x 
Empty Product

সাতক্ষীরায় রোববার (২ মে) থেকে আম ভাঙা উৎসব শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তত্বাবধানে প্রথমে ভাঙা হচ্ছে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ আম।

পর্যায়ক্রমে ভাঙা হবে হিমসাগর, আম্রপালি ও ল্যাংড়া আম। আমের উৎপাদন গতবার থেকে ভাল হলেও দাম নিয়ে চিন্তিত চাষীরা। আর আমের মান বজায় রাখতে তৎপর প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

জেলা কৃষি অফিস গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, জেলায় এবার ৫ হাজারেরও বেশি বাগানে আম চাষ হয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার চাষী আম চাষ করেছেন। গতবছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিলো। এবার সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে চাষীরা।

এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিকটন। প্রায় পাঁচশ হেক্টর জমিতে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ আম চাষ করা হয়েছে। যা এবছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

এদিকে, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আগে থেকেই আম ভাঙার তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। নির্ধারণ করে দেয়া তারিখ অনুযায়ী রোববার থেকে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ আম ভাঙা হচ্ছে।

তবে জানা গেছে, প্রথম দিনে আমের দামে সন্তুষ্ট নন চাষীরা। সুলতানপুর বড়বাজারে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ আমের দাম মণপ্রতি ১৮০০-২২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে চাষীরা বলছেন ন্যুনতম মণপ্রতি দাম ২৮০০ টাকা বিক্রি না হলে তাদের লোকসান হবে।

বড়বাজারের আম ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, যেহেতু প্রথম আম আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি হচ্ছে তাই বাজার দর একটু কম। কয়েকদিনের মধ্যে বাজার চড়া হবে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নূরুল ইসলাম বলেন, বাইরে থেকে যারা আম কিনতে আসবেন তাদেরকে কমপক্ষে তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এছাড়া আম চাষীদের সুবিধার্থে ২১ মে হিমসাগর, ৪ জুন অম্রপালি ভাঙার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এবছর এখনো সাতক্ষীরায় ঝড়-বর্ষা হয়নি। তাপদাহে আম কিছুদিন আগে থেকে পরিপক্ক হয়েছে। তাই ভাঙার তারিখও এগিয়ে আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, সুলতানপুর বড়বাজারসহ বিভিন্ন আমের মোকামে প্রশাসনিক নজরদারি রাখা হয়েছে। রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে আম পাকালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আম সিন্ডিকেট যাতে গড়ে উঠতে না পারে সে বিষয়েও কড়া নজরদারি রয়েছে।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://banijjoprotidin.com

গ্রীষ্মকাল মানেই কাঠফাটা রোদ আর প্রচণ্ড গরম। তবে এ সময় প্রাণে স্বস্তি জাগায় পাকা আমের স্বাদ। বাংলাদেশের বাজারে এখনো পাকা আম না পাওয়া গেলেও এরই মধ্যে খোঁজ মিলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আমের। সেটি পাওয়া গিয়েছে কলম্বিয়ায়। শুধু খুঁজে পাওয়াই নয়, ইতিমধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নামও উঠে গিয়েছে ওই আমটির।

কলম্বিয়ার বোয়াক্কা এলাকার গুয়াতার সান মার্টিনের এক ফার্মে দুই কলম্বিয়ান জার্মান অরল্যান্ডো নোভোয়া বারেরা এবং রেইনা মারিয়া মারোকুইন এই কীর্তি অর্জন করেছেন। কিন্তু কত ওজন ওই আমটির? জানা গিয়েছে, কলম্বিয়ার এই আমটির ওজন ৪.২৫ কেজি। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। আর প্রায় সাড়ে চার কেজির আমটিই বিশ্বের সবচেয়ে ভারী আম।

এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিল ফিলিপিন্স। সেখানকার আমটির ওজন ছিল ৩.৪৩৫ কেজি। তবে জার্মান এবং রেইনারের এই আমটি সেই রেকর্ডই এবার ভেঙে দিল।

এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জার্মান এবং রেইনা জানান, প্রাথমিকভাবে আমটি বড় হওয়ার সময়ই সেটি যে অন্যান্য ফলের থেকে আলাদা তা বুঝতে পারেন তারা। এরপর জার্মানের মেয়ে নেট ঘেঁটে জানতে পারেন, তাদের ফার্মের আমটিই বিশ্বের সবচেয়ে ভারী আম। অর্থাৎ সেটির ওজনের সমান আম বিশ্বে আর একটিও নেই। এরপরই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠে যায় জার্মান এবং রেইনা ও তাদের আমটির।

এই প্রসঙ্গে জার্মান বলেন, এর মাধ্যমে আমরা গোটা বিশ্বকে জানাতে পেরেছি কলম্বিয়ার মানুষও কর্মঠ। যারা ভালবেসেই চাষবাস করেন এবং এত সুন্দর ফলও উৎপাদন করতে পারেন। আশা করি, করোনা আবহে এই সাফল্য এলাকার অনন্যাদের মুখেও হাসি ফোটাবে।

তিনি এই সাফল্য আবার গুয়াতার লোকজনকেই উৎসর্গ করেন। তবে আমটি কিন্তু আর গাছে নেই। ইতিমধ্যে জার্মানরা সেটি খেয়েও ফেলেছেন। আর আমটি যে মিষ্টি ছিল, সেটিও জানিয়েছেন তারা। তবে ইতিমধ্যে আমটির একটি রেপ্লিকা তৈরি করে স্মৃতি হিসেবে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে তুলেও দিয়েছেন জার্মান এবং রেইনা।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.arthosuchak.com

<

মৌসুমি ফল আম। যা কাঁচা এবং পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়। কাঁচা থাকতে আমের স্বাদ টক এবং পেকে গেলে খুবই মিষ্টি হয়। তবে টক স্বাদের কাঁচা আমের নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে সবার। তাইতো কাঁচা আমের তৈরি আচার, ভর্তা, জুস, ডাল কিংবা তরকারি খেয়ে থাকেন সবাই। তাছাড়াও গরমকালে বাঙালির পছন্দের খাবারের অনেক রেসিপি সাজানো থাকে কাঁচা আম দিয়ে।

তবে বছরজুড়ে এই কাঁচা আম পাওয়া সম্ভব হয় না। তবে আপনি চাইলে কাঁচা আম বছরব্যাপী সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। এই সংরক্ষণের পদ্ধতি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত এবং সহজ। উপকরণও পাওয়া যাবে হাতের নাগালেই। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক স্বাদ ও গন্ধ ঠিক রেখে কাঁচা আম সংরক্ষণের পদ্ধতিটি-

যা যা লাগবে

পরিমাণমতো পানি, হাফ টেবিল চামচ চিনি, হাফ টেবিল চামচ ভিনেগার।

পদ্ধতি

প্রথমে কাঁচা আমগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন। তারপর আম থেকে খোসা ছাড়িয়ে আবার ধুয়ে নিন। এবার পছন্দমতো আকৃতিতে আমগুলো টুকরো করে নিন। আমের ভেতরের বিচি ও পাতলা সাদা কাগজের মতো অংশটি ফেলে দিন। এরপর অন্য একটি পাত্রে পরিমাণমতো পানি, হাফ টেবিল চামচ চিনি এবং হাফ টেবিল চামচ ভিনেগার একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণে এবার আমের টুকরোগুলো আধা ঘণ্টার মতো ভিজিয়ে রাখুন। ভেজানো হয়ে গেলে আমগুলো থেকে ছাঁকনির মাধ্যমে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার টিস্যু দিয়ে আমের টুকরোগুলো আবারো ভালোভাবে মুছে নিন। একটি প্লেটে আমের টুকরোগুলো ছড়িয়ে দিন। যাতে এতে একদমই পানি না থাকে।

পানি শুষে গেলে এভাবেই আমগুলো ডিপ ফ্রিজে দুই ঘণ্টার জন্য রেখে দিন। তারপর আমগুলো বের করে পছন্দের বক্সে সাজিয়ে নিন। এবার ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। ব্যস, এই পদ্ধতিতে পুরো এক বছরের জন্য আপনি কাঁচা আম সংরক্ষণ করতে পারবেন। তাও এর স্বাদ ও গন্ধ ঠিক রেখে।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.daily-bangladesh.com

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আম নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের হামলায় মমিন খান (৩৩) নামের এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

সোমবার (৩ মে) দুপুরে মমিন তিনজনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হলেন, মুশা শেখ, মহাসিন শেখ ও লাবলী বেগম। আহত যুবলীগ নেতা ও অভিযুক্ত সকলেই পৌর এলাকার বাঁকাইল গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২ মে) বিকেলে মমিন খানের খালাতো ভাই আলামিনসহ তার বন্ধুরা মিলে অভিযুক্তদের বাড়ির পাশে ক্রিকেট খেলছিল। এসময় একটি বল অভিযুক্তদের আম গাছে আটকে যায়।

তখন ছেলেরা ঢিল ছুড়ে বল পাড়তে গেলে একটি আম পড়ে যায়। এসময় মুশা শেখ আলামিনকে গালিগালাজ করেন। আলামিন বিষয়টি তার খালাতো ভাই মমিনকে জানান।

পরে মমিন সন্ধ্যায় মুশা শেখকে ডেকে আলামিনকে গালি দেয়ার কারণ জানতে চান। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা করে। এতে মমিনের মাথার মাঝখানে কোপ লাগে। এতে তিনি আহত হন।

কোপ খেয়ে রাস্তার ওপরে পড়ে যান তিনি। তখন অভিযুক্তরা তাকে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

অভিযুক্ত মুশা শেখ বলেন, মমিনরা আমাদের মারার জন্য বাড়িতে আসলে আমরা তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করি।

আলফাডাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.jagonews24.com

এবার প্রাকৃতিক বালাই কম থাকায় নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকায় আমের ভালো ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকরা। টানা এক মাস খরার পর ক'দিন আগে বৃষ্টিতে সতেজ হয়ে উঠেছে বাড়ন্ত আমগুলো। মে মাসের মাঝামাঝিতে আম বাজারজাত করতে বাগানে চলছে নিবিড় পরিচর্যা। কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আম উৎপাদন হবে জেলায়।


থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা সবুজ সতেজ বাড়ন্ত আমগুলোতে যেন দুলছে কৃষকের স্বপ্ন । গত প্রায় এক মাস বৃষ্টি ছিল না বরেন্দ্র এলাকায়, তাই বোটা থেকে ঝরে পড়তে শুরু করেছিল আম। কিন্ত গত সপ্তাহে মুষলধারে বৃষ্টিতে সতেজ হয়ে উঠেছে নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকার আম বাগানগুলো। এতে ঝরে পড়া রোধসহ পোক্ত বোটায় বাড়ছে পরিপক্বতা।

আসছে মে মাসের শেষ সপ্তাহে বাণিজ্যিকভাবে আম বাজারজাত করার জন্য বাগানে চলছে নিবিড় পরিচর্যা। আপদকালীন বালাই দূর করতে গাছে ঝুলে থাকা আমে সকাল বিকেল ছিটানো হচ্ছে পানি। এবার ঘন কুয়াশা ও শীত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় দেরিতে মুকুল আসলেও শেষ পর্যন্ত ভালো ফলনের আশা বাগান মালিকদের।

গতবারের মতো এবারো আমের ভালো ফলন ও বাজার নিশ্চিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ বলে জানান মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্রী অরুণ কুমার রায়।

কৃষি গবেষণার তথ্য মতে, বরেন্দ্র এলাকায় অন্তত ২২ প্রজাতির সুস্বাদু জাতের আমের বাগান রয়েছে। এর মধ্যে ল্যাংড়া, গোপাল ভোগ ও খিরসাপাত জাতের আম রয়েছে। বাগানের গাছ থেকে মে মাসের ২০ তারিখের পর নামানো শুরু হবে আম। 

লাল সালু পাকা আম, কুড়ে যদি পাইতাম ছাল ছোলে খাইতাম ইশ্‌ রসে গান গাইতাম! ফলের রাজা আম। কে বা না জানে? এ আম নিয়ে রয়েছে বহু ছড়া, কবিতা ও উপন্যাস। আমের আদি নিবাস দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশে ১৫২ জাতের আম রয়েছে যার মধ্যে ৩১ টি জাত অধিকহারে চাষাবাদ হচ্ছে। আম উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। দেশে আম উৎপাদন প্রায় ২৪ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। ফলের পুষ্টির চাহিদার বড় অংশের যোগান দেয় এ আম। ভিটামিন ’এ’ এর উৎস হিসাবে আমের স্থান পৃথিবীর সকল ফলের উপরে। আম হজম শক্তি বৃদ্ধিতে, শরীর ফিট রাখতে, দেহের শক্তি বাড়াতে এবং শরীরের ক্ষয়রোধ করতে সহায়তা করে। আমে উচ্চ পরিমান প্রোটিন এর উপসি’তি যা জীবানু থেকে দেহকে রক্ষা করে, পুরুষের যৌনশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং শুক্রাণুর গুনগত মান ভালো রাখে। লিভারের সমস্যায় কাঁচা আম বেশ উপকারী। আম শরীরের রক্তে কোলেস্টেলের মাত্রা কমায় এবং আমাদের হার্টকে সুস’ ও সবল রাখে। পর্যাপ্ত পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর উপস্থিতির কারণে শরীরের ক্যান্সার প্রতিরোধে আম বেশ সহায়ক। তাছাড়া পাকা এবং কাঁচা আমের জুস খেতে কার না ভালো লাগে? যে আমের এত উপকারিতা সে আম যদি নিরাপদ ও বিষমুক্ত হয় তাহলে আর কথায় নেই। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনের জন্য ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি অন্যতম। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কর্তৃক এ প্রযুক্তিটি উদ্ভাবিত হয়েছে। উত্তরাঞ্চল সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে উহা একটি লাভজনক প্রযুক্তি হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আম পোকা এবং চুকা।এই প্রবাদ বাক্যটি বহুদিনের পুরানো। কিন’ সেদিন আর নেই। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কারনে এবং নতুন নতুন আমের জাত উদ্ভাবনের সুবাধে মানুষ এখন অনায়সে মিষ্টি-মধুর আম ভক্ষণ করতে পারছে। কিন’ সমস্যা থেকে যাচ্ছে পোকার আক্রমণ। মাছি পোকা হলো আমের প্রধান শত্রু। তাছাড়া ক্রমাগত আবহাওয়ার বিরুপ প্রভাবের কারনে নতুন নতুন পোকার আক্রমণ ঘটছে। ফলে আম বাগানীরা তা দমনের জন্য অনায়াসে কীটনাশক প্রয়োগ করে যাছে। এ কীটনাশক প্রয়োগের মাত্রা সীমাহীন। তাতে শ্রম এবং টাকা দু’টোই গচ্ছা যাচ্ছে। পরিবেশেরও বেশ ক্ষতি হচ্ছে। তাতেও আমকে কিছুটা পোকামুক্ত করতে পারলেও আমটি কিন’ আর নিরাপদ থাকছে না। অন্যদিকে ভোক্তারা চায় নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম। আমের ব্যাগিং প্রযুক্তিটি চীন, থাইল্যান্ড, ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ বহু উন্নয়নশীল দেশে ব্যাপক আকারে ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশে বিগত দশক থেকে এ প্রযুক্তিটি রাজশাহী, শিবগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জ সহ উক্তরাঞ্চলে বেশ সাড়া ফেলেছে। সেখানে আম বাগানীরা কোটি কোটি আম ব্যাগিং করছে। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ভ্যালু চেইন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে ২০১৭ সাল থেকে পরীক্ষমূলকভাবে আমে ব্যাগিং শুরু হয়। বর্তমানে পাহাড়ী অঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে এ প্রযুক্তিটি লাভজনক হিসাবে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রযুক্তিটি ব্যবহারের আগে হাতে-কলমে শিখে নেওয়া ভালো। বারি আম-৩ (আম্রপালি), বারি আম-৪, মল্লিকা, আশ্বিণা ইত্যাদি আমে ব্যাগিং করলে ভালো লাভ পাওয়া যায়। একটি গাছের সব আমে ব্যাগিং করতে হবে এমন কোন কথা নেই। ঝুঁকিপূর্ণ বড় আম গাছে আম ব্যাগিং না করাই ভালো। সাত ফিট উঁচু মইয়ের উপর উঠে যতটুকু আম ব্যাগিং করা যায় ততটুকুই করা ভালো। বানিজ্যিকভাবে বড় গাছে আম ব্যাগিং এর জন্য বারি সম্প্রতি সেল্প প্রপেল্ড হাইড্রলিক লিফটার উদ্ভাবন করেছে।
আগাম জাতের আমের গুটির বয়স ৪০-৫৫ দিন এবং নাবী জাতের গুটির বয়স ৬০-৬৫ দিন হলে ব্যাগ পরানো যায়। সাধারনত: জাতভেদে মধ্য এপ্রিল থেকে এপ্রিল শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যাগিং এর উপযুক্ত সময়। ব্যাগিং করা আম সংগ্রহ করার পর ভালোভাবে পাকিয়ে খেলে এর মিষ্টতা তেমন কমে না। এক্ষেত্রে ব্যাগিং করার সময় ও পদ্ধতি সঠিকভাবে মেনে চলা উচিত।
ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি বলতে ফল গাছে থাকা অবস’ায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে বা বয়সে বিশেষ ধরণের কাগজের ব্যাগ দ্বারা ফলকে আবৃত করাকে বুঝায়। ব্যাগিং করার পর থেকে ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত গাছেই লাগানো থাকে ব্যাগটি। আমের জন্য দুই ধরণের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। রঙিন আম বা আমের অরিজিনাল রঙ ঠিক রাখার জন্য সাদা ব্যাগ আর অন্যান্য জাতের জন্য বাদামি রং এর দু’স্তরের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। বাদামী রঙের ব্যাগ ব্যবহার করলে আমের রঙ খুবই উজ্জল হলুদাভ আকর্ষণীয় হয়। ফলে ক্রেতা আকৃষ্ট হয়। গবেষণায় দেখা গেছে সঠিক সময়ে ও সঠিক পদ্ধতি মেনে ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলে আমের রোগ এবং পোকা শতভাগ দমন করা যায়। ব্যাগিং এর কারণে আমের গায়ে কালো দাগ পড়ে না এবং বালাইনাশকের ব্যবহার ৭০-৮০ ভাগ কমে ফলে পরিবেশ ও জনস্বাসহ্য সুরক্ষা হয়। ব্যাগিং করা আম দীর্ঘদিন ঘরে রেখে খাওয়া যায়। যার সংরক্ষণকাল জাতভেদে ১০-১৪ দিন পর্যন্ত বাড়ে। আমকে বাইরের বিভিন্ন ধরনের আঘাত, পাখির আক্রমণ, প্রখর সূর্যালোক এবং রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হতে সহজেই রক্ষা করা সম্ভব। তাই ছাদ বাগানের আম গাছেও এটি ব্যবহার করা যায়। ব্যাগিং করা আমের গুনগত মান বজায় থাকে। তবে স্বাদ ঠিক রাখতে ব্যাগিং আম ভালভাবে পাকিয়ে খেতে হবে।
আমের ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহারে লাভের চাইতে খরচের পরিমান অতি নগণ্য। শুধুমাত্র ব্যাগ ক্রয়ের খরচ এবং ব্যাগ লাগানো ও খোলার জন্য শ্রমিক প্রয়োজন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে জাতভেদে প্রতি টন আমে ব্যাগিং খরচ ৬২৭০ টাকা অর্থাৎ প্রতি কেজি আমের ব্যাগিং খরচ ৬.২৭ টাকা যেখানে ব্যাগের মূল্য ৪ টাকা হিসাব করা হয়েছে। ব্যাগিং আমে বাজার মূল্য অধিক পাওয়া যায়। জাতভেদে ব্যাগিং আমের গড় বিক্রি মুল্য প্রতি কেজি ৬০.৫৯ টাকা যা নন-ব্যাগিং আমে গড় ৩৪.৮১ টাকা। এক্ষেত্রে উভয়ের প্রতি কেজির পার্থক্য ২৫.৭৮ টাকা যা ব্যাগিং আমে ৭৪% বেশি মুল্য পাওয়া যায়। ব্যাগিং খরচ ভিত্তিতে প্রতি টন ব্যাগিং আমে নিট লাভ ৫৭৫৫০ টাকা যা নন-ব্যাগিং আমে ৩৪৭৬০ টাকা। প্রতি টন আমে উভয়ের নিট লাভে পার্থক্য ২২৭৯০ টাকা। এতে প্রতিয়মান হয় যে, আমের মূল্য সংযোজনে ব্যাগিং একটি লাভজনক প্রযুক্তি। ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী বা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। গুগল প্লে ষ্টোর থেকে বারি’র কৃষি প্রযুক্তি ভান্ডার এপসটি ইনস্টল করে নেওয়া যেতে পারে। সেখানে অন্যান্য প্রযুক্তি সেকশনে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসাবে এটি লিপিবদ্ধ আছে।
প্রযুক্তিটি দ্রুত সম্প্রসারনের জন্য কৃষক এবং সম্প্রসারণ কর্মীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে। কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে সহযোগিতা করে আসছে। ব্যাগিং প্রযুক্তির উপকারিতা সম্পর্কে বিভিন্ন মিডিয়া এবং সম্প্রসারন কর্মীদের সহায়তায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কৃষি তথ্য সার্ভিস অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। মানসম্মত ব্যাগ তৈরির জন্য স’ানীয়ভাবে উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরির উপর জোর দেওয়া যেতে পারে। ব্যাগ প্রাপ্তি সহজ লভ্য করার জন্য প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সাথে কৃষক বা কৃষক সংগঠনের সংযোগ বাড়াতে হবে। তবেই নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন ও বাজারজাতকরন সম্ভব হবে। একই সাথে আম রপ্তানীরও সুযোগ বাড়বে।

লেখক : ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কৃষি অর্থনীতিবিদ, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বারি, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।


এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://dainikazadi.net

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঝরে পড়া কড়ালি আম দুই টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ও বাজারের মোড়ে এই আম বিক্রি হতে দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার (২২এপ্রিল ২০২১) সকালে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ও বাজারের মোড়ে এই কড়ালি আম দুই টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা ওসব আম কুড়িয়ে দুই টাকা কেজি ধরে বিক্রি করছেন। তবুও ক্রেতার অভাবে এসব আম ভালো বিক্রি হচ্ছে না।

আম বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৈশাখের চড়া রোদে আমের বোঁটা নরম হয়ে যায়। এরপর একটু বাতাস হলেই ঝরে পড়ে গাছ থেকে। এই আম গ্রামের সাধারণ মানুষ কুড়িয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ও বাজারের মোড়ে দুই টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

উপজেলার মোহননগর গ্রামের আমবাগান মালিক শফিউল আলম বলেন, আমার আমবাগানে প্রতিটি গাছে ব্যাপক আম ধরেছে। হঠাৎ প্রখর রোদ ও একটু বাতাসে আম ঝরে যাচ্ছে। ছোট ছেলে-মেয়েরা আম কুড়িয়ে দেড় থেকে দুই টাকা কেজিতে বিক্রি করছে।

উপজেলার ডাকরা এলাকার মুকিদুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা বরাবর ঝরে পড়া কড়ালি আম কিনে ঢাকায় চালান করি। এই কড়ালি আম দেড় টাকা থেকে দুই টাকা দরে ক্রয় করছি।

একই এলাকার বিক্রেতা নবীর আলী বলেন, আমি বাগান পাহারা দিয়ে থাকি। মালিকরা মাচা তৈরি করার জন্য বলেছেন। সেই মোতাবেক কিছু কিছু বাগান পাহারা দেয়ার জন্য মাচা তৈরির কাজ শুরু করেছি। তবে এখন বাতাসে যে কড়ালি আম ঝরে পড়ছে, সেগুলো কুড়িয়ে বিক্রি করছি। বাগান মালিকরা এগুলোর টাকা নেয় না। দেড় থেকে দুই টাকা কেজি ধরে বিক্রি করছি এসব আম।

চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই এ অঞ্চলে বৃষ্টি নেই। ফলে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। তাপমাত্রাও দিন দিন বাড়ছে। অতিরিক্ত খরার কারণে কিছুটা আমের গুটি ঝরছে।

বাগানের মাটি শুকিয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আচাষিদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আমাদের পরামর্শ নিয়ে চাষিরা লাভবান হবেন।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://agricare24.com

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় লিচু গাছে আম ধরা ও তা ছিঁড়ে ফেলা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। বিরল এ ঘটনা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছিলেন। এরই মাঝে হঠাৎ জানা গেল আমটি রাগের বশে ছিঁড়ে ফেলেছেন স্থানীয় এক সাবেক মেম্বর। এদিকে আম ছেঁড়ার একদিন পর বুধবার (২১ এপ্রিল) সেই আমের শুকিয়ে যাওয়া বোঁটা ও আঠাজাতীয় পদার্থের উপস্থিতিতে নতুন করে চলছে আলোচনা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিষয়টি ম্যানুপুলেট করা হয়েছে।’ কেউ এটি আঠা দিয়ে লাগাতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, আমটি ছেঁড়ার পর তার বোটা শুকিয়ে গেছে, যা স্বাভাবিকভাবে আম ছিঁড়ে নেওয়ার পরে বোঁটার মতো নয়। সঙ্গে আঠাজাতীয় পদার্থের উপস্থিতিও রয়েছে। আমটি ছিঁড়ে ফেলার পরও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও কার্যালয় ওই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি ম্যানুপুলেট করা হয়েছে, সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে। হয়তো এটি কেউ আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়েছিল। অথবা অন্য কোনো কৌশলে এটি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘লিচুর বোঁটাটি লম্বা হলেও আমেরটি স্বাভাবিকের তুলনায় খুব খাটো। এসব দেখে বিষয়টি খটকা লাগছে প্রথম থেকেই। ছিঁড়ে ফেলার কারণে এখন সেটা বোঝা যাচ্ছে। বোঁটা শুকিয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক বোঁটার মতো নয়। বেশ কালচে।’

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘বিষয়টি আমরাও পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। আমটি রাখতেও হয়েছিল ওই পরিবারকে। কিন্তু সেটা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনা বেশি ছড়িয়ে পড়ছিল বলেই সেটি করা হয়েছে।’

 

লিচু গাছে আম ধরার ঘটনার কোনো বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি উদ্যানতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা। ফলে এটিকে একটি অলৌকিক ঘটনা মেনে নিয়েছিল অনেকেই। বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েক দিন অপেক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কারণ আমটি কোনো কৌশলে লাগানো হলে তা ঝরে পড়বে বা শুকিয়ে যাবে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আমটি যদি বড় হতে থাকে, তখন সেটাকে অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে নেওয়া হবে। তখন এটা নিয়ে গবেষণার সুযোগ থাকবে। তবে আমটি ছিঁড়ে ফেলার পর থেকেই স্থানীয়রা এটিকে সাজানো বলে অভিহিত করছেন। তবে যারা নিজের চোখে লিচুর গাছে আম ঝুলতে দেখেছেন তারা বিষয়টি অলৌকিক বলেই ধরে নিয়েছেন।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এক গাছে অন্য ফল শুধু গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে সম্ভব। তবে লিচু ও আমের ক্ষেত্রে এটা করা যাবে না। লিচু ও আমের টিস্যু সিস্টেম এক নয়।

তিনি আরো জানান, লিচুর সঙ্গে আমগাছের ডাল জোড়া লেগেছে এমন উদাহরণ নেই। লিচু ও আম এক পরিবারের উদ্ভিদ নয়। ক্রোমোজম সংখ্যা যদি এক হয়, তবে অনেক সময় ঘটতে পারে। সেটাও নয়। উদ্ভিদতত্ত্বে এর কোনো ব্যাখ্যা নেই।

আমটি ছিঁড়ে ফেলেন স্থানীয় সাবেক মেম্বার।

লিচু গাছটির মালিক আবদুর রহমান জানান, কোনো পদ্ধতি নয়, স্বাভাবিকভাবেই সেখানে আম ধরেছে। গত শনিবার সকালে তার নাতি হৃদয় ইসলাম তাকে জানায়, লিচুগাছে একটা আম ধরেছে। তিনি গিয়ে সরেজমিনে তা প্রত্যক্ষ করেন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ এটি দেখতে ভিড় করেন। এরপর লিচু গাছে আমের ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। গতকাল মঙ্গলবার এলাকার সাবেক মেম্বার সিকিম লিচুগাছ থেকে আমটি ছিঁড়ে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেন গাছের মালিক আবদুর রহমান।

তবে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য সিকিম বলেন, ‘এলাকায় একটি লিচু গাছে আম ধরেছে। সেটি দেখার জন্য সারাদিন অনেক দূর থেকে মানুষ আসছে। গাড়ি নিয়েও লোকজন দলে দলে ভিড় করছে। এতে গতকাল আমার ভাতিজা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। তাই রাগের মাথায় আমটি ছিঁড়ে ফেলেছি। পরে বুঝতে পেরেছি, আমটি ছেঁড়া ঠিক হয়নি’।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। দেখে মনে হয়েছে সত্যি লিচু গাছে আম ধরেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য গবেষণার প্রয়োজন ছিল। এর মধ্যে ওপর মহলে যোগাযোগও করেছিলাম। কিন্তু আসল রহস্য আর জানা হলো না। শুনেছি কে বা কারা আমটি ছিঁড়ে ফেলেছে।


এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://inews.zoombangla.com

সদর উপজেলায় লিচু গাছে আম ধরা ও তা ছিঁড়ে ফেলা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। বিরল এ ঘটনা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছিলেন। এরই মাঝে হঠাৎ জানা গেল আমটি রাগের বশে ছিঁড়ে ফেলেছেন স্থানীয় এক সাবেক মেম্বর। এদিকে আম ছেঁড়ার একদিন পর বুধবার (২১ এপ্রিল) সেই আমের শুকিয়ে যাওয়া বোঁটা ও আঠাজাতীয় পদার্থের উপস্থিতিতে নতুন করে চলছে আলোচনা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিষয়টি ম্যানুপুলেট করা হয়েছে।’ কেউ এটি আঠা দিয়ে লাগাতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, আমটি ছেঁড়ার পর তার বোটা শুকিয়ে গেছে, যা স্বাভাবিকভাবে আম ছিঁড়ে নেয়ার পরে বোঁটার মতো নয়। সঙ্গে আঠাজাতীয় পদার্থের উপস্থিতিও রয়েছে। আমটি ছিঁড়ে ফেলার পরও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও কার্যালয় ওই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি ম্যানুপুলেট করা হয়েছে, সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে। হয়তো এটি কেউ আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়েছিল। অথবা অন্য কোনো কৌশলে এটি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘লিচুর বোঁটাটি লম্বা হলেও আমেরটি স্বাভাবিকের তুলনায় খুব খাটো। এসব দেখে বিষয়টি খটকা লাগছে প্রথম থেকেই। ছিঁড়ে ফেলার কারণে এখন সেটা বোঝা যাচ্ছে। বোঁটা শুকিয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক বোঁটার মতো নয়। বেশ কালচে। আমটি ছিঁড়ে ফেলার একদিন পরেই শুকিয়ে গেছে সেই বোটা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘বিষয়টি আমরাও পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। আমটি রাখতেও হয়েছিল ওই পরিবারকে। কিন্তু সেটা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনা বেশি ছড়িয়ে পড়ছিল বলেই সেটি করা হয়েছে।’

লিচু গাছে আম ধরার ঘটনার কোনো বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি উদ্যানতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা। ফলে এটিকে একটি অলৌকিক ঘটনা মেনে নিয়েছিল অনেকেই। বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েক দিন অপেক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কারণ আমটি কোনো কৌশলে লাগানো হলে তা ঝরে পড়বে বা শুকিয়ে যাবে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আমটি যদি বড় হতে থাকে, তখন সেটাকে অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে নেওয়া হবে। তখন এটা নিয়ে গবেষণার সুযোগ থাকবে। তবে আমটি ছিঁড়ে ফেলার পর থেকেই স্থানীয়রা এটিকে সাজানো বলে অভিহিত করছেন। তবে যারা নিজের চোখে লিচুর গাছে আম ঝুলতে দেখেছেন তারা বিষয়টি অলৌকিক বলেই ধরে নিয়েছেন।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এক গাছে অন্য ফল শুধু গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে সম্ভব। তবে লিচু ও আমের ক্ষেত্রে এটা করা যাবে না। লিচু ও আমের টিস্যু সিস্টেম এক নয়।

তিনি আরো জানান, লিচুর সঙ্গে আমগাছের ডাল জোড়া লেগেছে এমন উদাহরণ নেই। লিচু ও আম এক পরিবারের উদ্ভিদ নয়। ক্রোমোজম সংখ্যা যদি এক হয়, তবে অনেক সময় ঘটতে পারে। সেটাও নয়। উদ্ভিদতত্ত্বে এর কোনো ব্যাখ্যা নেই।

লিচু গাছটির মালিক আবদুর রহমান জানান, কোনো পদ্ধতি নয়, স্বাভাবিকভাবেই সেখানে আম ধরেছে। গত শনিবার সকালে তার নাতি হৃদয় ইসলাম তাকে জানায়, লিচুগাছে একটা আম ধরেছে। তিনি গিয়ে সরেজমিনে তা প্রত্যক্ষ করেন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ এটি দেখতে ভিড় করেন। এরপর লিচু গাছে আমের ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। গতকাল মঙ্গলবার এলাকার সাবেক মেম্বার সিকিম লিচুগাছ থেকে আমটি ছিঁড়ে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেন গাছের মালিক আবদুর রহমান।

তবে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য সিকিম বলেন, এলাকায় একটি লিচু গাছে আম ধরেছে। সেটি দেখার জন্য সারাদিন অনেক দূর থেকে মানুষ আসছে। গাড়ি নিয়েও লোকজন দলে দলে ভিড় করছে। এতে গতকাল আমার ভাতিজা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। তাই রাগের মাথায় আমটি ছিঁড়ে ফেলেছি। পরে বুঝতে পেরেছি, আমটি ছেঁড়া ঠিক হয়নি।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। দেখে মনে হয়েছে সত্যি লিচু গাছে আম ধরেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য গবেষণার প্রয়োজন ছিল। এর মধ্যে ওপর মহলে যোগাযোগও করেছিলাম। কিন্তু আসল রহস্য আর জানা হলো না। শুনেছি কে বা কারা আমটি ছিঁড়ে ফেলেছে।


এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://m.newsg24.com/bangladesh-news/94115/find-out

লিচু গাছে আম! অবিশ্বাস্য ঘটনা। কোনোরকম কাটিং বা কৃত্রিম কোনো পদ্ধতি ছাড়াই এমন ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদরের কলোনীপাড়ায়- এমন দাবি গাছটির মালিকের। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ এটি দেখতে ভিড় করেন। এরপর সোমবার (১৭ এপ্রিল) বিষয়টি দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে উঠে আসে।

গাছের মালিক আবদুর রহমান জানান, শুরুটা ভালো হলেও শেষটা বেশ আশাহত করার মতো। প্রভাবশালীদের চক্রান্তে আমটি আর বড় হতে পারেনি। ক্ষোভের বশে আমটি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

তবে জানা যাচ্ছে, চমক সৃষ্টির জন্য এটি ছিল সাজানো নাটক। কারণ আম ছেঁড়ার একদিন পর (বুধবার) সেই আমের বোঁটা শুকিয়ে গেছে, যা স্বাভাবিকভাবে আম ছিঁড়ে নেওয়ার পরে বোঁটার মতো নয়। সঙ্গে আঠাজাতীয় পদার্থের উপস্থিতিও রয়েছে বলে ধারণা হচ্ছে অনেকেরই।

এরপর থেকেই ওই এলাকার বেশিরভাগ মানুষ এটিকে নাটক বলে অভিহিত করছেন। অবশ্য কেউ কেউ বিষয়টিকে অলৌকিক বলেই ধরে নিয়েছেন। এ নিয়ে সারা দেশে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল আজ বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সেখানে যাবেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদরের কলোনীপাড়ার আবদুর রহমান লিচু গাছটি লাগান ৫ বছর আগে। ৩ বছরে গাছটিতে মুকুল আসা শুরু হয়। গত বছরের তুলনায় এবার মুকুলের পরিমাণ বেশি, তাই খুশি গৃহকর্তা। কিন্তু আনন্দের সঙ্গে বিস্ময় যোগ হয়েছে অন্য এক কারণে- লিচুর সঙ্গে একই থোকায় ঝুলছে একটি আম।

আব্দুর রহমান বলেন, গত শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে লিচু গাছে আমটি দেখে আমার নাতি দেখে আমাকে ডাক দিল। আমার সঙ্গে আরও দুজন লোক ছিল। বলে নানা দেখেন, আল্লাহর কী রহমত লিচু গাছে আম। তারা জীবনে প্রথমবারের মতো এমন ঘটনার সাক্ষী হলেন বলছেন অনেক স্থানীয়রা।

খবর শুনে কৃষি কর্মকর্তারাও ছুটে যান দু'রকম ফল ধরা গাছটির কাছে। কিন্তু এর আগেই রোষাণলের শিকার হয় আমটি।

আব্দুর রহমান জানান, অনেকের মতো স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সিকিমের এক আত্মীয়ও আম দেখার জন্য আসার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফলটি নষ্ট করার হুমকি দেন তিনি।

অভিযুক্ত মেম্বার প্রথমদিকে আমটি ছিঁড়ে ফেলার কথা স্বীকার করলেও পরে বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দেন।

তিনি বলেন, সারাদিন অনেক দূর থেকে গাড়ি নিয়ে মানুষ আসছে। এতে সোমবার তার ভাতিজা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন। করোনার ঝুঁকি বেড়েছে। তাই আবদুর রহমানকে মানুষের সমাগম কমানোর জন্য বলতে গিয়েছিলাম। ওই সময় কেউ হয়তো আমটি ছিঁড়ে ফেলেছে। এখন আমাকে দোষারপ করা হচ্ছে।

এদিকে গত কয়েক দিন এ ঘটনার কোনো বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি উদ্যানতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা। তবে প্রথম থেকেই কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলে আসছিলেন, যে কেউ আঠা দিয়ে লিচুর ডালে আমটি লাগিয়েও দিতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি ম্যানুপুলেট করা হয়েছে, সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে। হয়তো এটি কেউ আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়েছিল। অথবা অন্য কোনো কৌশলে এটি করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, লিচুর বোঁটাটি লম্বা হলেও আমেরটি স্বাভাবিকের তুলনায় খুব খাটো। এসব দেখে বিষয়টি খটকা লাগছে। ছিঁড়ে ফেলার কারণে এখন সেটা বোঝা যাচ্ছে। বোঁটা শুকিয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক বোঁটার মতো নয়। বেশ কালচে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আমরাও পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। আমটি রাখতেও বলা হয়েছিল ওই পরিবারকে। কিন্তু সেটা রহস্যজনকভাবে ছিঁড়ে ফেলা হয়। 

এর আগে গত সোমবার (১৯ এপ্রিল) তিনি সময় নিউজকে বলেছিলেন, এটা একটি বিরল ঘটনা। যা আগে কখনও ঘটেনি। প্রকৃতির ব্যত্যয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলে তিনি।

গাছ বিশেষজ্ঞ কে এম সবুজ জানান, এটি গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা প্রাকৃতিক বা জিনগত বৈশিষ্টের কারণে যদি না হয়, তাহলে পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়া আমরা বলতে পানি না যে আসলে এটা কিভাবে হলো।

এদিকে বুধবার বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি আমি জানার পর থেকেই অসম্ভব বলে ধরে নিয়েছি। এমন ঘটনা কোনোভাবে হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, এক গাছে অন্য ফল শুধু গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে সম্ভব। তবে লিচু ও আমের ক্ষেত্রে এটা করা যাবে না। লিচু ও আমের টিস্যু সিস্টেম এক নয়। লিচুর সঙ্গে আমগাছের ডাল জোড়া লেগেছে এমন উদাহরণ নেই। লিচু ও আম এক পরিবারের উদ্ভিদ নয়।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.somoynews.tv/

মাত্র ক'দিন আগে গাছ ভরা মুকুলে গুটি গুটি আম দেখে স্বপ্ন বাঁধেন আম চাষিরা। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে গাছের তলায় মাটিতে ঝরে পড়ছে সে আমের গুটি। গাছের গোড়ায় পানি ঢেলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

 

ধামইরহাট উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চোখে পড়ে ছোট-বড় নানান জাতের আমের বাগান। শুধু তাই নয় রাস্তার আশেপাশে, পুকুর পাড়সহ বাড়ির আঙিনায় শোভা পাচ্ছে সুস্বাদু জাতের আমের গাছ। গতবছর ঝড় আমফানের পর বেশ কয়েক মাস হয়ে গেল এ অঞ্চলে বৃষ্টির দেখা নেই। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাপদাহ বেড়েই চলেছে। অথচ প্রকৃতিতে এখন ভরা বৈশাখ মাস। এ মাসে মেঘের ভেলায় কমবেশি ঝড়-বৃষ্টি হয়ে থাকে। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় বৈশাখের খরতাপে পুড়ছে গাছের আম।

শুরুর দিকে এ অঞ্চলে আম গাছের ডালে মুকুলে ছয়ে যায়। এমনও দেখা গেছে মুকুলের ভারে অসংখ্য আমের ডাল নুয়ে পড়ে মাটিতে। অতঃপর গুটি গুটি আমে ছেয়ে যায় পুরো গাছ। তা দেখে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন এ এলাকার আম চাষিরা।

এভাবে আম ঝরে পড়তে দেখে আম চাষিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

আম চাষি শিবলী সরকার জানান, তার ১৫ বিঘার মুকুল ভর্তি আমের বাগানে গুটি গুটি আমে ছেয়ে ছিলো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় ঝরে পড়ছে তার বাগানের আম। গুটি গুটি আমগুলো রক্ষার জন্য এই মুহূর্তে বৃষ্টি ভীষণ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধামইরহাট উপজেলায় ছোট বড়ো প্রায় ১শ ১০টি আমের বাগান রয়েছে। শুরুতে ভালো আবহাওয়া থাকায় আমের মুকুলে পোকা হয়নি, পচনও ধরেনি। তাতে গাছ ভর্তি গুটি গুটি আম ধরেছিলো। সম্প্রতি রুক্ষ আবহাওয়ার সঙ্গে তাপদাহ বেড়ে যাওয়ায় গাছ থেকে আম ঝরে পড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমের সঠিক পরিচর্চার জন্য আমরা প্রতিদিন আম চাষিদের বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। যেমন গাছে ফল ধরার ১৫ দিন পর পর পানির সেচ দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও আম মটরদানা ও মার্বেল পর্যায়ে হলে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া ২ গ্রাম বরিক এসিড স্প্রে করতে হবে। এতে আম চাষিরা ভালো ফলন পাবেন।

এ বছর ধামইরহাট উপজেলায় আম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ৬শ ৭৫ হেক্টর বলে জানান তিনি।


এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.risingbd.com

রাজশাহীতে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে এখনও কালবৈশাখী না হলেও খরতাপেই ঝরে পড়ছে কাঁচা আম।

আমচাষিরা বাগানের ঝরে পড়া আম কুড়িয়ে বাজারে বিক্রি করছেন। গরমের তীব্রতায় কাঁচা আমের উপকারিতা ও ওষুধি গুণ থাকায় বাজারে এখন ঝরে পড়া কাঁচা আমের চাহিদা বেড়েছে।

এমনিতেই বাজারে নতুন আসা মৌসুমি ফলের প্রতি ক্রেতাদের বাড়তি আকর্ষণ থাকে। এর ফলে দামও কিছুটা বেশি। অন্য সময় ২০/২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় ঝরে পড়া কাঁচা আম। কিন্তু এখন মানভেদে কেজি প্রতি কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজশাহীর বাজারগুলোতে সাধারণত এপ্রিল মাসের শুরু থেকে কাঁচা আম আসতে শুরু করে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে ঝড় না হওয়ায় এখন সেভাবে আমের সরবরাহ নেই। ঝড় হলে প্রচুর পরিমাণে আম বাজারে আসবে। তখন দাম আগের মতোই হয়ে যাবে।

রাজশাহী মহানগরের শালবাগান বাজারে কাঁচা আম নিয়ে আসা হাসান আলী বাংলানিউজকে জানান, বাজারে যে জিনিসই নতুন আসুক তার প্রতি ক্রেতাদের চাহিদা একটু বেশি থাকে। কাঁচা আমের প্রতি এখন ক্রেতাদের বেশ চাহিদা রয়েছে। আর গরমের তীব্রতায় অনেকেই ইফতারে কাঁচা আমে জুস পছন্দ করেন। অনেকে আবার ডালের সাথে আম দিয়ে টক করে রান্না করেন। তাই সরবরাহের তুলনায় চাহিদা একটু বেশি। ঝড় হলে কাঁচা আমের সরবরাহ দ্বিগুণ হবে।

মহানগরের সাহেব বাজার মাস্টারপাড়া এলাকার আম বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে বাজারে কাঁচা আমের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বড় সাইজের আমগুলো ৫০ টাকা কেজি এবং ছোট আমগুলো ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে জুসের জন্য কাঁচা ফজলি আমের চাহিদাই বেশি। কারণ ফজলি আম কাঁচা অবস্থাতেও অনেক মিষ্টি। টক-মিষ্টি স্বাদের এই কাঁচা আমের জুস রাজশাহীর মানুষের অনেক বেশি প্রিয়। এছাড়া ল্যাংড়া, আশ্বিনা, আঁটি, গোপালভোগসহ অন্যান্য জাতের কাঁচা আমও ঝরে পড়ছে। বাজারে বিক্রিও হচ্ছে।

কাঁচা আমে জুসের গুণ
প্রচণ্ড গরমে কাঁচা আম এবং এর জুস দুটোই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’, ক্যালশিয়াম ও আয়রন। কাঁচা আম ম্যাগনেসিয়ামেরও ভালো উৎস, যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। কাঁচা আম হজম এবং ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। গরমে কাঁচা আমের এক গ্লাস জুস সারা শরীরে এনে দিতে পারে প্রশান্তি। কাঁচা আমের জুস শরীরের জন্য ভালো। কাঁচা আম বা আমের রসে পটাশিয়াম থাকায় প্রচণ্ড গরমে তা শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে। গরমে অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও লৌহ বের হয়ে যায়। কাঁচা আমের জুস শরীরের এই ঘাটতি দূর করে। যারা ওজন কমাতে বা শরীরের বাড়তি ক্যালরি খরচ করতে চান, তাদের জন্য এখন আদর্শ ফল কাঁচা আম।

গরমে পেটের গোলমাল? এক গ্লাস আমের জুস দারুণ কাজে লাগতে পারে। খাদ্য হজমে সহায়তা করে কাঁচা আম। অন্ত্রকে পরিষ্কার করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয় কাঁচা আম।

কাঁচা আমে আছে প্রচুর শক্তি। সারাদিন রোজা থাকার পর ইফতারে কাঁচা আম খেলে বা আমের জুস পান করলে ঝিমুনি ও শরীরের সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়। এছাড়া কাঁচা আমের জুস হৃৎযন্ত্রের জন্য ভালো। কাঁচা আমকে হৃৎযন্ত্রবান্ধব বলা যেতে পারে। এতে আছে নিয়াসিন নামের বিশেষ উপাদান। এটি হৃৎরোগের ঝুঁকি কমায় এবং বাজে কোলস্টেরল স্তরকে কমাতে সাহায্য করে।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.banglanews24.com

Page 1 of 50