, গোপালগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এ সাত জেলায় আরো ৫০ হাজার ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করেছে আম ব্যবসায়ী ও আমচাষিরা।

 

বেলেপুকুর এলাকার এ বছর ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহারকারী জিএম রহমান পলাশ বলেন, প্রায় ৪ হাজার আমে ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করেছি এবং আরো ব্যবহার করার চেষ্টা করছি। এ ব্যাগ ব্যবহারের ফলে আর কোন কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে না। তাছাড়া আমের দামও বেশি পাবো বলে আশা করছি। তিনি এ ব্যাপারে সরকারিভাবে উদ্যোগের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। রাজশাহীর কোর্ট এলাকার হড়গ্রাম গ্রামের নতুনপাড়ার মাওলানা বেরার উদ্দিন জানান, আমি প্রথমদিকে আমবাগানে স্প্রে করলেও ফ্রুট ব্যাগের খবর পেয়ে ২ হাজার ফ্রুট ব্যাগ ক্রয় করে ৩০টি গাছের আমে লাগিয়েছি। আম ছিদ্রকারী পোকার-মাছির আক্রমণ থেকে আমকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পেলে আগামীতে আরো বেশিসংখ্যাক ব্যাগ ব্যবহার করবো। ফ্রুট ব্যাগ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নওগাঁ জেলার জাহিদুল ইসলাম জানান, এ প্রযুক্তির খবর পেয়ে নাটোরের নলডাঙ্গা থানার পশ্চিম মাধনগর কাজীপাড়া এলাকায় নিজস্ব ৩ বিঘা আমবাগানে ৩ হাজার ৮শ’ টি ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করেছি। কীটনাশক ব্যবহারের চেয়ে ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহারে খরচ কম।

 

 ড. শরফউদ্দিন জানান, গত বছর  আম ব্যবসায়ী ও চাষিরা  পর্যাপ্ত পরিমাণ ফ্রুট ব্যাগ সংগ্রহ করতে না পারলেও এবছর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ব্যাগ ক্রয় করতে কোন অসুবিধা হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কমপক্ষে    ৮-১০ টন রঙিন, ভালো মানসম্পন্ন শতভাগ রোগ ও পোকা-মাকড়মুক্ত আম উত্পাদিত হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার পলসা এলাকায় একটি আমের বাগানে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে আম উৎপাদন করা হয়। ছবি: প্রথম আলোফ্রুট ব্যাগিং (বিশেষ ধরনের কাগজের ব্যাগ দিয়ে আবৃত করা আম) পদ্ধতিতে উৎপাদিত রাসায়নিক বালাইনাশকমুক্ত নিরাপদ আমের রপ্তানি শুরু হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। আজ বুধবার দুই হাজার কেজি ল্যাংড়া ও ফজলি আম রপ্তানির জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কাল বৃহস্পতিবার বিমানযোগে আমের এ চালান যাবে যুক্তরাজ্যে। এর মধ্য দিয়ে আরও আম রপ্তানির সম্ভাবনা সৃষ্টি হলো। এগুলো যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খুচরা পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের মাধ্যমে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (আম গবেষণা কেন্দ্র) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শরফ উদ্দীন প্রথম আলোকে জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেমনভাবে অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহারমুক্ত আম উৎপাদন হতো না। এ ছাড়া প্রচার ছিল যে, এখানকার আমে অতিরিক্ত রাসায়নিক বালাইনাশক স্প্রে করা হয়ে থাকে। তাই রপ্তানিযোগ্য নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষ্যে নিয়ে গত বছর চীন থেকে আমদানি করা ফ্রুট ব্যাগ আমে আবৃত করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এতে সুফল পাওয়ার পর এ বছর আমচাষিদের ওই ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। চলতি বছর ১ লাখ ৫০ হাজার আমে ব্যাগিং করা হয়। এতে করে ১০০ মেট্রিক টন নিরাপদ আমের উৎপাদন নিশ্চিত হয়।ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত আম যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করা হচ্ছে। ছবি: প্রথম আলো
শরফ উদ্দীন আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়াও এ মৌসুমে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, গোপালগঞ্জ, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও বাণিজ্যিকভাবে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উৎপাদিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রপ্তানিকারক ও ফল উৎপাদনে সহায়তাকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরাই খোঁজখবর নিয়ে প্রথম পর্যায়ে দুই হাজার কেজি আম রপ্তানির উদ্যোগ নেন।
রপ্তানিকারক মেসার্স দ্বীপ ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী পরিতোষ চন্দ্র প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির আম নিরাপদ জেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছি। এ ব্যাপারে হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের সহায়তা পাওয়া গেছে। এভাবে উৎপাদিত আম রপ্তানিতে দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’
ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তিতে আম উৎপাদনকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষি মো. মিলন, রবিউল ইসলাম, মো. হাসান ও পিন্টু মাস্টার রপ্তানিকারককে দুই হাজার কেজি আম সরবরাহ করেন। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ল্যাংড়া প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফজলি আম এখনো বাজারের সেভাবে নামেনি। আগাম জাতের ফজলি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। চাষিরা ওয়ালমার্টের কাছে ল্যাংড়া ৭০ টাকা ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে বাগানে উৎপাদিত রাসায়নিক বালাইনাশকমুক্ত নিরাপদ আম যুক্তরাজ্যে রপ্তানির জন্য আড়তে আনা হয়েছে। ছবি: প্রথম আলোকেজি ও ফজলি ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। চাষি রবিউল ও হাসান জানান, এ বছর আমের প্রত্যাশিত দর না পেয়ে তাঁরা হতাশ ছিলেন। তবে ফ্রুট ব্যাগিং করে উৎপাদিত আমে কিছুটা হলেও লাভবান হয়েছেন।
ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি কি?
ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি সম্পর্কে শরফ উদ্দীন জানান, ফ্রুট ব্যাগিং হচ্ছে গাছে থাকা অবস্থায় বিশেষ ধরনের কাগজের ব্যাগ দিয়ে ফলকে আবৃত করে রাখা হয়। ৪০ থেকে ৫৫ দিন বয়সের আমে ব্যাগিং করার উপযুক্ত সময়। ব্যাগিং করার আগে আমে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করে শুকিয়ে নিতে হবে। তিনি জানান, রঙিন আমের জন্য সাদা ব্যাগ ও সবুজ আমের জন্য দুই আস্তরের বাদামি ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। ফল সংগ্রহের আগ পর্যন্ত লাগানো থাকে ব্যাগ। এসব ব্যাগ বৃষ্টি ও ঝড়ে ছিঁড়ে যায় না। তিনি আরও জানান, এই ব্যাগ ব্যবহারে আম বিভিন্ন ধরনের আঘাত, পাখির আক্রমণ, প্রখর সূর্যালোক, রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়।
শরফ উদ্দীন বলেন, আম সংগ্রহ করার পর থেকে পরের মৌসুমে আম সংগ্রহ করা পর্যন্ত অসচেতন আমচাষিরা ১৫ থেকে ৬২ বার পর্যন্ত বালাইনাশকের ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, তিন থেকে পাঁচবার স্প্রে করাই যথেষ্ট। অর্থাৎ গাছে মুকুল আসার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে প্রথমবার। দ্বিতীয়বার মুকুল ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার লম্বা হলে এবং তৃতীয়বার আম যখন মটর দানার আকার ধারণ করে। পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধে বিশেষ প্রয়োজন আরও দুবার হতে পারে।
শরফ উদ্দীন জানান, আমে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বালাইনাশকের ব্যবহার কমানো সম্ভব। দেশে প্রচুর পরিমাণ আম উৎপাদন হলেও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে রপ্তানি উপযোগী আম পাওয়া যায় না। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে রপ্তানি উপযোগী আম পাওয়া সম্ভব। এ ছাড়া এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা আমের সংরক্ষণকাল বেশি এবং দেশি বাজারেও দাম পাবে বেশি।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সারাদেশের ন্যায় মত চাঁপাইনবাবগঞ্জেও টানা ৭দিন ধরে প্রবল বর্ষনের কারণে আম ব্যবসায়ী ও আম চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। টানা বর্ষনের কারনে আম ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে আম পাড়তে পারছেন না। অন্যদিকে গাছে পাকা আম নিয়েও বিপাকে পড়েছে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। ফলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অত্যন্ত কষ্ট করে আম চাষীদের গাছ থেকে আম পাড়তে হচ্ছে।

আর এই সুযোগে জেলার সকল আম বাজারে আড়ৎদাররা পানির দরে আম কিনছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে যে আম ৪/৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হতো তা এখন ব্রিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা থেকে ২৫’শ টাকায়। অন্যদিকে প্রবল বর্ষনের কারণে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে আম পাড়তে না পারায় কানসাট সহ জেলার অন্যন্য বাজারগুলো প্রায় আম শূণ্য হয়ে পড়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার শ্রমিক।

কানসাট এলাকার শফিক নামে একজন শ্রমিক বলেন, আমরা আম মৌসুমে চার মাস কাজ করে যা উপার্যন করি তা দিয়ে সারা বছর কোন রকমে চলে যায়। কিন্তু গত পনের দিন থেকে কোন রকম কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন পার করতে হচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসন ফরমালিনের অজুহাতে জেলা থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার পথে আম ভর্তি ট্রাকগুলোতে ফরমালিন পরীক্ষার নামে হয়রানী ও আম নষ্ট করে দেয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে ব্যবসায়ীরা।

পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পরমালিনমুক্ত সনদ দিয়ে গত পনের দিন থেকে আম পরিবহন শুরু হলেও বাদ সেজেছে আবহাওয়া। এদিকে অভিযোগ উঠেছে কতিপয় ব্যবসায়ী আমের গাড়িতে ফেন্সিডিল পাচার করছে। গোমস্তাপুর থানা পুলিশ আমের ক্যারেটে ফেন্সিডিল ওঠানোর সময় ১৮’শ বোতল ফেন্সিডিল আটকও করেছে।

এছাড়া এখনও কতিপয় ব্যবসায়ী ম্যানেজ পদ্ধতি অবলম্বন করে বিভিন্ন পন্থায় ফরমালিনযুক্ত আম ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এসবের মূলহোতা হিসেবে কাজ করছে শিবগঞ্জের বিএনপি ঘরানার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

ফরমালিন মেশানো আম খেয়ে একই পরিবারের চারজন হাসপাতালেআম খেয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরা হচ্ছেন অলিউল্লাহ (২১), শাহীন (২৫), আবুবকর (১৬) ও মো. মাইনুল (৩৮)। বুধবার সকাল নয়টার দিকে আক্রান্তরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। প্রথম তিনজনে আপন ভাই। এদের বাড়ি টিয়াখালী ইউনিয়নের মধ্য-রজপাড়া গ্রামে। আক্রান্তরা জানান, নিকট আত্মীয় ইউনুচ মিয়া কলাপাড়া পৌর শহরের এতিমখানা মোড়ের শানুর দোকান থেকে দুই কেজি আম কিনে তাদের বাড়িতে নিয়ে বেড়াতে যান। ওই আম খেয়ে তারা মঙ্গলবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটতে থাকায় বুধবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর মাইনুল মনোহরি পট্টির চৌরাস্তা থেকে কেনা আম খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আক্রান্তদের অভিযোগ এসব আমে ফরমালিন মেশানোর কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম জানান, এদের সবাইকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। কলাপাড়া থানার ওসি মো. এসএম মাসুদুজ জামান জানান, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের সহায়তায় একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আমের দোকানে অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া বিক্রেতাদের শণাক্ত করা গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাকৃবিতে সম্প্রতি উদ্ভাবিত নতুন জাতের ডায়াবেটিস বান্ধব আম - আলোকিত বাংলাদেশআম খুবই জনপ্রিয় একটি ফল। স্বাদ, গন্ধ, পুষ্টিমান ও ব্যবহারবৈচিত্র্যের ভিন্নতায় আমকে 'ফলের রাজা' বলা হয়। আমের ব্যবহার কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায়ই। তবে ফলটি সুস্বাদু, সুমিষ্ট হওয়ায় তা খেতে অনেক সময় অস্বস্তি বোধ করেন বহুমূত্র রোগীরা। এবার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উদ্ভাবিত হলো ডায়াবেটিস আম (বাউআম-৩)।

ডায়াবেটিস আমটিও রসালো, রং, রস, অাঁশহীন আকর্ষণীয় এ অভিনব জাতটি উদ্ভাবনে এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারের পরিচালক ও উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. আবদুর রহিম। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে গবেষণা করে তিনি উদ্ভাবন করেছেন ডায়াবেটিক বা বাউআম-৩। এ আমে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম বিধায়, তা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। এরই মধ্যে এ জাতের আমের চারা সারা দেশে সরবরাহ শুরু করেছে বাকৃবি জার্মপ্লাজম সেন্টার। ডায়াবেটিক আম সম্পর্কে উদ্ভাবক ড. রহিম বলেন, এ জাতের আম নিয়মিত ফল ধারণকারী ও বামন প্রকৃতির জাত। গাছে প্রতি বছরই প্রধানত দুইবার ফুল ও ফল ধরে থাকে। জুন মাসের শেষের দিকে এ জাতের পাকা ফল পাওয়া যায়। ফুল আসা থেকে ফল পরিপক্ব হতে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ মাস সময় লাগে। ফলের আকার মাঝারি ও লম্বাটে প্রকৃতির। ফলে রসের পরিমাণ কম, কিন্তু অাঁশের পরিমাণ বেশি। চামড়া পাতলা ও খোসা সহজেই ছড়ানো যায়। ফলের গড় ওজন ২৮৯ গ্রাম। প্রতি হেক্টরে ১০ থেকে ১৫ টন ফলন পাওয়া সম্ভব।

গবেষণায় ডায়াবেটিক বাউআমের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে_ এ জাতের ফলের দৈর্ঘ্য ১১.২০ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৭.৩৭ সেন্টিমিটার এবং পুরুত্ব ৬.৪৭ সেন্টিমিটার। আহার উপযোগী অংশের পরিমাণ মোট ফলের ৭৩.৯৬ শতাংশ।

ড. রহিম বলেন, আমাদের দেশে ডায়াবেটিস রোগীদের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। অনেক রোগী বেশি পরিমাণে আম খেতে চাইলেও তা পারেন না। এ আমে অন্যান্য আমের তুলনায় সুগার লেভেল কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। ডায়াবেটিক বাউআম-৩ সেসব রোগীর মন ভরে খাওয়ার সুযোগ করে দেবে। এরই মধ্যে এ জাতের আমের চারা সারা দেশে সরবরাহ করা শুরু করেছে বাকৃবি জার্মপ্লাজম সেন্টার।

ধানের জেলা দিনাজপুরে বানিজ্যিকভাবে আম চাষ শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় অসৎ পথে ঝুকে পড়েছেন। আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা আমের ফলন বৃদ্ধিতে বাগানেতেই ব্যবহার করছেন বিভিন্ন কীটনাশক.ফরমালিনসহ প্রাণঘাতি নানান বিষাক্ত পদার্থ। আর এসব বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত আম খেয়ে মানব দেনে নানান জটিল রোগ সৃষ্টি সহ মৃত্যুর মুখে ঝুকে পড়ছে মানুষ। চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা ছাড়াও এ কথা স্বীকার করেছেন জেলা প্রশাসন।

 

গাছে গাছে থোকা থোকা ঝুলছে আম। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় দিনাজপুরে চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের জেলা দিনাজপুরে বানিজ্যিকভাবে আম চাষ হচ্ছে। এ বছর জেলায় ২ হাজার ১৯৬ হেক্টর বাগান ও ৯৪৪ হেক্টর বসতবাড়ী মিলে মোট ৩ হাজার ৩ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে।

 

দিনাজপুরে প্রায় ২০/২৫ প্রজাতির আমচাষ হয়। এর মধ্যে ফজলি, গোপালভোগ,মিশ্রিভোগ,সূর্যাপুরী, ল্যাংড়া, আমরুপালি, আশ্বিনা, কালাপাহাড়ী, গুটি, মিষ্টিমধু, মধুচুষি, খিরশাপাতি উল্লেখযোগ্য। সদর, বিরল, কাহারোল, চিরিরবন্দর  বোচাগঞ্জ, বীরগঞ্জ,পার্বতীপুর এলাকার বাগানগুলোতে এবার আম হয়েছে বেশী।

 

তবে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদাল আম বাগানে অভিযান চালিয়ে এর গোমড় ফাস হয়ে পড়েছে। আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা অধিক লাভের আশায় অসৎ পথে ঝুকে পড়েছেন। আমের ফলন বৃদ্ধিতে বাগানেতেই ব্যবহার করছেন বিভিন্ন কীটনাশক.ফরমালিনসহ প্রাণঘাতি নানান বিষাক্ত পদার্থ। বাগান মালিকরা বাগানে অন্যান্য ওষুধের চেয়ে পোকামাকড় দমনে বিষাক্ত কীটনাশক বেশী করে প্রয়োগ করে থাকেন। বাজারে এসব দেখতে সুন্দর আম দেখে ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন। কিনছেন। কিন্তু আমে কি আছে তারা জানছেন না।

 

ফল দোকানগুলোতে ফরমালিন ও বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত মেশানো সুন্দর চেহারার আম জায়গা দখল করে নিয়েছে। তবে আমে ফরমালিন কিংবা বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত আছে কি না তা বলতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।

 

আর এসব ফরমালিন  যুক্ত বা বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত আম খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে জনজীবন।মানব দেনে নানান জটিল রোগ সৃষ্টি সহ মৃত্যুর মুখে ঝুকে পড়ছে মানুষ।এমটাই জানালেন,দিনাজপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা.মারতুরা বেগম।

 

ফরমালিন মেশানোর বা বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত আম বাজারজাত করণে প্রতিরোধ গড়তে কঠোর হস্তক্ষেপ দেয়ার কথা জানিয়েনে দিনাজপুর জেলা প্রশানক আহমদ শামীম আল রাজী।

বাগান থেকে বিষ মিশ্রিয় হয়ে বাজারে আসছে এসব আম। আর এসব আম খেয়ে মানব দেহে নানান জটিল রোগসহ মৃত্যুর মুখে ঝুঁকে পড়ছে মানুষ। তাই শুধু লোক দেখানো ভেজাল বিরোধী অভিযান নয়,এসব আমের সাথে বিষ মিশ্রিত অসাধূ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর হস্তক্ষেপ নিবেন-এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

রংপুর অঞ্চলে পবিত্র রমজানে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে স্থান পেয়েছে সুস্বাদু ও সুমিষ্ট হাঁড়িভাঙা আম। এই রমজানে হাঁড়িভাঙা আম পাকতে শুরু করায় সব শ্রেণী-পেশার রোজাদার ইফতারের আইটেমে এই আম রেখেছেন। দাম সাধ্যের মধ্যে থাকায় এবার বিপুল পরিমাণ এই আম রংপুর অঞ্চলেই বিকিকিনি হচ্ছে।
জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে হাঁড়িভাঙা আম পাকতে শুরু করে। অন্য দিকে এবার পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে ১ জুলাই থেকে। ফলে ফরমালিনমুক্ত এই আম রোজাদাররা ইফতারের আইটেমে অনিবার্য হিসেবে রেখেছেন। শ্রমিক থেকে শুরু করে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ইফতারে এবার এই অঞ্চলে ইফতারের সময় শোভা পাচ্ছে এই হাঁড়িভাঙা আম। আম কেটে থরে থরে সাজানো হচ্ছে ইফতারের জন্য।
হাঁড়িভাঙা আমের জন্য বিখ্যাত রংপুরের মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ-পদাগঞ্জ এলাকা। মঙ্গলবার ইফতারের আগমুহূর্তে হাঁড়িভাঙা আমের সম্প্রসারক আবদুস সালামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, ড্রইং রুমে প্রায় এক ডজন মানুষ ইফতারের জন্য প্রস্তুত। এর মধ্যে দু-একজন আগন্তুক ছাড়া অন্যরা সবাই হাঁড়িভাঙা আম বাগানের শ্রমিক। ইফতারের জন্য বুট, বুন্দিয়া, পিয়াজু, বেগুনি, খেজুর দিয়ে মাখানো মুড়ির গামলার পাশে সবার সামনে একটি করে প্লেটে হাঁড়িভাঙা আম। সবাই আম দিয়েই ইফতার শুরু করলেন। শ্রমিক আবুল কাশেম বলেন, ২০০ টাকা দিন হাজিরায় সালাম সরকারের বাগানে কাজ করি। প্রতিদিনই হাঁড়িভাঙা আম দিয়ে ইফতার করি একসাথে। মনে হয় ইফতারে আম না থাকলে প্রশান্তিই পাবো না। অন্য শ্রমিক সরদারপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম জানান, এবার রোজার মাস এসেছে হাঁড়িভাঙার সময়ে। এ পর্যন্ত সব রোজাতেই হাঁড়িভাঙা আম দিয়েই ইফতার করেছি। আমটি সুস্বাদু হওয়ায় ইফতারও খুব তৃপ্তির সাথে হয়।
রংপুর মহানগরীর টার্মিনালে হাঁড়িভাঙা আম কিনতে আসা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আপেল মাহমুদ জানান, মূলত প্রতিদিনই তাকে আসতে হয় টাটকা হাঁড়িভাঙা আম কিনতে।  কারণ এই আম দিয়েই প্রতিদিনই পরিবারের সবাই ইফতার করি। আমটি সুমিষ্ট হওয়ায় পরিবারের সবারই এটি ইফতারের জন্য প্রথম পছন্দ।
স্থানীয় দাবানল পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার শরিফুল ইসলাম সুমন জানান, দিনভর রোজা শেষে হাঁড়িভাঙা আম দিয়ে ইফতার করার পর শরীরের মধ্যে আলাদা এনার্জি আসে। অনেকটা ভাতের ক্ষুধা নিবারণের জন্যই আম খাই। সে জন্য এবার প্রতি রোজাতেই হাঁড়িভাঙা আম দিয়ে ইফতার করছি।
এভাবে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাতের নাগালে হওয়ায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে তারা হাঁড়িভাঙা আমকে বেছে নিয়েছেন ইফতার সামগ্রীতে।
হাঁড়িভাঙা আমের সম্প্রসারক আবদুস সালাম সরকার জানান, এবার মোটামুটি দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যেই মণ পাওয়া যাচ্ছে হাঁড়িভাঙা আম। রোজার মাস হওয়ায় প্রচুর আম বিক্রি হচ্ছে। রোজাদাররা এই আম দিয়ে তৃপ্তিসহকারে ইফতার করছেন।
ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ কনসাল্ট্যান্ট ডা: মোহাম্মদ হোসেন জানান, আম বিশেষ করে হাঁড়িভাঙা আম রোজাদারের জন্য উপকারী। কারণ আমের মধ্যে যে ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেড, সুগার, বিভিন্ন ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ আছে তা সারা দিন রোজার থাকার পর রোজাদারের শরীরে ক্ষুধার কান্তি দূর করে।
আঞ্চলিক কৃষি অফিসের তথ্য মতে চলতি মওসুমে শুধু রংপুর অঞ্চলের আট জেলায় বাগান পর্যায়ে প্রায় ১৩ হাজার বাসাবাড়ি ও ুদ্র পরিসরে দুই হাজার ৯৫০ হেক্টরে আমের বাগান হয়েছে। রংপুর বিভাগের আট জেলায় এই আম বাগান ১৭ হাজার ২৪৪ হেক্টর। এই জমিতে প্রায় ৪২ লাখ ৭৪ হাজার ৪০০টি গাছ রয়েছে, যা থেকে এক লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টন আম উৎপাদন হবে। এর বাজারমূল্য ৮০৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি। কৃষি বিভাগের হিসাবে রংপুর অঞ্চলের আট জেলায় প্রায় এক লাখ হেক্টর হাঁড়িভাঙা আম চাষযোগ্য জমি আছে। এতে ১২ লাখ ৫০ হাজার টন আম উৎপাদন সম্ভব। সেখানে আমের আবাদ করলে বছরে সোয়া ছয় হাজার কোটি টাকার আম উৎপাদন সম্ভব হবে। এ জন্য সরকারকে ও কৃষি বিভাগকে ১০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা নিয়ে এই অঞ্চলে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বাস্তবায়ন করার পক্ষে মত দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

স্বাদ, বর্ণ ও গন্ধের জন্য আম সকলের প্রিয় ফল। আমকে ফলের রাজা বলা হয়। আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ও ভিটামিন সি রয়েছে। আম আমাদের জাতীয় বৃক্ষ। এ গাছের সাথে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আবেগ জড়িত রয়েছে। ১৯৭১ সালে মেহেরপুরে আমের বাগানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। আবার ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় এই আম বাগানেই। দেশের পার্বত্য অঞ্চলে উন্নত জাতের আম্রপালি  জাতের আম চাষ করে  ব্যাপক সাড়া জাগাতে সম হয়েছেন স্থানীয় আম চাষিরা। আম্রপালি প্রধানত ভারতীয় জাতের আম। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট জাতটিকে বারি আম-৩ নামে  সারা দেশে চাষের জন্য ১৯৯৬ সালে অবমুক্ত করে। বাংলাদেশের আমের জগতে আম্রপালি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবর্তন। আম্রপালির বৈশিষ্ট্য হলো- গাছের আকৃতি মাঝারি, প্রতি বছর ফল ধরে, আম খুব মিষ্টি, ফল লম্বাটে ডিম্বাকৃতি,  আঁশহীন মধ্যম রসালো, শাাঁস ফলের শতকরা ৭০ ভাগ।  ফলের শাঁসের রং গাঢ় কমলা রংগের, প্রতিগাছে ১৫০ থেকে ১৭০ টি ফল ধরে। মৌসুমের শেষের দিকে পাকে, ফলে কৃষক বেশি দামে এ জাতের আম বিক্রি করে বেশি লাভবান হতে পারেন। অধিক লাভ ও বেশি ফলনের জন্য আম্রপালি আমের চাষ পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চলে  ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বান্দারবান, লামা, খাগড়াছড়ি, রামগড়,  কাপ্তাই,  চন্দ্র-ঘোনায় বেসরকারি উদ্যোগে আম্রপালি আমের চাষ হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে রোপণের তিন বছরের মধ্যে গাছে ফল আসা শুরু করে। প্রথম পর্যায়ে গাছ ছোট  থাকায় গাছ প্রতি  পাঁচ থেকে ছয় কেজি আম পাওয়া গেলেও  বৃদ্ধির পর প্রতি গাছে  ৫০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত আম উৎপন্ন হয়। আম্রপালি আম উৎপাদনের জন্য পার্বত্য  অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া বেশ উপযোগী। পাবর্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলে আমের মৌসুমে  ১৫ থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন আম্রপালি জাতের আম উৎপন্ন হয়। পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপক ভিত্তিতে আম্রপালি জাতের আমের চাষ করলে একদিকে দেশের  আমের চাহিদা পূরণ হবে অন্যদিকে  বিদেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।  বর্তমানে চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে  ছোট বড় মিলে  প্রায় ৭০০ আমের বাগান রয়েছে। উৎপাদিত আমের মধ্যে  আম্রপালি, মল্লিকা, রাংগুয়াই, থাই কাঁচামিঠা, থাই নামডাকমাই, ফনিয়া উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের  ১০টি শীর্ষ আম উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। উৎপাদনের দিক দিয়ে শীর্ষে হলেও রাসায়নিকের যথেচ্ছ ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প কারখানার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ আম রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না। সমম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমান্স কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘রফতানি যোগ্য আম উৎপাদন বৃদ্ধির আধুনিক কলাকৌশল এবং সংগ্রহত্তোর ব্যবস্থাপনা এবং আম ও আমজাত পণ্যের রফতানি সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আম গবেষক ও কৃষিবিদদের উপস্থাপিত প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রডিউসার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ওই কর্মশালার আয়োজন করে। প্রতি বছর ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন আম উৎপাদন করে বিশ্ব আম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম স্থানে।  এক কোটি ৬৩ লাখ ৩৭ হাজার টন আম উৎপাদন করে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। তালিকায় চীনের অবস্থান দ্বিতীয় এবং ৪র্থ অবস্থানে আছে পাকিস্তান। ভারত, চীন ও পাকিস্থান থেকে বিপুল পরিমাণ আম ও আমজাত পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে  রফতানি করা হয়। সে তুলনায় বাংলাদেশ থেকে রফতানির পরিমাণ খুবই কম। মালয়েশিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, হংকংসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাসায়নিক মুক্ত আম ও আমজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত, চীন ও পাকিস্তান থেকে প্রচুর আম রফতানি হয়। কিন্তু শর্ত পূরণ করতে না পারার কারণে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ আম রফতানি করা যাচ্ছে না। আশার কথা, রফতানি উপযোগী আম চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছেন  দেশের গবেষকগণ। সারা দেশে যে আমের চাহিদা তার বেশির ভাগ উৎপাদিত হয় রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৩ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার। আর রাজশাহী জেলায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে ১০ লাখ আম গাছ। কিন্তু আম সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার কোনো সুযোগ না থাকায় চাষিরা আমের ন্যায্য দাম প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অঞ্চলে আম ভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন এবং আম সংরক্ষণ ও বিদেশে রফতানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। এ অঞ্চলে চাষকৃত উল্লেখযোগ্য উন্নত মানের আমের জাতগুলি হলো- গোপালভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগড়, ক্ষীরসাপাত, লক্ষণভোগ, ফজলি, সুরমা ফজলি, রাণী পছন্দ, জামাই পছন্দ, বেগম পছন্দ, দুধস্বর, বোম্বাই, লতাবোম্বাই, কহিতুর, কোয়াপাহাড়ী, মিশ্রিভোগ, আম্রপালি, মহানন্দা, সুবর্ণরেখা  ইত্যাদি। রাসায়নিকের ব্যবহার এবং রফতানিযোগ্য আমের জাতের অভাব ছাড়াও আম রফতানির ক্ষেত্রে আরো  অনেক বাধা রয়েছে বাংলাদেশে। যেমন-আমের সীমিত প্রাপ্তিকাল, গরমপানি শোধন ব্যবস্থার অভাব, অপর্যাপ্ত সংগ্রহত্তোর ব্যবস্থাপনা- বিশেষ করে অনুন্নত প্যাকেজিং ও পরিবহন ব্যবস্থা, আম উৎপাদকারী ,

ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের  পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া, প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের অভাব, বিদেশী আমদানিকারকদের সাথে সুসম্পর্কের অভাব, ফাইটো স্যানেটারি সার্টিফিকেট নিতে ঝামেলা ইত্যাদি। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে মাত্র  তিন হাজার ১৫০ মেট্রিক টন আম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে, যা উৎপাদনের তুলনায় অত্যন্ত  কম। বাংলাদেশ থেকে ল্যাংড়া, ফজলি, হিমসাগর এবং আশ্বিনা জাতের আম রফতানি হয়ে থাকে। বারি আম-২ ও বারি আম-৭ বিদেশে রফতানির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আম আমদানিকারক দেশগুলো হলো যুক্তরাজ্য, জার্মানী, ইটারী, সৌদিআরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান।  উল্লিখিত দেশগুলির প্রবাসী বাংলাদেশীরাই প্রধানত এসব আমের ক্রেতা। আশার কথা বর্তমানে বেশ কিছু সংখ্যক কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে কাঁচামাল হিসেব আম সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব শিল্প করাখানর মধ্যে রয়েছে প্রাণ, একমি, ড্যানিশ, বিডি ফুড, সেজান, আকিজ গ্রুপ  উল্লেখযোগ্য। এসব শিল্প কারখানায় আমের শাঁস ও কাঁচা আম সংরক্ষণ করা হয়, যা থেকে পরবর্তীতে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে বাজারজাত করা হয়। আম থেকে উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ম্যাগুজুস, আচার, চাটনী, আমসত্ত্ব, জ্যাম, জেলি, ক্যান্ডি ইত্যাদি। আমের জুস ও ফ্রুট ড্রিংকস স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে বিশ্বের বহু দেশে। প্রতি বছর আমের জুস রফতানি হচ্ছে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন এবং এর মাধ্যমে বছরে আয় হচ্ছে  বছরে ১০ কোটি ডলারের ওপর। শুধু প্রক্রিয়াকরণের অভাবেই দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২৭ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়, পাকিস্তানে এর পরিমাণ শতকরা ৪০ শতাংশ। কৃষি বিভাগ হতে জানা যায়, দেশে উৎপাদিত আমের শতকরা ০.৫০ ভাগ প্রক্রিয়াজাত করা হয়। যেখানে ভারতে এ হার শতকরা ২ ভাগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে ৭০ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৮৩ শতাংশ, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে এই হার  ৭৩ শতাংশ। ২০১০ সালে ভারত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬৫ হাজার মেট্রিক টন আম রফতানি করে। পাকিস্তানের রফতানির পরিমাণ আরো বেশি। অন্য ফসলের চেয়ে আমের চাষও অধিক লাভজনক। নওগাঁর এক জন কৃষক জানান, এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করে খরচ বাদে বছরে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা লাভ পাওয়া যায় আর ওই পরিামণ জমিতে আম চাষ করে বছরে খরচ বাদে ২০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। চাপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদনের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন। অদূর ভবিষ্যতে সহজ পদ্ধতিতে কীটনাশক মুক্ত আম উৎপাদন করা যাবে।  এতে কীটনাশকের ব্যবহার  যেমন কমবে , তেমনি স্বাস্থ্য সম্মত আম খেতে পারবে  ভোক্তা সাধারণ। পরিবর্তিত আবহাওয়া উপযোগী আমের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং সম্ভাবনাময় বিশেষ করে পাহাড়ী ও উপকূলীয় অঞ্চলে আমের চাষ সম্প্রাসারণের  উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া তাপ ও খরা সহিষ্ণু জাতগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, সে বিষয়ে  উচ্চতর গবেষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন দেশের   উদ্যানতত্ত্ববিদগণ। দেশে আমের উৎপাদন ও রফতানি বাড়াতে হলে-১) সরকারি পর্যায়ে উচ্চ ফলনশীল ও রফতানি উপযোগী বিভিন্ন প্রকার আমের জাত উদ্ভাবন করে  আম চাষিদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। ২) চাপাই নবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ আম উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে আম উৎপাদনের আধুনিক কলাকৌশল প্রয়োগ করে রাসায়নিক  বিষমুক্ত  রফতানিযোগ্য উন্নত মানের আম  উৎপাদনের প্যাকেজ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। ৩) বিশেষ আম উৎপাদন অঞ্চলে আম সংরণ ও প্রক্রিয়াকরণ শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হবে। ৪) আম উৎপাদনকারী ,ব্যবসায়ী ও রফতানিকারদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ৫) আম উৎপাদনকারী চাষিদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৬) আম উৎপাদনকারী প্রতিবেশী দেশগুলির উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানির অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদেরকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ৭) কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশে আরো জার্ম প্লাজম সেন্টার  ও মাতৃ বাগান সৃষ্টি করে আমের উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা নিতে হবে। ৮) বেসরকারি পর্যায়ে আরো অধিক নার্সারী স্থাপন করে  গ্রাম পর্যায়ে বসতভিটাতে উন্নত জাতের আম গাছ রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে আমের উৎপাদন বাড়তে হবে। ৯) রাস্তার দু’ধারে, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে উন্নত জাতের আমের চারা রোপণ ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। ১০) গরম পানিতে আম শোধনের জন্য আধুনিক হট ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করতে হবে। ১১) আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্যাকিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ১২) বিদেশে আম রফতানির ব্যাপারে সরকারি তৎপরতা ও সহায়তা আরো বাড়াতে হবে।

Tuesday, 29 July 2014 19:54

আম খেয়ে হাসপাতালে

Written by

গত বুধবার সেহ্রীর সময় বাজার থেকে কেনা ফজলি আম দিয়ে দুধ-ভাত খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন মোহাম্মদ ইয়াছিন ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক আব্দুস সালাম ও তাঁর স্ত্রী। পরে তাদের উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

তাদের বক্তব্য আম দিয়ে দুধ-ভাত খাবার পরে পেটের ব্যথা, পাতলা পায়খানা ও শ্বাস-কষ্ট শুরু হয়। একই অবস্থা ঘটে উপজেলা এজেড উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব ও তাঁর স্ত্রীর। তাদের ধারণা আমে ব্যবহৃত কেমিক্যাল থেকে এ অবস্থা হয়েছে। এরপর থেকে তারা বাজারের আম খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।

আম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বনওয়ারী নগর বাজারের কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমের মুকুল থেকে শুরু করে আম পাকা পর্যন্ত বেশ কয়েক ধাপে কেমিক্যাল প্রয়োগ করা হয়। এছাড়া গাছ থেকে আম পাড়ার পর আমের আকর্ষণীয় রং তৈরীর জন্য, আম পাকানোর জন্য এবং পাকা আমের পচন রোধের জন্য কেমিক্যাল প্রয়োগ করা হয়। ব্যবহৃত কেমিক্যাল ফরমালিন বা অন্য কোন পদার্থ  কি না তারা তা জানে না । তাদের বক্তব্য মাছ থেকে শুরু করে সব কিছুতেই বর্তমানে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। কাচা কলা এক রাতে পাকানো হয় । সব কিছুতেই কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। শুধু আমেরই বেশি নাম হচ্ছে। এদিকে কেমিক্যাল যুক্ত আমসহ অন্যান্য ফল খেয়ে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ভয়ে অনেকেই বাজারের আমসহ অন্যান্য ফল খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামে বুধবার সকালে ফরমালিনযুক্ত আম খেয়ে অসুস্থ হওয়ায় একই পরিবারের আট জন সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ঐ পরিবারের ভুক্তভোগী উমর আলী জানান, গত মঙ্গলবার বিকালে বেথুলিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরারর সময় পরিবারের জন্য তিনি আম কিনে আনেন। বুধবার ভোরে সেহেরিতে

রোজা রাখার জন্য আম দিয়ে দুধভাত খান। খাওয়ার  ১৫ মিনিট পর থেকে শুরু হয় একে একে সবারই পেটের পিড়া। ছুটতে হয় বারবার বাথরুমে। সকালে পরিবারের এ দুরাবস্থা দেখে প্রতিবেশিরা তাদের পরিবারের অসুস্থ ৮ সদস্য উমর শেখ (৪০), কহিনুর বেগম (৫৫), কাকলি পারভিন (১৪),সাগরিকা পারভিন (১২), মোছাঃ নুপুরি পারভিন (০৩), অপু মিয়া (০৮), আবুল কাসেম (১৬), ও শাহিন (০৯) কে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরা সবাই ওই গ্রামের উমর শেখের স্ত্রী ও সন্তান। মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মোকছেদুল মোমিন জানান, বিষয়টি ফুড পয়জনিন, ধারনা করা হচ্ছে আমে ফরমালিন থাকার জন্য এ ঘটনা ঘটতে পারে।

সারা দেশে যখন ‘ফরমালিন’ বিষযুক্ত আমসহ সব ধরনের ফল নিয়ে মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে, তখন বরগুনা জেলার অনেক সচেতন মানুষ বিষমুক্ত ফল খাওয়ার আশায় ভিড় জমাচ্ছেন মজিদ বিশ্বাসের আমের বাগানে। জেলার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নে শাখারিয়া-গোলবুনিয়া গ্রামে মজিদ বিশ্বাসের ২ একরের আমের বাগান। এ পর্যন্ত তিনি দেড় লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। শ্রাবণ মাস পর্যন্ত আরও ৫০ হাজার টাকার আম বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি। মজিদ বিশ্বাস জানান, প্রাকৃতিকভাবে সজীব আম উৎপাদনের ল্য নিয়ে ২০০৪ সালে ২ একর পতিত জমিতে কাঁদি কেটে আমের বাগান করেন তিনি। সে সময়ে তার খরচ হয়েছিল ৫০হাজার টাকা। বাগানে চাষ করেন আম্রপালি, ল্যাংড়া, হিমসাগর ও গোপালভোগ জাতের আম। গাছের পরিচর্যায় তিনি প্রাকৃতিক সার, বালাইনাশক ব্যবহার করেন। তিকারক কোনও রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই ভালো উৎপাদন পাচ্ছেন। কয়েক বছর ধরে বাগানের উৎপাদিত আম মজিদ বিশ্বাসের অর্থনৈতিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটিয়েছে। সব মিলিয়ে তিনি এখন সচ্ছল। ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিার জন্য ভালো শিা প্রতিষ্ঠানে পড়াচ্ছেন। মজিদ বিশ্বাসের বাগানের ফরমালিনমুক্ত আম কিনতে নিয়মিত ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। স্থানীয়রা জানান, বাজারের সব ফলই বিষাক্ত। আমাদের এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত ও ফরমালিনমুক্ত আম পাচ্ছি।
শিশুসন্তানসহ পরিবারের সবাই নিশ্চিন্তে এই আম খেতে পারছি। মজিদ বিশ্বাস জানিয়েছেন, স্থানীয় চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগান আরও বড় করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ নজরুল ইসলাম মাতব্বর জানান, বরগুনায় পতিত জমিতে আম চাষ করে কীভাবে লাভবান হওয়া যায় ও স্থানীয় চাহিদা পূরণ করা যায় সে বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসগুলো চাষিদের সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে।

Tuesday, 29 July 2014 19:43

আঁঁঠি ছাড়া আম

Written by

আঁঁটি ছাড়া আম! কেবল কল্পনাই করা যায়। হ্যাঁ, সেই কল্পনাকে সত্য প্রমাণ করেছেন ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। তাঁরা উত্পাদন করেছেন প্রায় আঁঁটি ছাড়া এই আম। ছয় মিলিমিটার আকারের ছোট আঁঁটি আছে এই আমে, যা আমাদের দেশের বরইয়ের আঁঁটির মতো বা তার চেয়ে ছোট।

ভাগলপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, নতুন উত্পাদন করা এই আমের ৯৫ শতাংশই খাওয়া যাবে। প্রায় তিন বছর আগে মহারাষ্ট্রের তাপোলির কঙ্কন কৃষি বিদ্যাপীঠের গবেষকেরা আলফানসো এবং রত্না আমের সংমিশ্রণে এই আম উত্পাদন করেছিলেন। নতুন প্রজাতির এই আমের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘সিন্ধু’। পরবর্তী সময়ে এই আম ফলানোর চেষ্টা হয় অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক ও উত্তরাখণ্ড রাজ্যে। কিন্তু জলবায়ু অনুকূল না থাকায় তাতে সাফল্য আসেনি। তবে সম্প্রতি ভাগলপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের পক্ষ থেকে এই আম উত্পাদনে সফল হয়েছেন গবেষকেরা।

ভাগলপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ভি ভি প্যাটেল জানান, তাঁরা এই ‘সিন্ধু’ আম উত্পাদনে সাফল্য পেয়েছেন। এই আমের ৯৫ শতাংশই মানুষ খেতে পারবে। ক্ষুদ্র আকৃতির একটি আঁঁটি থাকবে আমে।

Page 7 of 18