গড়

User Rating:  / 0
PoorBest 

ভোলাহাট উপজেলার পশ্চিম সীমান্ত এবং শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের স্থল বন্দরের পশ্চিম উঁচু যে বাঁধ দেখা যায়, স্থানীয় অধিবাসিরা একে গড় বলে। মূলতঃ প্রাচীন যুগের গৌড় বঙ্গের রাজধানী ঐতিহাসিক

ভোলাহাট উপজেলার পশ্চিম সীমান্ত এবং শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের স্থল বন্দরের পশ্চিম উঁচু যে বাঁধ দেখা যায়, স্থানীয় অধিবাসিরা একে গড় বলে। মূলতঃ প্রাচীন যুগের গৌড় বঙ্গের রাজধানী ঐতিহাসিক

গৌড় নগরীকে গঙ্গা জল প্লাবন ও বহিশক্রর আক্রমন হতে রক্ষার জন্য রাজা বাদশাগণ প্রায় ১০০ ফুট প্রস্থ ও প্রায় ৩০ফুট  ঐতিহ্য বহন করে! বিষয়টি নামকরন ও কালের প্রেক্ষাপটে গবেষনার বিষয় হয়ে দাঁরিয়েছে। এ গড় কখন, কিভাবে, কে নির্মান করেন, ইতিহাস তার সুস্পষ্ট দিক নির্দেশ কওে যায়নি। তমসাচ্ছন্ন বা অস্বচ্ছতা থেকেই গেছে খানিকটা।

                পন্ডিত রজনীকান্ত চক্রবর্তী, এম. আবিদ আলী খান প্রমূখ পন্ডিত ব্যক্তিগণ গড় নির্মান করা হয়েছে হিন্দু আমলে বলে  দাবী করেছেন। আবিদ আলী খান সাহেবের মতে “কোন  সন্দেহ নেই যে, শহরটি (গৌড়) রক্ষা করার জন্য এসব বাঁধ নির্মাণের প্রথম প্রচেষ্টা হিন্দু রাজগণই করেন। কিন্তু মুসলিম শাসকগণ পরবর্তীকালে এগুলোর উন্নতি সাধন ও অধিকতন মজবুত করে তোলেন।”

                ঐতিহাসিক গৌড় নগরী রক্ষা বাঁধ ও বিল ভাবিয়া সম্পর্কে রজনী বাবু উল্লেখ করেছেন “ঐতিহাসিক গৌড় নগরীর চারিদিক উঁচু বাঁধ ও পরিখা দ্বারা বেষ্টিত ছিল।

                তাঁর মতে, ভাগিরাথী তীরস্থ সোনাতলা হতে মহানন্দা নদী তীরস্থ ভোলাহাট পর্যৗল্প একটি অধিচক্রাকার বাঁধ দেখা যায়। এটি নগরীকে জল প্লাবন হতে রক্ষা করতো। পূর্ব দিকের একটি বাঁধ উত্তর হতে রহনপুর পর্যন্ত কুড়ি মাইল দীর্ঘ ছিল।

                প্রসংগত উল্লেখ্য, বিল ভাতিয়ার দক্ষিন দিকে একটি সুউচ্চ বাঁধ বা গড় শিবগঞ্জ উপজেলার শিয়ালমারা, কামালপুর, কশিয়াবাড়ী বাটা হয়ে গোমস্তপুর উপজেলার সাহাপুর গড় হতে বোয়ালিয়া ইউনিয়নের মহানন্দা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। উল্লিখিত বাঁধ বা গড়গুলি বিভিন্ন স্থান এখনো বিদ্যমান, যা চোখে পড়ার মত পূরাকীর্তি।

                উপর্যুপরি বন্যার ছোবল ও বহিশত্রুর হাতে হতে গৌড় নগরীকে রক্ষার্থে নিরাপত্তা বেষ্টনী বা নির্মিত হয়েছিল ১২২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

                কার শাসনামলে গৌড় নগর রক্ষা বাঁধ নির্মান হয়েছিল এ নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে। যদি ১২২৭ খ্রিঃ বাঁধ নির্মিত হয়ে থাকে, তবে ঐ সময়ের মধ্যে নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ গৌড় অধিশ্বর ছিলন। আবিদ আলী খানের বর্ণননুযায়ী দিল্লীর রাজা ইলতুত মিশের ২য় পুত্র নাসিরুদ্দিন মাহ্মুদ শাহ কর্তৃক গৌড় এর২য় পুত্র নাসিরুদ্দিনকে বিদ্রোহ দমনে প্রেরন করেন। গিয়াসউদ্দিন গৌড়ের প্রাচীরের পার্শে¦ই ১২২৭ খ্রিঃ পরাজিত ও নিহিত হন।

                এ তথ্য সূত্র হতে  দেখা যায় গৌড় নগর রক্ষা বাঁধাটি গৌড়ধিশ্বও গিয়াসউদ্দিন খলজি কর্তৃক নির্মিত। এ গড় ও মূল রাজধানীর নগরী ভারত সীমানার মধ্যে এর কিয়দাংশ বাংলাদেশ অভ্যন্তরে পড়েছে।

                ঐতিহাসিক গৌড় নগরী যে ঘন ঘন বন্যার প্লাবনে ক্ষয়ক্ষতির সুম্মুখিত হতো এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ দিয়েছেন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আবদুল কারিম। তাঁর মতে সুলতান রুকন-উদ-দীন বারবক শাহ্ (১৪৫৯-১৪৭৫ খ্রিঃ) বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠত ছিলেন। ঐ সময় সুলতান রাজধানীকে বন্যার করাল গ্রাস হতে রক্ষা কাজে ব্য¯ত ছিলেন। তিনি রাজ্যেও সকল প্রকৌঅশলীকে নিযুক্ত করেও এ সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি একটি বাঁধা তৈরী করবেন এবং রাজধানীর সকলকে বাঁধা তৈরির কাজে সাহায্য করার আদেশ দেন। এতে তিনি নিজেও এক ঝুড়ি মাটি ফেলে বাঁধা তৈরি কাজে উদ্বোধন ও নেতৃত্ব দেন। পরে শাহ ইসমাইল গাজী নামক এক পন্ডিত ব্যক্তি, বুদ্ধিমান লোকদের সাথে পরামর্শ করে সুলতানকে “ছুটিয়া পুটিয়া” জলার ওপর একটি পুল নির্মাণের পরামর্শ দেন। শাহ্ ইসমাইল গাজীর পরামর্শে সুলতান ইস্ফিত ফল লাভ করেন। এ তথ্য মতে মনে হয় ১২২৭ খ্রি . নির্মিত বাঁধাটি বিধ্বস্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

                ছুটিয়া পুটিয়া কথা আইন-ই-আকবরীর দ্বিতীয় খন্ডেও আছে। এ জলার ফলে গৌড়ের আবহাওয়া দূষিত হয়। রিয়াজ-উস-সলাতীন প্রণের গোলাম হোসেন সলীমবলেন, নগরের  (গৌড়ের) পূর্ব দিকে ঝাটিয়া ভাটিয়া ও অন্যান্য হ্রদ আছে। সেকালের বাঁধ এখনো আছে কিন্তু পূূর্বে যখন নগরের অবস্থা উন্নত ছিলতখন বর্ষাকালে বন্যার পানি যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বাঁধ আরো শক্ত ছিল। এ মৃৎ প্রাচীর বা গড় বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found